kalerkantho



ওয়ালশ অনুপ্রেরণার আধারও!

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ওয়ালশ অনুপ্রেরণার আধারও!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ দলের সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় ওয়ানডে। পার্লে। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড। বাংলাদেশের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্বে তখন আরেক অন্যতম সেরা কোর্টনি ওয়ালশ। তাঁর শিষ্যরা তেমন ভালো করতে পারছেন না বলে ওই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির দিকে ছুটছে সমালোচনার তীর। তা শুনে কী ভীষণ অবাক ডোনাল্ড, ‘ওর কাছ থেকে তোমাদের বোলাররা যদি কিছু শিখতে না পারে, তাহলে দোষটা কোর্টনির নয়—বাংলাদেশের বোলারদের।’

সময়ের পরিক্রমায় মাত্র মাস কয়েকের ব্যবধানে সেই ওয়ালশ এখন বাংলাদেশ দলের মূল কোচ। হোক না সেটি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব, শুধু শ্রীলঙ্কা সফরের ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য। পার্লে ওই ওয়ানডের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট যে অবস্থায় ছিল, এখন আরো বেশি হতাশার পাকচক্রে। তবু ডোনাল্ডের বলা সেই কথার নির্যাসটুকু মিথ্যা হয়ে যায়নি—প্রধান কোচ হিসেবে ওয়ালশ ব্যর্থ হলে সে ব্যর্থতা আসলে ক্রিকেটারদেরই।

তিনি চন্দিকা হাতুরাসিংহের মতো তুখোড় পরিকল্পনাবিদ নন। আরেক সাবেক কোচ জেমি সিডন্স যেমন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেকনিকের খুঁটিনাটি ঠিক করে দিয়েছিলেন, বোলারদের নিয়েও তেমন কিছু করে দেখাননি। কড়া হেডমাস্টার নন তিনি, আবার একেবারে সমবয়সী বন্ধুসুলভও নন। ওয়ালশ বরং বরাবরই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্দরমহলের অভিভাবক। ১৩২ ম্যাচে ৫১৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের সিংহাসনের মালিক ছিলেন যিনি দীর্ঘকাল। ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুতা রয়েছে, তবে তাতে শ্রদ্ধার মিশেল অনেক বেশি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই টালমাটাল সময়ে এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তির অভিভাবকত্বের শরণই নিচ্ছে তাই বিসিবি।

ওয়ালশের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ। যে চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে থাকার কথা কাল জানালেন লঙ্কা সফরপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত যে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়ার আস্থা বোর্ড আমার ওপর রেখেছে। জাতীয় দলের কোচ হওয়া তো সব কোচেরই স্বপ্ন। জানি যে, এটি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। এখানে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমি মুখিয়ে আছি।’ বাংলাদেশের নতুন শুরু নিয়েও পরিকল্পনা আঁটছেন তিনি, ‘শেষ মুহূর্তে বড্ড তাড়াহুড়ায় সব কিছু হলো। এখন এমন একজনকে পাওয়া গেল, যিনি কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিজের মতামত দিতে পারবেন, সেটি হ্যাঁ হোক কিংবা না। ওই অবস্থানে আমি রয়েছি বলে রোমাঞ্চিত। আমি নিশ্চিত যে বিসিবি, বোর্ড প্রেসিডেন্ট, বোর্ড পরিচালক, সিনিয়র এমনকি জুনিয়র ক্রিকেটার—সবার কাছ থেকে আমি পূর্ণ সমর্থন পাব। এখন সবাই মিলে পরিকল্পনা করে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

হাতুরাসিংহে-পরবর্তী যুগে প্রধান কোচ খুঁজে পেতে গলদঘর্ম হচ্ছে বিসিবি। দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট-টি টোয়েন্টি সিরিজের আগে ক্রিকেটাররা তো নিজেরাই দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানকে। তাতে ফল মেলেনি। সেই ক্রিকেটারদের সামনে আরেক সুযোগ ওয়ালশের ছায়াতলে থেকে নিজেদের প্রমাণের। অবশ্য ফরম্যাট যখন টি-টোয়েন্টি এবং প্রতিপক্ষ যখন ভারত ও ঘরের মাঠের শ্রীলঙ্কা—তখন খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার উপায় কী! ওয়ালশ ক্রিকেটারদের বাড়তি চাপ দিতে নারাজ; তাদের ভেতর দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব জাগিয়ে তোলার চেষ্টার কথাই বরং শোনা গেল, ‘আমরা একটি একটি ম্যাচ ধরে খেলতে চাই। আমি ছেলেদের বলব, মাঠে নেমে স্বাধীনভাবে যেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রকাশ ঘটাতে পারে এবং খেলাটি উপভোগ করতে পারে। আমাদের যে পরিকল্পনা থাকবে, এর সর্বোচ্চ বাস্তবায়নের চেষ্টা ওদের করতে হবে। বাড়তি চাপ নিয়ে খেলতে নামার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের রিল্যাক্স থাকতে হবে এবং যা করছি, সেটি উপভোগ করতে হবে। আমি চাই, ছেলেরা যেন বাংলাদেশের জন্য খেলতে পেরে গর্বিত বোধ করে।’

তবু প্রধান কোচ হিসেবে যাচ্ছেন যখন, কিছু লক্ষ্য তো না থেকে পারে না। সে কথাও কাল বলেছেন ওয়ালশ, ‘আমার লক্ষ্য এই সফরে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জেতা। আমি খুবই আশাবাদী যে, আমরা তা করতে পারব। ফাইনালে উঠতে পারা হবে দারুণ ব্যাপার। তবে এই মুহূর্তে আমরা একটি একটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই।’

লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে একটি একটি ধাপ পেরিয়েই তো যেতে হয়। ওয়ালশের শিষ্যদের তা নিশ্চয়ই অজানা নয়।

 



মন্তব্য