kalerkantho


প্যারিস ‘জ্বলবে’ আজ

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্যারিস ‘জ্বলবে’ আজ

সময় কিভাবে বদলে যায়। ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে প্যারিসের স্তাদে দ্য ফ্রান্সে জয়ধ্বনি উঠেছিল জিনেদিন জিদানকে নিয়ে। তাঁর জোড়া গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফ্রান্স। সেই প্যারিসেই আজ জিদান ফিরছেন এই শহরের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে। এবার পার্ক দ্যু প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়নস লিগ নক আউট রাউন্ডের দ্বিতীয় লেগে পিএসজির প্রতিপক্ষ জিদানেরই দল রিয়াল মাদ্রিদ, যেখানে প্রিয় জিজুর হারের কামনা করবে পুরো ফ্রান্স! ম্যাচটি জিততে টুইটার অ্যাকাউন্টে দর্শকদের ১২ নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পিএসজির বার্তা, ‘একসঙ্গে আমরা পারব’। সমর্থকদের উদ্দীপ্ত করতে পিএসজির নতুন স্লোগান, ‘প্যারিস জ্বলবে’। নেইমারকে ছাড়া খেলতে নেমে এখন ম্যাচে এদিনসন কাভানিরা জ্বললেই হয়। এ ছাড়া আজ লিভারপুল অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি হবে পোর্তোর। প্রথম লেগে পোর্তোর মাঠে ৫-০ গোলের জয়ে নক আউটে এক পা দিয়েই রেখেছে অলরডেরা।

পার্ক দ্যু প্রিন্সেসে গত চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলের মালা পরিয়েছিল ফরাসি ক্লাবটি। আজ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এর অর্ধেক গোল হলেও চলবে। চ্যাম্পিয়নস লিগ নক আউট রাউন্ডের প্রথম লেগে ‘মাদ্রিদের অভিজাত’রা জিতেছে ৩-১ গোলে। কিন্তু প্যারিসের ‘রাজপুত্র’ নেইমার না থাকায় কমেছে আত্মবিশ্বাসটা। সেই সঙ্গে অনিশ্চিত বিস্ময়বালক কিলিয়ান এমবাপ্পেও। দুরন্ত ছন্দে থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দলের বিপক্ষে অঙ্ক মেলাতে পারবে তো পিএসজি? প্রেরণা আছে তাদেরও। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের উয়েফা কাপ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজি ৩-১ গোলে হেরেছিল রিয়ালের মাঠে। ফিরতি লেগে ৪-১ গোলে জিতে প্যারিসকে উৎসবে ভাসিয়েছিল পিএসজি। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমের কাপ উইনার্স কাপ কোয়ার্টার ফাইনালেও রিয়ালকে বিদায় করেছিল তারা। তাহলে আজ নয় কেন?

লিগ ওয়ানে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শিরোপার সুবাস পাচ্ছে পিএসজি। আর লা লিগার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে রিয়াল। তাই ড্রতে দুই দল একে অন্যের বিপক্ষে থাকায় অনেকে এগিয়ে রেখেছিলেন ফরাসিদেরই। কিন্তু রিয়াল যে ১২ বারের চ্যাম্পিয়নস লিগ চ্যাম্পিয়ন। নিজেদের সেরাটা এই টুর্নামেন্টের জন্য হয়তো তুলে রেখেছে জিনেদিন জিদানের দল। প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল ৩-১ গোলে। ফিরতি লেগে রিয়াল আরো আশাবাদী হতে পারে উনাই এমেরির সঙ্গে রেকর্ডের কথা ভেবে। সব মিলিয়ে রিয়ালের বিপক্ষে ২১ বারের দেখায় ১৫ ম্যাচে হেরেছে এমেরির দল। জয় পাঁচটি আর ড্র এক ম্যাচে।

গত মৌসুমে বার্সার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জয়ের পর ন্যু ক্যাম্পে ৬-১ গোলে হারটা এখনো ঠিকভাবে হজম করতে পারেনি পিএসজি সমর্থকরা। আজ ফিরতি লেগ জিততে না পারলে নিশ্চিতভাবে বিদায়ঘণ্টা বাজবে এমেরির। সেই হারটা পোড়ালেও অনুপ্রেরণাও হতে পারে আজ। তাই এদিনসন কাভানি, দি মারিয়াদের নিয়ে ব্যর্থতা পেছনে ফেলার প্রত্যয় এমেরির, ‘নেইমারের না থাকাটা বাস্তবতা। কিন্তু কাভানি, দি মারিয়ারাও জেতাতে পারে যেকোনো ম্যাচ। জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না আমরা।’

চোট সমস্যা আছে রিয়ালেরও। লুকা মডরিচ ও টনি ক্রুস দুজনেই বাইরে চোটের জন্য। দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দিলেও ম্যাচ ফিটনেস না থাকায় জিদান আজ তাঁদের খেলানো নিয়ে দ্বিধায়। তবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ফর্মে আশাবাদী হতেই পারে মাদ্রিদ সমর্থকরা। গত আট ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন পর্তুগিজ যুবরাজ। লা লিগায় দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ গোল আবার গ্যারেথ বেলের। গেতাফের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে গোলের তালাটা প্রথম খুলেছিলেন তিনিই। রোনালদো, বেনজিমার সঙ্গে সেরা একাদশে বেলকে দেখার সম্ভাবনা তাই প্রবল। আর সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে কাসেমিরো তো থাকছেনই। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর চ্যাম্পিয়নস লিগ নক আউট ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পাননি এই ব্রাজিলিয়ান। আজকের মহারণেও কাসেমিরোর ছোঁয়ায় রেকর্ডটা ধরে রাখতে মুখিয়ে রিয়াল। মার্কা


মন্তব্য