kalerkantho


সাইফের ফুটবল-সংস্কৃতি বদলের মিশন

সনৎ বাবলা   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সাইফের ফুটবল-সংস্কৃতি বদলের মিশন

গত বছর একটি ফুটবল উৎসবে সাইফ স্পোর্টিংয়ের শিরোপা উদ্‌যাপন

তাদের শিরোপা-যাত্রা মাঝপথে ভণ্ডুল হয়ে গেলেও ফুরিয়ে যায়নি ফুটবল-স্বপ্ন। হালের অপেশাদারি ফুটবল-সংস্কৃতি বদলেই সাইফ স্পোর্টিং শিকড় থেকে শিখরে আরোহণ করতে চায়।

দেশে এত দিন শিখরে ওঠার পথ ছিল একটাই। বিভিন্ন দল থেকে ভালো খেলোয়াড় নাও, এরপর চ্যাম্পিয়ন হও। প্রিমিয়ারের প্রথম মৌসুমে সাইফ এই পথে হেঁটে বড় দাগা খেয়েছে। দামি খেলোয়াড় নেওয়া যেন চড়া দামে যন্ত্রণা কেনা! তাই এবার ধরেছে ভিন্ন পথ, ফিরে গেছে শিকড়ে। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী মনে করেন, ‘তথাকথিত তারকা খেলোয়াড়ের পেছনে না ছুটে নিজেদের বয়সভিত্তিক দুটি দল এবং বাইরের কিছু তরুণ খেলোয়াড় নেব। বড় সুবিধা হলো মূল দলের পাইপলাইন হিসেবে আমাদের দুটি বয়সভিত্তিক দল আছে। গতবারের দলের ১৪ জনের মতো তরুণ খেলোয়াড় আছে। তাদের সঙ্গে নতুনদের মিশেলে কী চেহারা দাঁড়ায় দেখি।’

প্রিমিয়ার লিগের মূল দলের পাশাপাশি সাইফের বাকি দুটি দল হলো অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-১৬। অনূর্ধ্ব-১৮ দলটি মূলত বিকেএসপির, এক বছর ধরে তার সব দায়দায়িত্ব এই ক্লাবের। স্প্যানিশ কোচ আন্দ্রেজ বারগাসের অধীনে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তৈরি হচ্ছে দলটি। এই দলটিকে এক বছর লালনপালন করতে এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা বিকেএসপিকে দিতে হয় সাইফের। খেলোয়াড় তৈরিতে এত টাকা খরচ করার পেছনে ক্লাবের একটা উদ্দেশ্য জানিয়েছেন নাসির উদ্দিন, ‘এবার বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট হলে আমাদের খেলোয়াড়রা ফোকাসে আসবে। আমার ধারণা, পারফরম্যান্স দেখার পর প্রিমিয়ারের দলগুলো তাদের দিকে হাত বাড়াবে। এই দলের খেলোয়াড়দের নিতে গেলে পেশাদারি প্রথায় আসতে হবে ক্লাবগুলোকে। আধুনিক ফুটবলের দলবদলের প্রথাটা কাউকে না কাউকে চালু করতে হবে।’ কোনো দল সাইফ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ফুটবলার কিনলে দামের ৪০ শতাংশ পাবে ওই খেলোয়াড়। আর ৩০ শতাংশ করে পাবে বিকেএসপি ও সাইফ। এ রকম হলে ব্যাপারটা একদম নতুন হবে। খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি দীর্ঘকালীন হয় না, চুক্তিপত্রে থাকে না কোনো ‘বাই-আউট ক্লজ’। অথচ ফুটবলবিশ্বে ক্লাবগুলোর বড় আয়ের উৎসই হলো খেলোয়াড় বিক্রি। আয়ের এই পথটা দেখানো গেলে দেশের ক্লাবগুলোও হয়তো বয়সভিত্তিক দল পুষবে, একাডেমি গড়ে ফুটবলার তৈরিতে উৎসাহী হবে।

এদিকে কমলাপুর স্টেডিয়ামে স্থানীয় কোচ কামাল বাবুর হাতে তৈরি হচ্ছে তাদের অনূর্ধ্ব-১৬ দল। দলটির বয়স ছয় মাস হলেও ইতিমধ্যে সাইফ একাডেমির ব্যানারে খেলছে তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ এবং এখনো পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষেই আছে তারা। কামাল বাবুর বিশ্বাস, ‘এই দলের খেলোয়াড়রা দুই বছরের মধ্যেই প্রিমিয়ার লিগ খেলবে। এখানে প্রতিভাবান খেলোয়াড় অনেক। দেশের বিভিন্ন জায়গার খেলোয়াড় আছে এই দলে। বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের। তাদের মধ্যে ভালো ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা প্রবল।’

সাইফ স্পোর্টিংয়ের মতো মূল দলের পাশাপাশি দুটি বয়সভিত্তিক দল পোষে না প্রিমিয়ারের অন্য কোনো ক্লাব। কদিন বাদে বাফুফে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের টুর্নামেন্টের ডাক দিলে খেলোয়াড় খোঁজাখুজি শুরু করে দেবে ক্লাবগুলো। তবে সাইফের ওই দুটি দলের মধ্যে চরিত্রগত পার্থক্যটা কিন্তু বেশ চোখে পড়ার মতো। একাডেমির ছাঁচে গড়া বললে বিকেএসপির দলটিই, তুলনায় অনূর্ধ্ব-১৬ দলের গরিবিয়ানা হাল। নাসির উদ্দিন জানান, ‘বলতে পারেন, এটা একধরনের পরীক্ষা। একটি দল বিকেএসপিতে বেড়ে উঠছে সব সুযোগ-সুবিধার ভেতর দিয়ে। এমনকি খাবারের মেন্যু কী হবে, সেটাও ঠিক করে দেন স্প্যানিশ কোচ। আরেকটি কমলাপুরে প্র্যাকটিস করছে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে। আসলে দেখতে চাইছি, উন্নতির তুল্যমূল্য বিচারে কাদের সামর্থ্য বেশি ধরা পড়ছে।’

সীমাবদ্ধতাকে জয় করে প্রতিভার স্ফুরণ হচ্ছে নাকি প্রতিভার বিকাশে সুযোগ-সুবিধা মুখ্য। ভেতরে ফুটবল-বোধ থাকলে একটি ক্লাব কত কিছু করতে পারে!


মন্তব্য