kalerkantho


এখন সভাপতি দোষ দেখছেন সবার

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এখন সভাপতি দোষ দেখছেন সবার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, ওদেরকে ওদের মতো করে খেলতে দেব। আমি আমার কথা রেখেছি; কিন্তু এখন তো আর চুপ করে বসে থাকা যাবে না।’

দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যর্থতায় এবার সরব হতে চলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। অচিরেই দলটিকে পথে ফেরাতে কিছু ব্যবস্থা তিনি নেবেন। এর আগে গতকাল ধানমণ্ডিতে নিজের কর্মস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে খড়্গহস্ত হলেন এই ক্রিকেট প্রশাসক। তাঁর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যেতে হলো প্রায় সবাইকে। খেলোয়াড়, নির্বাচক থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ—বাদ গেলেন না কেউই।

তবে নাজমুলের নিজেরও এ ক্ষেত্রে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ হেড কোচ ছাড়াই লঙ্কানদের বিপক্ষে হোম সিরিজ চালিয়ে দিতে পারবেন বলে খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব ছিল, তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারীই সায় দিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছিল, ‘ধরে নিন, এই সিরিজে (ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্টের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ) মাশরাফি আর সাকিবই কোচ।’ কোনো দেশের বোর্ড সভাপতির মুখে কোচ হিসেবে ক্রিকেটারদের নাম ঘোষিত হয়ে যাওয়াও তো কম বিরল ব্যাপার নয়!

সমালোচনা সত্ত্বেও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদ দিয়ে মাহমুদকে দলের ‘মাথা’ বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব অবশ্য ক্রিকেটাররা দেননি। সেটি নাজমুলেরই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন তাঁর মনে হচ্ছে, দলের সাফল্যের জন্য জুতসই পরিকল্পনা করার পক্ষে ওই ‘মাথা’ও যথেষ্ট নয়। মাহমুদের নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফের পারফরম্যান্সে কতটা সন্তুষ্ট, এমন প্রশ্নে নাজমুল বলে দিয়েছেন, ‘ওরা ওদের মতো করেছে; কিন্তু ওদের ওপরেও একজনকে দরকার। এটাই যথেষ্ট নয়। যদি যথেষ্টই হতো, তাহলে একটি দল হঠাৎ করে বদলে যেতে পারে না। এটিকে বাংলাদেশ দল বলে আমার কাছেও মনে হয়নি। সত্যি কথা বললে ফাইনালের (ত্রিদেশীয় সিরিজের) দিন আমার মনটা একেবারেই ভেঙে গেছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২২০ করতে পারব না? হতে পারে হাতুরাসিংহে নেই। ৩২০ তো আর ওরা করেনি। এটা হতেই পারে না যে আমরা ২২০ করতে পারব না।’

দলের মধ্যে অনেক কিছুর অভাবও দেখেছেন তিনি, ‘পরিকল্পনা, কৌশল, আমরা জিততে পারি কিংবা জিতব বলে ভাবার যে মানসিক শক্তি এবং টিমওয়ার্ক—এগুলোর যথেষ্ট অভাব ছিল। খেলা দেখে আমি এটাই বুঝেছি। আমাদের একজন ভালোমানের কোচ তাই জরুরি ভিত্তিতে দরকার।’ দল নির্বাচনে অস্থিরতার কারণেই হেড কোচের প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি করে উপলব্ধি করছেন নাজমুল, ‘দল নিয়ে নড়াচড়া বেশি হয়েছে, অস্থিরতাও বেশি ছিল। একটা দলের সঙ্গে খেলতে হলে কৌশল লাগে, সেই অনুযায়ী খেলতে হয়। কী ধরনের উইকেটে খেলবেন, কী রকম দল খেলাবেন, ওখানেই যদি আপনি নিশ্চিত না হয়ে একেকজনের মতামত শোনেন এবং নেতৃত্বগুণ যদি না থাকে, তাহলে তো সমস্যা। আমি কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার যে আমাদের একজন কোচ লাগবে। হাতুরাসিংহে সেরা কোচ। কিন্তু উনিই তো বিশ্বে একা নন। এ রকম আরো আছেন। যিনি কিনা এই দলটিকে গুছিয়ে আগের মতো আবার ভালো অবস্থায় নিয়ে আসবেন।’

সেই হেড কোচ নিয়োগ করতে গিয়েও যে নাজমুলদের মধ্যে অস্থিরতা বিদ্যমান, কথায় কথায় বেরিয়ে গেছে সেটিও, ‘একজন কোচ আমরা চূড়ান্তই করে ফেলেছিলাম। কালই (আজ) ফ্লাই করার কথা। শেষ মুহূর্তে মনে হলো ওনার সঙ্গে আমাদের মিলবে না। পরে আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে থামানো হয়েছে।’ তাঁকে থামানো হলেও হেড কোচ ঠিক করার চেষ্টা গতিশীল আছে বলেই দাবি তাঁর, ‘আমরা এখনো চেষ্টা করছি। কালকেও (গত পরশু) যোগাযোগ হয়েছে দুজনের সঙ্গে। এখন আইপিএল ছেড়ে কেউ আসতে চায় না। কোচ পাওয়া কঠিন। চেষ্টা করছি নিদাহাস কাপের (শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ) আগেই হেড কোচ নিয়ে আসতে। পারব কি না নিশ্চিত নই, তবে চেষ্টা করছি।’ একাদশ নির্বাচনের অস্থিরতায় যে নাজমুলের নিজেরও কিছুটা ভূমিকা আছে, সেটি অবশ্য চেষ্টা করে বের করতে হলো না। তিনি নিজেই বলে দিলেন, ‘আমি আরো পাঁচ দিন আগেই দেশে ফিরতে পারতাম। একটা উদাহরণ দিই। প্রথম টি-টোয়েন্টির আগের দিন আমি জিজ্ঞেস করেছি একাদশ কী? ওরা আমাকে বলতে পারেনি। খেলা বিকেল ৫টায়, ৩টার সময় জিজ্ঞেস করার পরও ওরা আমাকে বলতে পারেনি যে কে কে খেলবে? এরপর আর আমার কিছু বলার থাকে না। আমার তখন দেশে ফেরার কথা থাকলেও আমি ফ্লাইট বাতিল করে দিই।’ নাজমুল ক্ষুব্ধ হলেও চোটগ্রস্ত তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সেদিন একেবারে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষার নীতি নিয়েছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট!


মন্তব্য