kalerkantho


অলিম্পিক ভিশনে ফ্রেডরিক মিশন

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অলিম্পিক ভিশনে ফ্রেডরিক মিশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অলিম্পিক পদকের ভিশন নিয়ে দেশের আর্চারি শুরু করছে নতুন মিশন। এই ভিশন ও মিশনকে সাফল্যের মোড়কে বাঁধতে দেশে এসেছেন মার্টিন ফ্রেডরিক। হাই প্রোফাইল জার্মান কেচের অধীনে দেশের আর্চারি স্বপ্নের ডালপালা গজিয়ে সোনায় সোহাগা হবে!

আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আর্চারি ফেডারেশন সাজিয়েছে নতুন প্রগ্রাম, যার পোশাকি নাম ‘তীর গো ফর গোল্ড’। এটা সফল করতেই বার্লিন অলিম্পিক সেন্টারের কোচ মার্টিনের সঙ্গে কাল হয়েছে পাঁচ বছরের চুক্তি। ৫০ বছর বয়সী এই জার্মান গত ডিসেম্বরে ঢাকায় এসে কর্মকর্তাদের চোখে দেখেছেন স্বপ্ন, যাচাই করে গেছেন আর্চারির সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো। এর পরই কঠিন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন, ‘খুশি মনেই দায়িত্বটা নিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে এক সপ্তাহ থেকে পরিশ্রমী আর্চার, আন্তরিক কোচ এবং ফেডারেশন কর্তাদের দেখেছি। এসব দেখেই মনে হয়েছে চ্যালেঞ্জটা নেওয়া যায় এবং কিছু করা যায়।’ গত সপ্তাহে আসা কোচ চুক্তির আনুষ্ঠানিকতার আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছেন। ঘরোয়া ক্যালেন্ডার তৈরির পাশাপাশি এ বছর আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আগ্রহী আর্চারদের জন্যও সাজিয়েছেন ট্রেনিং-প্ল্যান।

এখানে আর্চারি মোটেও জনপ্রিয় নয়, তবে গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক আসরে পদক জয়ের অঙ্কে তার সম্ভাবনাময় আগামীর ইঙ্গিত আছে। এটাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বদলে দিতে হবে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটা, বাড়াতে হবে মেধাসম্পন্ন স্থানীয় কোচের সংখ্যা। এসবকে মুখ্য ধরেই আর্চার উন্নয়নের আপাত পরিকল্পনা করলেও ফ্রেডরিক দেখতে চাইছেন দক্ষিণ এশীয় আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গ্রাঁপ্রি, এশিয়ান গেমস, সলিডারিটি গেমস, ওয়ার্ল্ড কাপে বাংলাদেশি আর্চারদের পারফরম্যান্স। এর পরই দ্বিতীয় বছরের পরিকল্পনায় হাত দিতে চান, ‘আমি এখানে এসেছি বাংলাদেশকে কিছু দিতে, তবে এক বছরে এটা সম্ভব নয়। তরুণ আর্চারদের মধ্যে সম্ভাবনা আছে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদেরকে আগামী অলিম্পিকের জন্য তৈরি করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিককে লক্ষ্য রেখে আমাদের কিছু করতেই হবে।’

এ দেশে আসার আগে গত ছয় বছর কাটিয়েছেন তিনি চিলিতে। তাঁর ছাত্র ১৬ বছর বয়সী চিলিয়ান আর্চার রিকার্ডো সতো রিও অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছেন সেরা দশে। এ ছাড়া কয়েকজন জার্মান ও চিলিয়ান আর্চারের আন্তর্জাতিক সাফল্যের নেপথ্য রূপকার এই জার্মান কোচ। তাঁর কোচিং সামর্থ্যে নিঃসংশয় হয়ে ফেডারেশন প্রতি মাসে পাঁচ হাজার ডলার বেতনে নিয়োগ দিয়েছে এই কোচকে। ফেডারেশনের সহযোগী স্পন্সর সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক শোয়েব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও ফেডারেশন সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন চপল উপস্থিত ছিলেন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে।

 


মন্তব্য