kalerkantho



নতুন ট্রেন্ডের নতুন ব্র্যান্ড বসুন্ধরা কিংস

সনৎ বাবলা   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নতুন ট্রেন্ডের নতুন ব্র্যান্ড বসুন্ধরা কিংস

ফুটবলের সঙ্গটা তারা ভীষণ উপভোগ করে। দুটি বড় ক্লাবের পেছনে জ্বালানি হয়ে থাকার পর এবার প্রিমিয়ারে যোগ হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের নিজেদের দল বসুন্ধরা কিংস। সুবাদে এরই মধ্যে একটা অন্য রকম টান ও অনুভব তৈরি হয়েছে। শুধু নিজের দল নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, সামগ্রিক ফুটবলের কল্যাণকে ব্রত করেই শুরু হচ্ছে তাদের পথচলা। 

‘দেশ ও মানুষের কল্যাণের’ তরে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাদের কল্যাণকর কাজে নতুন সংযোজন হয়েছে দেশের ফুটবল। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের মুখে শোনা গেছে সেই কথাই, ‘এখনকার ফুটবলে মান এবং জনপ্রিয়তা কোনোটিই নেই। আমাদের ম্যানেজমেন্ট চাইছে ফুটবলের এই দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রাখতে। তার জন্য তো একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার, সেটাই হচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। এই ক্লাবের ব্যানারে ফুটবলের উন্নয়নকাজ করতে চায় বসুন্ধরা গ্রুপ।’ এই দলের শুরু একদম শিকড়, অর্থাৎ পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ দিয়েই, এরপর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ জিতে এ বছর প্রিমিয়ারে পদার্পণ। শুরুর মৌসুমে লিগ শিরোপা জিততে হবে, এমন নয়। তবে একটি টুর্নামেন্ট জিতে সাড়া ফেলতে চায়, যেন ক্লাবের পরিচিতিটা বিস্তৃতি লাভ করে। এ জন্যই আনুষ্ঠানিক দলবদলের বেশ আগেই তারা মাঠে, দল গোছাচ্ছে এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছে সরাসরি। অভিজ্ঞতা বড় সুখকর নয়। কারণ ফুটবলারদের পায়ে খেলা না থাকলেও গলায় বেশ হাঁক আছে। লাখ লাখ টাকার হাঁক! হালের ফুটবলের এই সমস্যাটা বসুন্ধরা গ্রুপের এই কর্মকর্তা ভালোই ধরতে পেরেছেন, ‘এটা অস্বীকার করে লাভ নেই, দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন ভালো-মন্দের খুব ফারাক নেই। মান উনিশ-বিশ। তার অর্থ হলো ভালো খেলোয়াড় তৈরির একটা ব্যবস্থাও ক্লাবকেই করতে হবে। তাই প্রিমিয়ার দলই মুখ্য নয়, উদ্দেশ্য এই সিনিয়র দলকে কেন্দ্র করে নিচের দিকে একটা খেলোয়াড় সরবরাহ-সাইকেল তৈরি করা।’

পেশাদার লিগের শুরুর দিকেও বড় দলের সংখ্যা ছিল তিনটি। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে সাতটি, কিন্তু সেরকম তাদের ভালো দল গড়ার চাহিদা পূরণের মতো ফুটবলার নেই ঢাকার মাঠে। মানসম্পন্ন খেলোয়াড় সংকট প্রকট এই মুহূর্তে। এই বাস্তবতা ফুটবল ফেডারেশনও উপলব্ধি করতে পারছে না। পারলে নিশ্চয়ই ঢাকার বাইরে জেলা লিগ সচল করতে আন্তরিক হতো তারা। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোও খেলোয়াড় তৈরির মিশন নিত। বসুন্ধরা কিংস এরই মধ্যে ফুটবলার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ‘আমরা একটা অনূর্ধ্ব-১৮ দল তৈরি করব। এ জন্য ক্লাবের ফেসবুক পেজে ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারদের রেজিস্ট্রেশনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। ৫ মার্চ শেষ সময়, অথচ তার দুদিন আগে চার হাজার ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করেছে দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। এত আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে, আবার এত ছেলেপুলেকে নিয়ে ক্যাম্প কিভাবে করব এ চিন্তা শুরু হয়েছে’—অম্ল-মধুর সমস্যায় পড়েছেন ইমরুল হাসান। রেজিস্ট্রেশন করেছে বেশির ভাগ ঢাকার বাইরে থেকেই। সুতরাং তরুণদের ফুটবলে আগ্রহ ফুরোয়নি, ফুরিয়েছে আয়োজকদের আগ্রহ।

এ ছাড়া তাদের পরিকল্পনা আছে অনূর্ধ্ব-১২ বছরের ফুটবলারদের ট্রেনিং ক্যাম্প করা। রংপুরে আট জেলার খেলোয়াড়দের নিয়ে একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। এখানে রংপুরের বাইরের কেউ খেলতে পারবে না, স্থানীয়রাই শুধু সুযোগ পাবে। এভাবে প্রত্যেক বিভাগে টুর্নামেন্ট করার পরিকল্পনা আছে তাদের। এই ক্লাবের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় আছে ফুটবল একাডেমি ও একটি স্টেডিয়ামসহ কমপ্লেক্স গড়া। ‘বালু নদের ওপারে একটি স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের নকশা করা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। আশা করি আগামী বছর আমরা এটা তৈরির কাজে হাত দেব। সেটা হলেই আমাদের একাডেমিটা পূর্ণাঙ্গ হয়ে যাবে’—একাডেমির পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। 

বছরখানেক আগে থেকে খেলোয়াড় তৈরির কাজ শুরু করেছে সাইফ স্পোর্টিং। এই মিশনে নতুন যোগ হচ্ছে বসুন্ধরা কিংসের নাম। খেয়াল করলে দেখা যায়, দুটি দল দুই করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। ঢাকা মাঠের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় তৈরিতে যখন অনীহা তখন নতুন চিন্তা নিয়ে এগোচ্ছে দুটি করপোরেট দল। এ যেন দেশের ফুটবলে নতুন ট্রেন্ড ও নতুন ব্র্যান্ড। পচা-গলা ফুটবল ব্যবস্থাকে বিদায় দিয়ে তারা আধুনিকতার পতাকা ওড়াতে চাইছে এ দেশের ফুটবলে।

 



মন্তব্য