kalerkantho


কলম্বোর পথে বাংলাদেশ

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কলম্বোর পথে বাংলাদেশ

খেলাটা টি-টোয়েন্টি, যে ফরম্যাটের মূল সুর ধরাতেই এখনো হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। নিদাহাস কাপের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও হেভিওয়েট—স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ও ভারত।  উপরন্তু সবশেষ ঘরের মাঠের হতাশা কাটানোর দায়ও রয়েছে। আজ দেশ ছাড়ার আগে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য আশার কথাই শুনিয়েছেন জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ কোর্টনি ওয়ালশ, সেখানে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিও

 

ব্যর্থতা থেকে উত্তরণের ছক...

আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে। ধারাবাহিকতার মূল মন্ত্র হলো প্রয়োগ করার ক্ষমতা। আমাদের সেটা বারবার ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এই ধারাবাহিকতা অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা...

আমি মনে করি আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। তবে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা আন্ডারডগ, দুই প্রতিপক্ষই শক্তিশালী। শ্রীলঙ্কা সব সময়ই ভয়ংকর দল। ভারতও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কন্ডিশনে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। র‍্যাংকিংয়েও ওরা ওপরে আছে। বলতে পারেন আমরা দুটি শীর্ষস্থানীয় দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য ভালো পরীক্ষা হবে। তার পরও বলব, ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য আমাদের চিন্তায় ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোনো। প্রতিটি ম্যাচেই যেন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলি।

টি-টোয়েন্টির অনভ্যস্ততা...

এই ফরম্যাটে আমরা খুব ভালো করিনি। যত দূর মনে পড়ে, আমরা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জিতেছিলাম গতবারের শ্রীলঙ্কা সফরে, যেটা মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ ছিল। চেষ্টা করব সেই সময়টা ফিরিয়ে আনা এবং ওই ম্যাচের ভালো দিকগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে। তবে আমি জানি ওই মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করা কতটা চ্যালেঞ্জিং। নির্দিষ্ট দিনে যে দল ভালো খেলবে, খেলতে চাইবে এবং প্রয়োগ করায় এগিয়ে থাকবে, জিতবে তারাই।

সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি...

সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সাকিবের এখনো চিকিৎসা চলছে। ওকে ছাড়া আমরা গেম প্ল্যান করেছি। তবে এই মুহূর্তে সেসব বলতে চাই না। সাকিবের অনুপস্থিতিতে আমাদের কাজগুলো একটু অন্যভাবেই করতে হবে। ওর মতো খেলোয়াড়ের অভাব তো আর সহজে পূরণীয় নয়। ও তো সব কিছু করে—ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এবং অধিনায়কত্বও। এসব কারণেই সাকিবের জন্য এতটা সময় আমরা অপেক্ষা করেছি। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, ওকে নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমাদের ফোকাস সরে যাচ্ছে। ওর মতো খেলোয়াড়কে পেতে যতটা সম্ভব অপেক্ষা করা যায়। আপনার দলে যদি সাকিবের মানের ক্রিকেটার থাকে, তাহলে তাকে ফিট করে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা আপনার দিতেই হবে।

পেস বোলিংয়ের অবস্থা...

পেসারদের নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। এবারের ক্যাম্পটা হয়েছে ওদের কেন্দ্র করে। এখন ওদের সেসব মাঠের বাইশ গজে প্রয়োগ করতে হবে। বেশ কয়েকজন দলে ফিরেছে। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে আমরা রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের ওপর নির্ভর করব। এদের সঙ্গে (আবু হায়দার) রনি ও (আবু জায়েদ) রাহীও আছে। আশা করি মাঠে ওরা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারবে। এই টুর্নামেন্ট খেলে ওদের সবারই অভিজ্ঞতা বাড়বে। মনে হয় না কোনো সমস্যা হবে।

বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্প...

দুই দিন আগেই ক্যাম্পটা শেষ হয়েছে। গত দুদিন ধরে যারা দলে আছে, তাদের নিয়ে ম্যাচ সিনারিও প্র্যাকটিস হয়েছে, যেন প্রত্যেকে ম্যাচে নিজেদের ভূমিকাটা বুঝতে পারে। ক্যাম্পের শুরুতে নেট সেশন হয়েছে। সব মিলিয়ে চেষ্টা করেছি যেন ম্যাচ পরিস্থিতির দাবির সঙ্গে সবাই মানিয়ে নিতে পারে।


মন্তব্য