kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ফেসবুকিং-চ্যাট করে স্ট্রাইকার হওয়া যায় না

বয়স হয়ে গেলেও শেখ মোহাম্মদ আসলামের গোলক্ষুধা কমেনি। গতকাল ভ্যাটার্নস কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চট্টগ্রাম সোনালী অতীতের বিপক্ষে এই স্ট্রাইকার দুর্দান্ত গোল করেছেন হেডে। আরেকটি করিয়েছেন সতীর্থ মিলনকে দিয়ে। ম্যাচ শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এখনকার স্ট্রাইকারদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুকিং-চ্যাট করে স্ট্রাইকার হওয়া যায় না

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : অনেক দিন পর ডাইভিং হেডে দুর্দান্ত গোল করেছেন। শ্যুট-আউটের গোলটিও চমৎকার ছিল।

 

আসলাম : গোল করা একজন স্ট্রাইকারের সহজাত ব্যাপার। গোল করার পর আমি আবার শান্ত হয়ে গেছি। শ্যুট-আউটের গোলটা হলো অভ্যাস, এখনো গোলের নিশানা ভুলিনি। গোলক্ষুধা না থাকলে কিসের স্ট্রাইকার। খেলোয়াড়ি জীবনে মাঠে ৯০ মিনিট ঘুরতাম ওই গোলের জন্য, তার পুরস্কারও অনেক পেয়েছি।

প্রশ্ন : এখন কারো মধ্যে এ রকম গোলক্ষুধা দেখেন?

আসলাম : না। এখন সেরকম কোনো স্ট্রাইকারই নেই। আমার পরে একজন খেলোয়াড়ের মধ্যে গোলের দক্ষতাটা ছিল, সে হলো নকীব। লিগে সে টানা তিনবার সেরা স্কোরার হয়েছিল, এটা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। এর পরে ওই মানের কোনো স্ট্রাইকার আমার চোখে পড়েনি। এখনকার খেলোয়াড়দের সাহসও নেই, শ্যুটিং নেই। একটু সাহসী হয়ে মাঝমাঠ থেকে হঠাৎ শট নিতে কাউকে দেখি না। অথচ আমার ক্যারিয়ারে এ রকম গোল আছে অনেক।

প্রশ্ন : স্ট্রাইকার হওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আপনি অনেক প্র্যাকটিস করতেন। রিকশাও চালাতেন নাকি!

আসলাম : এটা সাধনার ব্যাপার। ফুটবলের অফ-সিজনে অমি ভলিবল খেলতাম যেন লাফানোর অভ্যাস ঠিকঠাক থাকে। রিকশা চালিয়েছিলাম পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করার জন্য। তা ছাড়া শ্যুটিং-হেডিং প্র্যাকটিস তো আছেই। এগুলো আমি নিজে থেকে করতাম, কারণ একজন ভালো স্ট্রাইকার হতে গেলে আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। নিজে আলাদা করে প্র্যাকটিস করার অভ্যাসটা আমাদের খেলোয়াড়দের একদম নেই। কিন্তু ভালো ফুটবলার হতে গেলে বাড়তি কিছু করতে হবে, বাড়তি সময় প্র্যাকটিস মাঠে কাটাতেই হবে। ফেসবুকিং আর চ্যাট করে স্ট্রাইকার হওয়া যায় না।

প্রশ্ন : কিন্তু এখন দেশের ফুটবলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক তো দিন দিন বাড়ছে।

আসলাম : আমাদের ফুটবলে অর্থই হয়েছে অনর্থের মূল। টাকাগুলো অপাত্রে দেওয়া হচ্ছে। একজন ফুটবলারের নিজের সম্পর্কে ধারণা থাকাও উচিত, সে কত টাকার ফুটবল খেলে। তার মানের চেয়ে বেশি পাওয়ার কারণে সে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শেখার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বাফুফের উচিত ছিল, জাতীয় দলকে এখানে এনে আমাদের খেলা দেখানো। এই বয়সে আমাদের পাসিং-মুভমেন্টগুলো তাদের দেখা উচিত। বক্সে একজন স্ট্রাইকারের মুভমেন্ট কিন্তু খুব জরুরি। যেমন একটা বলে আমি ফাউলের শিকার হয়েছি, যৌবন থাকলে বলটা আমি আগে ধরতাম এবং গোল করতাম।



মন্তব্য