kalerkantho



ঘুম আর ভাঙল না আসতোরির

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঘুম আর ভাঙল না আসতোরির

ঘুমিয়েছিলেন তিনি। কে জানত সেই ঘুম ভাঙবে না আর। উদিনেসের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে উদিনের লা দি মোরেত হোটেলে উঠেছিলেন ফিওরেন্তিনার ফুটবলাররা। রাতে ডিনার শেষে নিজের রুমে ঘুমিয়েছিলেন অধিনায়ক দাভিদে আসতোরি। সকালে সতীর্থরা ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। মোবাইলে ফোন দেওয়ার পরও উত্তর নেই। এরপর সতীর্থরা দরজা ভেঙে দেখেন বিছানায় নিথর পড়ে আছেন তাঁদের প্রিয় অধিনায়ক। ৩১ বছর বয়সে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

ফিওরেন্তিনা অধিনায়কের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে ইতালিয়ান ফুটবলে। গতকাল সিরি ‘এ’র প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল জেনোয়া ও ক্যালিয়ারির। দুই দলের খেলোয়াড়রা অনুশীলনও করছিলেন মাঠে। ভরে গিয়েছিল গ্যালারি। তখনই বড় স্ক্রিনে আসতোরির ছবি দিয়ে জানানো হয় তাঁর অকালমৃত্যুর খবর। মুষড়ে পড়েন খেলোয়াড়, দর্শক সবাই। কান্না চেপে রাখতে পারেননি অনেকে। ইতালিয়ান জাতীয় দলের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলা এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের ঘুমের ঘোরে মৃত্যুতে বাতিল হয় জেনোয়া-ক্যালিয়ারি ম্যাচটি। এরপর বাতিল করা হয় গতকালের সিরি ‘এ’র সব ম্যাচ। এর অন্যতম উদিনেসের বিপক্ষে আসতোরির দল ফিওরেন্তিনার ম্যাচটিও।

কী হয়েছিল আসতোরির? হার্ট অ্যাটাক নাকি অন্য কিছু। এ নিয়ে মিডিয়ায় নানা জল্পনা হওয়ার মাঝে ফিওরেন্টিনা বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘ফিওরেন্টিনা প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছে আর ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছে, আমাদের অধিনায়ক আসতোরি আর নেই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়াতেই এই মৃত্যু। এমন ভয়ংকর সময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি।’

২০০১ সালে এসি মিলানের একাডেমিতে যোগ দেন আসতোরি। এই একাডেমিতে পাঁচ বছর কাটিয়ে পরিণত হয়ে ওঠেন ধীরে ধীরে। তবে মিলানের সিনিয়র ক্লাবের হয়ে খেলা হয়নি সিরি ‘এ’তে। ২০০৮ সালে যোগ দেন ক্যালিয়ারিতে। এখানে ছয় মৌসুম কাটিয়ে রক্ষণের এই কাণ্ডারি ২০১৪-১৫ মৌসুমে ধারে যোগ দেন এএস রোমায়। জাতীয় দলেও অভিষেক ২০১৪ সালে। ইউক্রেনের বিপক্ষে সেই প্রীতি ম্যাচটিতে অবশ্য লাল কার্ড দেখেছিলেন আসতোরি।

ক্যালিয়ারিতে ফেরার পর আবারও ধারে নাম লেখান ফিওরেন্টিনায়। এরপর ২০১৬ সালে পাকাপাকিভাবে তাঁকে কিনে নেয় এই দল। নিজেকে প্রমাণ করে পান ক্লাবের নেতৃত্বও। তাঁর এভাবে চলে যাওয়াটা মানতে পারছেন না ফিওরেন্টিনা সমর্থকসহ কেউই। ইতালিয়ান সিরি ‘এ’র ২০ ক্লাবের সবাই জানিয়েছে শোকবার্তা। জুভেন্টাস এই মৃত্যুকে উল্লেখ করেছে ইতালিয়ান ফুটবলের ট্র্যাজেডি হিসেবে। তাঁর বেড়ে ওঠার ক্লাব এসি মিলানের শোক, ‘ও ফুটবল ভালোবাসত আর ফুটবলার হয়েছে আমাদের এখানে। ওর মৃত্যুতে স্তম্ভিত আমরা।’ স্তম্ভিত তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবী ফ্রান্সেসকা ফিওরেত্তি আর দুই বছরের মেয়েও। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা জানা নেই কারো। গোল ডটকম



মন্তব্য