kalerkantho



মরিনহোর সামনে কন্তের চেলসি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মরিনহোর সামনে কন্তের চেলসি

বার্সেলোনায় দোভাষী হিসেবে কর্মজীবন শুরু, পোর্তোকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়ে হোসে মরিনহোর উত্থান। তবে সত্যিকার অর্থে স্বঘোষিত স্পেশাল ওয়ান হয়ে ওঠা চেলসিতে। তাঁর হাত ধরেই প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জয়। বলা যায়, চেলসির বড় দল হয়ে ওঠাটা অনেকটাই এই পর্তুগিজের হাত ধরে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তাঁর অবস্থান অনেকটাই আপৎকালীন। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন-পরবর্তী সময়ে ডেভিড ময়েস, লুই ফন হালদের ম্যানইউর কোচ করার সময় এসেছিল হোসে মরিনহোর নামও। কিন্তু তখন ভাবা হয়নি তাঁকে। বলা হতো, ম্যানইউর দর্শনের সঙ্গে মেলে না মরিনহোর মন্ত্র। কিন্তু রেড ডেভিলদের যখন করুণদশা, তখন অনেকটা নিরুপায় হয়েই মরিনহো-শরণ। আজ জীবনের অদ্ভুত বাঁকেই দাঁড়িয়ে মরিনহো। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আসছে চেলসি, তারা জিতলে পয়েন্ট তালিকায় হবে ম্যানইউর সমান। অবশ্য পেশাদার কোচের জীবনে এমন মুহূর্ত এসেছে অনেক, মরিনহো থেকেছেন নিরাবেগ। আজও কি তাই থাকবেন?

এমন আগুণে ম্যাচের রাতে লিগ কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল। এফএ কাপ থেকে বিদায়ের পর এই শিরোপাটা জিততে মুখিয়ে গার্দিওলা। তেমনি প্রিমিয়ার লিগের দৌড় থেকে ছিটকে পড়া আর্সেনালও মরিয়া লিগ কাপ ঘরে তুলতে।

ম্যানইউ-চেলসি দুই দলেরই চ্যাম্পিয়নস লিগ ভাগ্য কেটেছে অনেকটা একই রকম। সেভিয়া থেকে গোলশূন্য ড্র করে এসেছে ম্যানইউ, নিজ মাঠে বার্সেলোনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে চেলসি। প্রতিপক্ষ চেলসিতে এসে গোল করে যাওয়াতে খানিকটা দুর্ভাবনায় আন্তনিও কন্তে। চেলসির প্রতি প্রীতি নাকি বছর বছর কমে আসছে মরিনহোর, এমনটাই তো বললেন, ‘একটা একটা করে বছর যাচ্ছে আর চেলসির সঙ্গে খেলাটার অর্থ আমার কাছে কমে আসছে। বছর দুই তো হয়ে গেল। আসলে আমি যে চেলসির কোচ ছিলাম, ধাপে ধাপে সেই অনুভূতিটাই কমে আসছে। সত্যিকার যে অর্থটা দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো—দুটি বড় ক্লাব আরো একবার মুখোমুখি হচ্ছে।’

সেই মুখোমুখি হওয়াটা এমন সময়, যখন লিগ মোটামুটি ম্যানসিটির পকেটে চলে গেছে। বাকি ১৯ দল খেলছে রানার্স-আপ হওয়ার জন্য। যদিও মরিনহো এসব অঙ্কে একদমই বিশ্বাসী নন, ‘গত ১০-১৫ বছর ধরে, ম্যানইউ আর চেলসি মুখোমুখি হওয়া মানেই বড় ম্যাচ। আমরা দুজনেই সেরা চারে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এটা সব সময়ই বড় ম্যাচ।’

এমন বড় ম্যাচে ম্যানইউতে নেই এন্দের এরেরা। চোটের কারণে তিনি দলের বাইরে।

আন্তনিও কন্তেও তাতিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন শিষ্যদের। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটায় একটিমাত্র ভুলের মাসুল দিয়েছে চেলসি। অন্যদিকে ভাগ্যও ছিল না পাশে। উইলিয়ানের শট যে দুইবার লেগেছিল পোস্টে! কন্তে বলছেন, ‘জেতার মানসিকতা মানে এই নয় যে সব ম্যাচেই জিতব। জেতার মানসিকতা হচ্ছে কিভাবে প্রস্তুতি নিলাম সেটা। অনুশীলনে শতভাগ দায়বদ্ধতা দেখান। জয়ের মানসিকতা মানে কোচকে শ্রদ্ধা করা, দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। সেই সঙ্গে সব ম্যাচে একটাই উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নামা, জয়।’ শিষ্যদের এই মন্ত্রে দীক্ষিত করেই নামাবেন কন্তে।

একদিকে ডি গিয়া, অন্যদিকে কোর্তোয়া। হ্যাজার্ড-মোরাতা-উইলিয়ান-কান্তে-ফাব্রেগাসের বিপরীতে মাতা-লুকাকু-সানচেস-পগবা-মাতিচরা। তাঁদের সূত্রধর মরিনহো আর কন্তে। তাঁদের হাতেই আজ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ৯০ মিনিটের নাটাই। শুধু আক্ষেপ এখানেই, একটা সময় এই দ্বৈরথেই হয়তো ঠিক হয়ে যেত শিরোপার গন্তব্য। আর এখন, শিরোপাটা হয়তো ম্যানচেস্টারেই আসছে তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নয়! ক্লাব ওয়েবসাইট



মন্তব্য