kalerkantho


আবার ঢাকার বাইরে যাচ্ছে ফুটবল

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আবার ঢাকার বাইরে যাচ্ছে ফুটবল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গত লিগে ১২টি দলই খেলল এক বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। শীত, গীষ্ম, বর্ষায় একের পর এক খেলা চলেছে এখানে। মাঠের দিকে, খেলার মানের দিকে তাকানোর জো ছিল না। দর্শকশূন্য এই একটি মাঠে আটকে পড়া ফুটবল হাঁসফাঁস করেছে। প্রতিবারই এই আগল খোলার চেষ্টা করা হয়। এই মাঠে নির্ভরশীল হয়ে পড়া দলগুলোর মধ্যে সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা হোম ভেন্যু করেছিল গোপালগঞ্জকে। এক মৌসুম টিকেছে সেটা। ২০১৬-তে নতুন ফর্মুলায় খেলা হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটে। সবগুলো দল একইসঙ্গে এই ভেন্যুগুলোতে গিয়ে খেলে এসেছে। সেটিও টিকল না। গত বছরই আবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের বাক্সবন্দি সব দল। এমনকি চট্টগ্রাম আবাহনীও ঢাকায় হোটেল ভাড়া দিয়ে খেলেছে পুরো মৌসুম।

আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু নতুন মৌসুমে এই অবস্থা আবার পাল্টানোর ইঙ্গিত। কারণ জানা গেছে এবার বেশ কিছু দলই ঢাকার বাইরে নিজেদের ভেন্যু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব খেলতে চায় যশোরে, নতুন দল বসুন্ধরা কিংস হোম ভেন্যু করতে আগ্রহী রংপুরকে। এর মধ্যে রংপুর স্টেডিয়ামে নিজেদের উদ্যোগে একটি টুর্নামেন্টও আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। চট্টগ্রাম আবাহনীও ফিরে যাচ্ছে তাদের নিজেদের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। শেখ রাসেল ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা গোপালগঞ্জে হোম ভেন্যু করার কথা জানিয়েছে বাফুফেকে। গোপালগঞ্জে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে সেটি যদি অনুমোদন না হয়, তবে তারা বিকল্প হিসেবে সিলেটও ভেবে রেখেছে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের পুরনো ভেন্যু গোপালগঞ্জকে চায় তারাও। বিকল্প হিসেবে তাদের পছন্দ ময়মনসিংহ। তার মানে এবার ক্লাবগুলোই এসেছে খেলাটাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যেতে। বাফুফে থেকে জানানো হয়েছে এ বিষয়ে আলোচনা এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলো পরিদর্শনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি। দেখার বিষয় ফুটবলটাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে ফেডারেশন এই সুযোগটা কতটা কাজে লাগাতে পারে। এর আগে ফেনীতে খেলা চালাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ফেনী সকারকে। মাঠের দুরবস্থার কথা বলে বেশ কিছু ক্লাব সেখানে যেতে চায়নি। বাফুফেকে দেখা যায়নি ফেনী সকারের হয়ে বিষয়টার সুরাহা করতে। তারা বরং অন্য ক্লাবগুলোর পক্ষ নিয়ে সকারের ওপর চাপ দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই মাঠে খেলাই হয়নি। এবারও প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলোর ব্যাপারে বাফুফে কতটা ইতিবাচক সেটিই দেখার বিষয়। পেশাদার লিগ কমিটির চেয়াম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘আমরা ঢাকার বাইরে খেলা নিয়ে যেতে আন্তরিক। এর আগে পাঁচটি ভেন্যুতেও খেলা হয়েছে। তবে গত লিগটা বর্ষার মধ্যে পড়ে যায়। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক জায়গায় যেতে পারিনি। এবার সে জন্যই আমরা ক্যালেন্ডারেই পরিবর্তন এনেছি। তাতে এবার ভেন্যু বাড়বে নিশ্চিত। তবে ক্লাবগুলোকেও আমরা বিপদে ফেলতে চাই না। সেসব ভেন্যুতে যাতায়াত, হোটেল, ড্রেসিংরুম, প্রেস বক্সের মতো বিভিন্ন সুবিধাদিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

এসবের চেয়েও নিশ্চিত দর্শক অনেক বড় ব্যাপার, ঢাকার বাইরে খেলা হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ যাতে সারা দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যেন ফিরে আসে। পেশাদার লিগ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকার বাইরে দশটা ভেন্যু—খুলনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী ও ফেনীতে লিগ হয়েছে। কিন্তু কোনোটাই ধরে রাখা যায়নি। গতবার সব দল একসঙ্গে খেলল এক খাঁখাঁ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

 


মন্তব্য