kalerkantho



অবশেষে হারল আবাহনী

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অবশেষে হারল আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবাহনীও হারতে পারে! ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে যেমন অদম্য গতিতে ছুটছিল তাদের জয়রথ, তাতে অমন বিস্ময় স্বাভাবিক। প্রথম ছয় ম্যাচেই যে জিতেছিল তারা। অবশেষে সপ্তম রাউন্ডে এসে কাল প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পায় আবাহনী। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কাছে হেরে গেছে তারা ৯ রানে।

লিগে আবাহনীর প্রথম হার বলে সেটিই বড় খবর। নইলে শিরোনামে থাকত মোহামেডান-প্রাইম দোলেশ্বরের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি। ওখানে যে জেতেনি কোনো দল; হারেওনি। রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ শেষ হয়েছে টাই-তে। দিনের আরেক খেলায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে সহজেই ৯৫ রানে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব।

এসব ফলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা রেসে প্রাণ ফিরল কিছুটা। ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আবাহনীই। তবে প্রাইম দোলেশ্বর চলে এসেছে তাদের ৩ পয়েন্টের মধ্যে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সুযোগ রয়েছে আজ নিজেদের ম্যাচ জিতে ২ পয়েন্টের ব্যবধানে চলে আসার। এ ছাড়া শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব (৭ খেলায় ৮), মোহামেডানও (৭ খেলায় ৭) এগিয়েছে কিছুটা।

এবারের প্রিমিয়ার লিগের খেলার ধারা অনুযায়ী কাল পচা শামুকেই পা কেটেছে আবাহনীর। নিজেদের প্রথম ছয় খেলাতেই জিতেছে তারা; সেখানে প্রাইম ব্যাংকের প্রথম ছয় ম্যাচে জয় ছিল মাত্র দুটিতে। কাল আগে ব্যাটিং করা এই দলটি গড়ে তোলে মাঝারি সংগ্রহ। শেষ ওভারে অল আউট হওয়ার আগে ২৪৬। আল আমিনের ৮৪ এবং জাকির হোসেনের ৬২ যে ইনিংসের জ্বালানি। লিগে দুর্দান্ত বোলিং ফর্মের ধারাবাহিকতায় কালও চার উইকেট নেন আবাহনীর মাশরাফি বিন মর্তুজা।

প্রতিপক্ষকে আড়াই শর মধ্যে আটকে রেখেও জিততে পারেনি দলটি। সাইফ হাসানের ৭৫ ও নাসির হোসেনের ৬৫ রান সত্ত্বেও। ৯ উইকেটে ২৩৭ রানে আটকে আবাহনী ম্যাচ হেরে যায় ৯ রানে। পেসার শরিফুল ইসলাম চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা।

ঠিক আগের ম্যাচে আবাহনীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে মোহামেডান। কাল প্রাইম দোলেশ্বরের কাছেও তাদের পরাজয়কে মনে হচ্ছিল অবধারিত। শামসুর রহমান (৭৫), রকিবুল হাসান (৭২) ও বিপুল শর্মার (৫৩) তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ২৮৬ রানের বড়সড় স্কোর তোলে মোহামেডান। তা টপকাতে শেষ দুই ওভারে চার উইকেট হাতে নিয়ে মাত্র ১৩ রান যখন প্রয়োজন দোলেশ্বরের—তখন পাল্লাটা ভারী ওই পক্ষেই। লিটন দাশের ১২৯ রানেই ম্যাচের গতিপথ আঁকা হয়েছিল বলে মনে হয়। কিন্তু কাজী অনিকের করা ৪৯তম ওভারের শেষ বলে আউট শরিফুল্লাহ। শেষ ওভারে তিন উইকেট হাতে নিয়ে ছয় রান প্রয়োজন প্রাইম ব্যাংকের। প্রথম দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ আজিম; ইনিংসে তাঁর হয়ে যায় ছয় শিকার। শেষ চার বলে ব্যাটসম্যানরা মাত্র পাঁচ রান নিতে পারেন। শেষ বলে জয়ের জন্য দুই রান দরকার হলেও এক রানের বেশি নিতে পারেন না ব্যাটসম্যান আরাফাত সানি। তাই এবারের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম টাই হয়ে যায় ফতুল্লার এই ম্যাচে।

আরেক ম্যাচে সৈকত আলীর সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৬৫ রান তুলেছিল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। জবাব দিতে নেমে জয়ের কক্ষপথে কখনোই ছিল না গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ৪২.৪ ওভারে মাত্র ১৭০ রানে অল আউট হয়ে যায় তারা। ৯৫ রানে জিতে লিগে সপ্তম ম্যাচে চতুর্থ জয় পায় শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক

প্রাইম ব্যাংক : ৪৯.২ ওভারে ২৪৬ (আল-আমিন ৮৪, জাকির ৬২; মাশরাফি ৪/৪১; সাকলায়েন ২/৪৭)। আবাহনী : ৫০ ওভারে ২৩৭/৯ (সাইফ ৭৫, নাসির ৬৫; শরিফুল ৪/৫১, দেলোয়ার ২/৪৩)। ফল : প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৯ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : শরিফুল ইসলাম।

মোহামেডান-প্রাইম দোলেশ্বর

মোহামেডান : ৪৯.৫ ওভারে ২৮৬ (শামসুর ৭৫, রকিবুল ৭২, বিপুল ৫৩; ফরহাদ রেজা ৩/৬৬)। প্রাইম দোলেশ্বর : ৫০ ওভারে ২৮৬/৯ (লিটন ১২৯, ফরহাদ হোসেন ৫২; আজিম ৬/৬৭, অনিক ৩/৫১)। ফল : টাই। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ আজিম।

শেখ জামাল-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স

শেখ জামাল : ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সৈকত ১১৫, হাসানুজ্জামান ৪৫; নাঈম ২/৪৯, কামরুল ২/৬৪)। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স : ৪২.৪ ওভারে ১৭০ (গুরকিরাত ৬৭; সাজেদুল ২/১৪, কামরুল ২/২৯, সোহাগ ২/৩০)।

ফল : শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ৯৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সৈকত আলী।



মন্তব্য