kalerkantho


সেরাদেরও তো করুণ হাল

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সেরাদেরও তো করুণ হাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভরা মজলিশে বড় গলা করে কথাটি বলেছিলেন মিনহাজুল আবেদীন—গত এক বছরে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান নাকি সাব্বির রহমানের। কিন্তু জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচকের বলা ওই কথাটি যে বুমেরাং হয়ে ফিরেছে তাঁর দিকে! সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সেরা পাঁচেও তো নেই সাব্বির।

এই অজ্ঞতা যে নির্বাচক কমিটির অদক্ষতা, তা নিয়ে সংশয় নেই কোনো। কুড়ি-বিশের ফরম্যাটে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের মতোই যেন! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্রতর সংস্করণে এখনো হাবুডুবু খান তাঁরা; তারকাসুলভ ব্যাটিং-বোলিং দেখা যায় কদাচিত্। গত এক বছরে তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে হাহাকারের বিজ্ঞাপনটাই যে মুখ্য হয়ে ওঠে।

সর্বশেষ ১২ মাসে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ছয়টি। শ্রীলঙ্কা সফর, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কাকে আতিথ্য দেওয়া সিরিজে সমান দুটি করে। তাতে সর্বোচ্চ রান সৌম্য সরকারের। ছয় ম্যাচে ২০৫ রান করেন ৩৪.১৬ গড়ে; ১৫৬.৪৮ স্ট্রাইকরেটে। ২৯, ৩৪, ৪৭, ৪৪, ৫১ ও ০—সর্বশেষ ইনিংসটি বাদ দিলে বেশ ধারাবাহিক। বাকিদের বেলায় তা বলা যাবে না। এ সময়ে আর সাকল্যে কারো দেড় শ রানও নেই যে! মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমকে বাদ দিলে এক শ রানও নেই অন্য কারো।

গত এক বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪৬ রান মাহমুদের। কোনো ফিফটি নেই; গড় ২৯.২০; স্ট্রাইকরেট ১২৪.৭৮। মুশফিকুর রহিমের ফিফটি আছে একটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ঢাকায় অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ। সেই ক্যারিয়ারে গত বছরে প্রাপ্তিযোগ ছয় ম্যাচে ২২ গড় ও ১৪৬.৬৬ স্ট্রাইকরেটে ১১০ রান।

এ তিনজনের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং তা-ও পাতে তোলার মতো, বাকিদের বেলায় মোটেও নয়। সর্বশেষ এক বছরে আর কোনো ব্যাটসম্যান যে এক শ রানও করতে পারেননি। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ছয় ম্যাচের চারটিতে ব্যাটিং করে ৮৮ রান; সাকিব আল হাসান চার ম্যাচে ৬৪ রান করে সেরা পাঁচের বাকি দুই জায়গা পূর্ণ করেছেন। আর মিনহাজুলের ভুল তথ্যের সাব্বির পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে ১২ গড়ে ৬০ রান করে আছে ষষ্ঠে। এ সময়ে ইমরুল কায়েসের অবশ্য ‘উন্নতি’ হয়েছে খুব। ক্যারিয়ারের প্রথম ১১ টি-টোয়েন্টিতে তিনি রান করেছিলেন ৬৭, গড় ছিল ৬.৭। সর্বশেষ এক বছরের তিন ম্যাচে ৫২ রান করেছেন ১৭.৩৩ গড়ে। উন্নতি না? ক্যারিয়ার গড় এখনো ১০-এর নিচে থাকলেও তাই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় সিরিজের স্কোয়াডে জায়গা পেয়ে যান ইমরুল।

অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন দুই ম্যাচে ৫১ রান করলেও এক খেলায় অপরাজিত থাকায় গড় ৫১-ই! বাকিদের হতশ্রী অবস্থা। তামিম ইকবাল দুই ম্যাচে ২৯, মেহেদী হাসান মিরাজ তিন ম্যাচে ২৭ এবং এক ম্যাচে খেলে লিটন দাশ ৯, মোহাম্মদ মিঠুন ৫, আফিফ হোসেনের ০ রান।

সুবিধার নয় বোলারদের অবস্থাও। সর্বশেষ বছরে চার খেলায় ছয় উইকেট নিয়ে সাকিব সফলতম। ১৭.১৬ গড় ও ৭.৩৫ ইকোনমিও ভদ্রস্থ। বাংলাদেশের বড় ভরসা মুস্তাফিজুর রহমান চার ম্যাচে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ২৩.২০ গড়ে, ৮.৯২ ইকোনমিতে। ছয় ম্যাচে চার উইকেট সাইফউদ্দিনের। আর শ্রীলঙ্কা সফরে অবসরে পাঠানো মাশরাফি বিন মর্তুজা দুই ম্যাচে নেন তিন উইকেট। ২০.৬৬ গড়ে; ৭.৭৫ ইকোনমিতে।

এ ছাড়া মিরাজ তিন ম্যাচে দুই, নাজমুল ইসলাম দুই ম্যাচে দুই, রুবেল হোসেন তিন ম্যাচে দুই উইকেট নিয়েছেন। একটি করে শিকার আবু জায়েদ, আফিফ, মাহমুদ, সৌম্য ও তাসকিনের। তিন টি-টোয়েন্টিতে ৯৫ গড় এবং ১২.১২ ইকোনমি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কা সফরের দলে রয়েছেন এই তাসকিন।

কালই শ্রীলঙ্কায় উড়ে যাবে বাংলাদেশ দল। কাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু দুই দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প। লঙ্কায় নিজের ভালো ফর্ম টেনে নেওয়ার ব্যাপারে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানালেন সর্বশেষ বছরের বাংলাদেশের সফলতম ব্যাটসম্যান সৌম্য, ‘মাঠে খেলতে নামি, চেষ্টা থাকে ভালো করার, রান করার। ভালো-খারাপ তো থাকেই। ওখানে চারটি ম্যাচ আছে প্রথমে। একটা একটা শুরু করব। একটা একটা ম্যাচে ভালো করতে চেষ্টা করব। শুরু থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করব।’ সে প্রমাণের দায় আসলে পুরো দলেরই। ব্যাটসম্যান-বোলার সবাইকেই দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ সৌম্যর কথায়, ‘আমার মনে হয় না ব্যাটিং বা বোলিং কোনো এক দিক দিয়ে ম্যাচ জেতা বা ভালো কিছু করা সম্ভব। কখনো কখনো হয়তো হয়। তবে ৯৯ শতাংশ সময়ই তা হবে না, ১ শতাংশ হয়তো হবে। আমার মনে হয় সব বিভাগে ভালো করলেই জেতা সম্ভব। সেটা শুধু ব্যাটিং-বোলিং নয়; ফিল্ডিংও আছে।’

ফিল্ডিংয়ে অহেতুক রান দেওয়া অথবা গণ্ডায় গণ্ডায় ক্যাচ ফেলার ইতিহাসও রয়েছে বাংলাদেশের। ওই ভুলচুক শোধরানোর মতো নিজেদের ব্যাটে-বলের পারফরম্যান্সের দাবিটাও কড়ায় গণ্ডায় চুকানোর দায় এখন ব্যাটসম্যান-বোলারদের কাছে।

 


মন্তব্য