kalerkantho


চেলসি দেয়াল ভাঙলেন মেসি

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চেলসি দেয়াল ভাঙলেন মেসি

প্রথম : ইউরোপের অন্যান্য দলের মতো ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষেও তো মেসির গোল কম নয়। আর্সেনালের বিপক্ষে আছে ৪ গোল, হ্যাটট্রিক আছে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তো ভিন্ন দুটি ফাইনালেও গোল পেয়েছেন। কিন্তু চেলসির পোস্ট যেন বিরাট ধাঁধা হয়ে ছিল আর্জেন্টাইন তারকার জন্য। অবশেষে সেই গেরো খুলল এবং তা দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

বাজে রেফারিংয়ের কারণে চেলসি-বার্সা দ্বৈরথে কুখ্যাত হয়ে আছে ২০০৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ। রেফারির একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের সুযোগে প্রায় হারতে বসা ম্যাচটি শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে ফাইনালেও উঠে যায় কাতালানরা। শেষ মুহূর্তের সেই গোলের নায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, পাসটা ছিল লিওনেল মেসির। ৯ বছর পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আরেকটি হারের পথে থাকা ম্যাচ এই যুগলেই আবার পার হয়ে গেল বার্সা। শুধু ভূমিকা বদল। এবার অ্যাসিস্ট ইনিয়েস্তার, গোল লিওনেল মেসির।

যে ‘গোল’ নিয়ে এত কথা, প্রায় এক যুগের অপেক্ষা, তা ধরা দিল অবশেষে মেসির পায়ে। চেলসি দুর্গের পতন হলো সময়ের অন্যতম সেরা তারকার কাছে। বার্সা জেতেনি ঠিক কিন্তু ১-১ গোলের ড্রয়ে ওই এক অ্যাওয়ে গোল যে মহামূল্য। ন্যুক্যাম্পে ফিরতি লেগে তাতে করে কাতালানরাই এগিয়ে থাকবে। চেলসিকে শেষ আটে যেতে হলে গোল করতেই হবে সেখানে। গোলশূন্য ড্র হলে বার্সার হাতেই থাকবে টিকিট। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এদিন ইনিয়েস্তা-মেসির যুগলবন্দি ২০০৯-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেও রেফারিং নিয়ে অন্তত প্রশ্ন ছিল না। আন্তোনিও কন্তে বরং ভাগ্যকে দুষতে পারেন। এক উইলিয়ানই তো এদিন হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতেন। কিন্তু দুই-দুইবার পোস্টে লাগিয়ে তৃতীয়বারে তিনি ভাগ্যের দেখা পেলেন। তাতেই জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল ব্লুদের। বার্সা নিয়মমাফিক পজেশন নিয়ে খেললেও গোলমুখ খুলতে পারছিল না যা। চেলসির যেকোনো ডিফেন্স লাইন বার্সার মুখোমুখি হলেই যেন দুর্ভেদ্য হয়ে যায়। এদিনও কাতালানদের আরেকটি হতাশার রাত, মেসির আরেকটি আক্ষেপের ম্যাচের চিত্রনাট্যই তৈরি হচ্ছিল যেন। ভুলটা করল চেলসিই। ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়েনসেন বক্সের আড়াআড়ি লম্বা পাস দিতে গেলেন, মাঝপথে সেই বল ধরেই আগুয়ান মেসির সামনে ঠেলেন ইনিয়েস্তা। যে বলে আর্জেন্টাইন তারকার জাদুকরী বাঁ পায়ের ছোঁয়া, গোলরক্ষক থিবো কোর্তুয়াকে কোনো সুযোগ না দিয়েই বল জড়ায় জালে। এত দিন কোথায় ছিল এই স্পর্শ সে এক রহস্য।

ইউরোপের অন্যান্য দলের মতো ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষেও তো মেসির গোল কম নয়। আর্সেনালের বিপক্ষে আছে ৪ গোল, হ্যাটট্রিক আছে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তো ভিন্ন দুটি ফাইনালেও গোল পেয়েছেন। কিন্তু চেলসির পোস্ট যেন বিরাট ধাঁধা হয়ে ছিল আর্জেন্টাইন তারকার জন্য। অবশেষে সেই গেরো খুলল এবং তা দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ২০০৯-এ ইনিয়েস্তার গোলটা ছিল অতিরিক্ত সময়ে, গোল পেয়ে জার্সি খুলে তাঁর বুনো উল্লাস এখনো চিরন্তন ছবি হয়ে আছে। মেসির পরশুর গোলে বার্সার ফাইনাল নিশ্চিত হয়নি, এমনকি শেষ আটের টিকিটও না। তবু চেলসির বিপক্ষে তাদের শেষ দেখার স্মৃতি মাথায় রেখে এই অ্যাওয়ে গোল বার্সা সমর্থকদের জন্য যে দারুণ স্বস্তির।

আন্তোনিও কন্তে এদিন অলিভিয়ের জিরোদ বা আলভারো মোরাতাকে সুযোগ না দিয়ে এডেন হ্যাজার্ডকে খেলিয়েছেন ফ্রন্ট থ্রির মাঝখানে। ম্যাচ শেষে হ্যাজার্ডও নয়, আলোচনা উইলিয়ানকে নিয়ে। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার হাল সিটির বিপক্ষে আগের ম্যাচেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে জোড়া গোল করেছিলেন। এদিন বার্সার বিপক্ষেও একই কায়দায় তিনি আতঙ্ক ছড়ান। প্রথমবার ৩৩ মিনিটে, তাঁর ২৫ গজি শট মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগানের হাতের নাগালের বাইরে দিয়ে গেলেও পোস্টের বাধায় তা ফিরে আসে। বিরতির ঠিক আগে আগে আরো একবার বার্সার ত্রাতা ক্রসবার, দুর্ভাগা উইলিয়ান। বার্সার ডিফেন্স তবু এই ঝুঁকিটা কাটাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয়বারের সুযোগ আর নষ্ট করেননি উইলিয়ান, বক্সের বাইরে থেকেই নিচু শটে বল জড়িয়েছেন জালে। বার্সার ব্রাজিলিয়ান পাউনিনিয়োকে নিয়েও আশা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু হতাশ করেছেন তিনি। প্রথমার্ধেই মেসির মাপা ক্রসটা হেডে জালে জড়াতে পারলে ম্যাচটি এত কঠিন হতো না হয়তো বার্সার জন্য। ভালভের্দে তাই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই পাউলিনিয়োকে তুলে নেন। বার্সার কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনো পর্যন্ত তিনি অপরাজিত, চেলসির বিপক্ষে সেই রেকর্ডটা ভাঙতে বসেছিল, মেসি নিজের গোলের আক্ষেপ মেটানোর পাশাপাশি সেই তাঁকেও দিয়েছেন বড় উপহার। তাতে এখন বার্সারও শেষ আটের পথ তৈরি।



মন্তব্য