kalerkantho


এশিয়া কাপের হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এশিয়া কাপের হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা

হকি দল আজ ওমান যাচ্ছে : ওমানে ৮ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে আগামী জাকার্তা এশিয়ান গেমসের জন্য হকির বাছাই পর্ব। বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ওমান ছাড়াও অন্য ছয় দল হংকং, থাইল্যান্ড, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চায়নিজ তাইপে ও কাজাখস্তান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দল বাজে খেললেও ফেডারেশন কর্মকর্তারা সাধারণত তা প্রকাশ করতে চান না। তাতে নিজেদের ব্যর্থতাও ফুটে ওঠে হয়তো বা। ক্রীড়াঙ্গনে এমনটাই চলে আসছে। কিন্তু কাল হকি দলের এশিয়ান গেমস বাছাইয়ে খেলতে যাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উল্টোটা দেখা গেল। ফেডারেশন কর্মকর্তারাই বরং গত এশিয়া কাপের বাজে পারফরম্যান্স তুলে ধরে খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে দিলেন এবার সবাইকে সন্তুষ্ট করার।

ফেডারেশন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার যেমন বলেছেন, ‘হকি এখন বিশেষ একটা সময় পার করছে। গত এশিয়া কাপে আমরা অতটা ভালো করতে পারিনি। যদিও শক্তিশালী চীনকে হারিয়ে ষষ্ঠ হয়েছি, তাতে র‍্যাংকিংয়েও উন্নতি হয়েছে। তবু এই টুর্নামেন্টে আমাদের সুযোগ একটা সফল দল হিসেবে নিজেদের ইমেজটা সারা বিশ্বে আবার ছড়িয়ে দেওয়ার।’ ওমানে ৮ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে আগামী জাকার্তা এশিয়ান গেমসের জন্য হকির বাছাই পর্ব। বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ওমান ছাড়াও অন্য ছয় দল হংকং, থাইল্যান্ড, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চায়নিজ তাইপে ও কাজাখস্তান। গত এশিয়ান গেমসে এই বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার র‍্যাংকিংয়েও অন্য সাত দলের চেয়ে রাসেল মাহমুদরা এগিয়ে। তাতে শিরোপা জয় ছাড়া বিকল্প ভাবনাও নেই খেলোয়াড়দের। গত এশিয়া কাপে ষষ্ঠ হওয়াটা বাংলাদেশের ভালো অর্জন হলেও দেশের মাটিতে প্রত্যাশাটা ছিল আরো বেশি। এবারের বাছাই টুর্নামেন্ট দিয়ে মাহবুব হারুনের দল নতুন বার্তা দেবে—এমন প্রত্যাশা ফেডারেশনের সহসভাপতি মাহফুজুর রহমানেরও। কাল বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে সংবাদ সম্মেলনের আগে দলের জার্সি উন্মোচন ও পৃষ্ঠপোষকের কাছ থেকে চেক গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা ছিল, সে সময় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা ভালো খেললেই পৃষ্ঠপোষকদের কাছে বড় দাবি নিয়ে যেতে পারি আমরাও। তারাও খুশিমনে তা গ্রহণ করে। ফল ভালো না হলে সবার জন্যই এটা কষ্টের।’ এই সফরে পৃষ্ঠপোষণা করা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মোহাম্মদ আলী ঠিক সেভাবে খেলোয়াড়দের ওপর চাপটা তুলে দেননি, তিনি বলেছেন প্রত্যাশার কথা, ‘জাতীয় দল যখন বিদেশে খেলতে যায় তখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো আমিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি একটা ভালো খবর শোনার জন্য। গতবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। আশা করি এবারও হব।’

দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদেরও বিশ্বাস নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বাংলাদেশই শিরোপা নিয়ে ফিরবে, ‘গতবারের চ্যাম্পিয়ন আমরা, এশিয়া কাপেও ৬ নম্বর ছিলাম। সেই হিসাবে আমাদের দায়িত্বই এ আসর থেকে শিরোপা জিতে ফেরা। আমি মনে করি এই দলটার সেই সামর্থ্যও আছে।’ এশিয়া কাপে সপ্তম হয়েছিল ওমান, তবে সে আসরে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়া হয়নি তাদের। বাছাই টুর্নামেন্টে নিজেদের মাঠে সেই ওমানকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধরা হচ্ছে লাল-সবুজের জন্য। তবে ওমান প্রসঙ্গেই রাসেলের কণ্ঠে আস্থা স্পষ্ট, ‘গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে ওমানের বিপক্ষে আমাদের পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু এর আগে ওদের কিন্তু আমরা বড় ব্যবধানেই হারাতাম। নিজেদের সেই সামর্থ্যটাই এই আসরে আমাদের প্রমাণ দিতে হবে।’ রাসেলের নিজের কাছে এই আসর বাড়তি আবেগের। কিছুদিন আগেই বাবাকে হারিয়েছেন যে, ‘দেশের বাইরে খেলতে যাওয়ার আগে সব সময় বাবার দোয়া নিয়ে গেছি। এবার বাবা নেই। এভাবে দেশ ছাড়তে কষ্ট হবে জানি, তবে কথা দিচ্ছি শত কষ্ট হলেও দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলব। যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি শিরোপাটা তাঁকেই উৎসর্গ করব। আমার সতীর্থরাও হয়তো এমনটাই ভেবে রেখেছে।’ আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া যে শুধু রাসেলের বাবাই নন, এ দেশের হকিরই একজন কিংবদন্তি। তাঁর মৃত্যুতে যে বেদনা ভর করেছে, জাতীয় দলের সাফল্যে হয়তো তা কিছুটা হালকা হবে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক বলেছেন দল ভালো করার প্রস্তুতিতে সম্ভাব্য যা করার সবই করা হয়েছে, শিরোপার আশায় তিনিও, তবে খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাসী হতে বারণ তাঁর, ‘এই টুর্নামেন্টে র‍্যাংকিংয়ে আমরা এগিয়ে, কিন্তু অন্যরাও তৈরি হয়েই আসছে। তাদের সমীহ করে নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।’ তিনি পৃষ্ঠপোষণার জন্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ধন্যবাদ দিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকেও। দীর্ঘদিন পর হকি দিয়েই ক্রীড়াঙ্গনে আবার পৃষ্ঠপোষণায় ফিরেছে তারা।



মন্তব্য