kalerkantho


আবার পাইবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিসিবির

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আবার পাইবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিসিবির

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চন্দিকা হাতুরাসিংহে চলে যাওয়ার পর থেকে নতুন হেড কোচ খুঁজছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবশেষ হোম সিরিজে ব্যর্থতার পর সে অনুসন্ধান বেগবান হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রিচার্ড পাইবাসকে সরকারিভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে বিসিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে ই-মেইলে প্রেরিত ওই প্রস্তাবের উত্তর নাকি এখনো দেননি ২০১২ সালে মাস পাঁচেক বাংলাদেশ দলকে কোচিং করানো পাইবাস।

গত নভেম্বরে সাক্ষাৎকার দিতে সশরীরে বাংলাদেশে এসেছিলেন পাইবাস। তবে একই সময়ে হাজির ফিল সিমন্সের সঙ্গে তাঁকেও মনে ধরেনি বিসিবির। কিন্তু এখানে-ওখানে ঘোরাঘুরির পর পছন্দমাফিক কোচ না পেয়েই আবার পাইবাসের দিকে ঝুঁকেছে বিসিবি। তবে এবার আর সাক্ষাৎকারের আহ্বান নয়, ই-মেইল করে পাঠানো হয়েছে প্রস্তাবনা। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত এই ইংরেজ এখনো উত্তর দেননি বলেই জানা গেছে। অবশ্য বিসিবির এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেছেন, ‘তিনি আরেকটি চাকরি করছেন। এই অবস্থায় প্রকাশ্যে কোনো কিছু বলা শোভন নয়।’

গতবার এই ‘গোপনীয়তা’ ভঙ্গের কারণে বিসিবির ওপর ভীষণ চটেছিলেন পাইবাস। ২০১২ সালের জুনে চুক্তিপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর না করেই যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের কোচ পদে। কিন্তু পরে দেখেন তাঁর স্বাক্ষরের আগেই চুক্তিপত্রের খুঁটিনাটি মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়ে গেছে। পাঁচ মাস পর চাকরি ছাড়ার সময় ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি বিসিবির তৎকালীন কর্মকর্তাদের ‘অযাচিত’ হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছিলেন পাইবাস, ‘বোর্ডের লোকজন নিয়মিত নাক গলাত। অনেকে বাধা সৃষ্টি করত, যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও নেই।’

শুধু বোর্ড নয়, ড্রেসিংরুমেও ভীষণ কড়া রিচার্ড পাইবাস। এ কারণে বিসিবির বর্তমান কর্মকর্তাদেরও পছন্দ জন্মসূত্রে এই ইংলিশম্যানকে। তা ছাড়া কোচিং ক্যারিয়ারও কম সমৃদ্ধ নয়। দুটি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কোচ ছিলেন পাইবাস। যদিও ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যেই পাকিস্তানে চার মেয়াদে কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশে পাইবাসের মেয়াদ ছিল পাঁচ মাসের। গত বছর ঢাকায় এসে সাক্ষাৎকার দিয়েও সফল না হওয়ার পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তাব লুফে নিয়েছেন তিনি। দুই বছরের মেয়াদে বর্তমানে ওই দ্বীপুঞ্জের হাই পারফরম্যান্স ম্যানেজার পাইবাস। যদিও তাঁর এই নিয়োগকে ঘিরে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ওপেনার ডেসমন্ড হেইন্সও সরব হয়েছেন। ড্যারেন সামি তো টুইটও করেছিলেন, ‘আশা করি এই দুঃস্বপ্ন (পাইবাসের নিয়োগ) সত্যি নয়!’ এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট পদেও কাজ করেছেন তিনি, তিন বছর মেয়াদে (২০১৩-২০১৬)।

সব মিলিয়ে জাতীয় পর্যায়ে রিচার্ড পাইবাসের চাকরির অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখের নয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সফল তিনি। পাইবাসের কোচিং ক্যারিয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরোয়া ক্রিকেটের ৯টি শিরোপা রয়েছে। এর মধ্যে টানা তিন বছরেই জিতেছেন দুটি করে শিরোপা।

এই দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া আর কোথাও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি রিচার্ড পাইবাসের চাকরির মেয়াদ। বরং তাঁর ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে অনেকের, বিশেষ করে ক্রিকেটারদের। ড্যারেন সামির মতো প্রকাশ্যে না হলেও রিচার্ড পাইবাসের আবার বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে নাকি সায় নেই ক্রিকেটারদের। তাই ব্যর্থ হয়েছে তাঁর নভেম্বর মিশন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বল এখন পাইবাসের কোর্টে।



মন্তব্য