kalerkantho


তারুণ্যের ঝলক আর পুরনোদের হতাশা

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তারুণ্যের ঝলক আর পুরনোদের হতাশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাত্র আগের ম্যাচেই, আসরের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার আকবর-উর-রহমান। কাল মিরপুরে আকবরের ব্যাটে রান ছিল ঠিকই, কিন্তু সতীর্থ কেউই পারেননি সেভাবে সঙ্গ দিতে। তাই তো প্রিমিয়ার লিগের নতুন অতিথি শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের কাছেও হার ঐতিহ্যবাহী দল কলাবাগানের। বিকেএসপিতে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে ভদ্রস্থ সংগ্রহই স্কোরবোর্ডে জমা করেছিল প্রাইম ব্যাংক। অল্প পুঁজি নিয়ে লড়াইটা জমিয়ে তুলেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে সাদা-কালোদের কাছে। জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে খেলাঘর হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংককে।

সৌম্য সরকার আর ধূমকেতু যেন সমার্থক শব্দ। মাঝে মাঝে তাঁর ব্যাটে রানের উদয় হয়, এরপর ফের উধাও! ঢাকায়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটাও বেশ ডাকাবুকো হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন, এরপর ফের নিশ্চুপ তাঁর ব্যাট। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করে আলোড়ন তৈরি করা আজমীর আহমেদ এবার প্রিমিয়ারে খেলছেন, সৌম্যর ওপেনিং সঙ্গী হয়ে। দুজনেই হতাশ করে চলেছেন। অথচ অনেক অচেনা ক্রিকেটারই প্রিমিয়ার লিগে দেখাচ্ছেন প্রতিভার ঝলক। ফিল্ডিংয়ের সময় দাঁড়িয়ে সৌম্যরা সাক্ষী হলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা মাহিদুল ইসলামের প্রথম ‘লিস্ট এ’ সেঞ্চুরির। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ২৫৯ রান। সৌম্য ২৪, আজমীর ২৫, শাহরিয়ার নাফীস করেন ২৯ রান। জবাবে মাহিদুল ও অশোক মানেরিয়ার সেঞ্চুরিতে, ৪৭.৪ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খেলাঘর। মাহিদুল ১৩১ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৮ ছক্কায় ১১৫ রানে অপরাজিত আর মানেরিয়া খেলেন ১১২ বলে ১১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস, যাতে ৯ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কা। ৫ ম্যাচে খেলাঘরের এটা মাত্র দ্বিতীয় জয়, ৭ উইকেটে জেতা ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় মাহিদুল।

কলাবাগান পড়ে আছে লিগ টেবিলের তলানিতেই, তাদের চোখ রাঙাচ্ছে রেলিগেশন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নন্দিত-নিন্দিত মোহাম্মদ আশরাফুল ২২ মিনিট ক্রিজে থেকে ১০ বল খেলে ০ রান করে সাইফউদ্দিনের বলে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার। মাহমুদুল হাসানের ৫২ ও আবুল হাসানের অপরাজিত ৪৭ রানে কলাবাগান করেছিল ৯ উইকেটে ২৩২ রান। জবাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলা দুই প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটসম্যান আফিফ হাসান ও তৌহিদ হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে অন্যদের অবদানে ৪২.৩ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শাইনপুকুর। ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা শুভাগত হোম।

৩৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয় আল আমিন আর আরিফুল হকের লড়াই। মেহেদী মারুফ, ইউসুফ পাঠানরা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে প্রতিরোধ এই দুজনের। আল আমিনের ১২৬ বলে ১১০ রানের ইনিংসের সমাপ্তি কাজী অনিকের বলে বোল্ড হয়ে, আরিফুলের ৮৭ রানের ইনিংসের শেষটাও একই রকম। ১০০ রানের নিচে অল আউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে ৯ উইকেটে ২৫৯ রানের ‘চ্যালেঞ্জিং টোটাল’ প্রাইম ব্যাংকের। এই পুঁজি রক্ষায় ২০৫ রানে প্রতিপক্ষের ৭টি উইকেট তুলেও নিয়েছিল প্রাইম, কিন্তু অষ্টম উইকেট জুটিতে এনামুল হকের ৩২ আর তাইজুল ইসলামের ৩৫ রানে জয়ের বৈতরণী পার হয় মোহামেডান। দল হারলেও ম্যাচসেরার পুরষ্কার উঠেছে আল-আমিনের হাতেই।



মন্তব্য