kalerkantho



আগের চেয়ে উজ্জ্বল আবাহনী

সনৎ বাবলা   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আগের চেয়ে উজ্জ্বল আবাহনী

আগের সহজ সুযোগগুলো পায়ে ঠেলে আবাহনীর হঠাৎ আন্তর্জাতিক দল হয়ে ওঠার রঙিন আকাঙ্ক্ষা জেগেছে। তাদের ঐচ্ছিক ভাবনার পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে এএফসির টুর্নামেন্ট পাচ্ছে আবশ্যিক বিষয়ের মর্যাদা। দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি এবার খুব করে চাইছে এএফসি কাপে আঁচড় কাটতে।

গতবার থেকে শুরু হয়েছে তাদের এএফসি কাপের মিশন। সে মোটেও সুবিধার ছিল না। তার আগে নিয়মিত খেলত এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপের বাছাই পর্ব এবং নিয়মিত হাবুডুবু খেয়েছে। একটুও গৌরবের রং ছড়াতে পারেনি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে। পাঁচবার বাছাই পর্ব খেলেও মূল টুর্নামেন্টের চাবি খুঁজে পায়নি। তার চারটিতে খেলেছেন ওয়ালি ফয়সাল, সেই অভিজ্ঞতা থেকে এই ডিফেন্ডার বলছেন, ‘তখন এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ক্লাব খুব সিরিয়াস ছিল না। ঘরোয়া লিগ শেষ হওয়ার পর বিদেশে গিয়ে একটু খেলে আসি, এটুকুই। মনে হচ্ছে, গতবারের এএফসি কাপ থেকেই ক্লাব এবং খেলোয়াড়দের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। সত্যি বলতে কী, এবার ক্লাব এবং খেলোয়াড়রা খুব করে চাইছে ভালো রেজাল্ট করতে।’ আবাহনীর এএফসি কাপ শুরু হচ্ছে কাল মালদ্বীপের রেডিয়েন্ট এফসির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

প্রতিপক্ষে আলী আশফাক নামের ক্লাসিক্যাল ফুটবলার আছে। আছে তিন স্প্যানিশ খেলোয়াড়। প্রতিপক্ষকে সমীহ করার অনেক জায়গা থাকলেও আবাহনী খেলোয়াড়দের বুকে দুরুদুরু ভাবটা নেই। মিডফিল্ডার প্রাণতোষ মনের আর্গল খুলে অনেক সাহসের কথা বলে গেলেন, ‘আবাহনীর প্রত্যেকটি প্রেসিডেন্টস কাপ ও গতবারের এএফসি কাপের দলে আমি ছিলাম। সেসব দলের খেলা ও মানসিকতার সঙ্গে এই দলের অনেক পার্থক্য। এএফসি কাপে চার বিদেশি খেলানোর সুযোগ থাকলেও গতবার আমরা ঠিকঠাক নিতে পারিনি। কিন্তু এবার কোনো ঘাটতি নেই। আগের সঙ্গে তুলনা করলে এই আবাহনী অনেক শক্তিশালী।’ একজন এশিয়ান কোটার খেলোয়াড়ের সুযোগটা নিতে না পারায় গতবার তারা খেলেছে তিন বিদেশি নিয়ে। এর মধ্যে ভিসা জটিলতায় দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচে দলের সঙ্গী হতে পারেননি ঘানাইয়ান সামাদ ইউসিফ। এবার এশিয়ান কোটায় আগেভাগেই নিয়ে রেখেছে সেইয়া কোজিমাকে। আছে দুই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে ও এমেকা এবং নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার অ্যালিসন উদোকা। দলের নতুন কোচ সাইফুল বারীর চোখেও এগিয়ে এই আবাহনী, ‘গতবারের দলটা তেমন প্রস্তুত ছিল না, এএফসি কাপের আগেই পাঁচজন দল ছেড়ে গিয়েছিল। এবার একরকম পুরনো দলই যারা পেছন থেকে এসে লিগ শিরোপা জিতেছে, এটা বড় আত্মবিশ্বাসের জায়গা খেলোয়াড়দের জন্য। বিদেশি এবং প্রস্তুতিতেও ঘাটতি নেই। সুতরাং আগের তুলনায় এই দল অনেক ব্যালান্সড।’

সত্যি বললে, আগে এএফসির টুর্নামেন্টে আবাহনী ব্যালান্সড দলই হতে চায়নি। আগে তো নিজের শক্তিতে বলীয়ান, তারপর প্রতিপক্ষের শক্তির বিচার। আবাহনীর ওরকম দাপুটে উপস্থিতি ছিল ১৯৮৬ সালে এশিয়ান ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেটা তাদের প্রথম এএফসি টুর্নামেন্ট, দেশের ফুটবলেও তখন সৃষ্টি-সুখের উল্লাস। সেবার মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়া ক্লাবকে ৮-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আবাহনী, পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা-নেপালের দলও দাঁড়াতে পারেনি। শুধু ইস্টবেঙ্গলের কাছে ০-১ গোলে হেরে গিয়ে এশিয়ান ক্লাব কাপের চূড়ান্ত পর্ব খেলা হয়নি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দলটির। ’৯২ সালে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপেও ওই ইস্টবেঙ্গলের কাঁটায় আটকে যায় প্রথম রাউন্ডে। ’৯৮-তে অবশ্য শ্রীলঙ্কার দলকে প্রথম রাউন্ডের দুই লেগে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়ে হার মানে চীনা ক্লাবের কাছে। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে আবাহনী শামিল হয় এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপের মিশনে। তত দিনে কৃষ্ণপক্ষ শুরু হয়েছে দেশের ফুটবলে। শুক্লপক্ষ এখনো ফেরেনি। এর পরও আপাত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে আবাহনীকে।



মন্তব্য