kalerkantho



আনন্দের দিনের পর বেদনার রাত

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট অফিস   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আনন্দের দিনের পর বেদনার রাত

সিলেটের মাঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অভিষেক ম্যাচ। সকাল থেকেই নগরের বাতাসে যেন সেই বার্তা ঘুরতে থাকল। ইতিহাসের সাক্ষী হতে সাতসকাল থেকেই স্টেডিয়াম এলাকায় টিকিটপ্রত্যাশীদের আনাগোনা। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকল তাদের উপস্থিতি। বাড়ল নাগরিক দুর্ভোগও। বিমানবন্দর সড়ক ধরে স্টেডিয়ামমুখী মানুষের আনাগোনায় দুপুর থেকে নগরজুড়ে তীব্র যানজট। তবু সব কিছু ছাপিয়ে যেন ম্যাচটাই নগরবাসীর দিনের একমাত্র সূচি। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কম যায়নি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। বিশেষ মুদ্রায় টস, দুই দলের ক্রিকেটার ও অতিথিদের জন্য স্মারক উপহারেই থাকল না সে আয়োজন, ক্রিকেটাদের বরণ করে নিতে রাখা হলো ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ডপার্টি। খেলার মাঝখানের বিরতিতে চলল আতশবাজির প্রদর্শনী। আর ম্যাচের শুরু থেকে প্রায় পুরোটা সময় মাঠভর্তি দর্শকদের সমর্থন তো আছেই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে চার বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বাছাই পর্বের সেই ম্যাচগুলোতে জিম্বাবুয়ে ছাড়া বাকি দলগুলো ছিল আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ। তবু সবগুলো ম্যাচে দর্শক উপস্থিতি শুরুতেই আলাদা দৃষ্টি কাড়ে নতুন ভেন্যুর। তবে এরপর চার বছরে নানা আয়োজন হলেও বাংলাদেশ দলের খেলতে আসা হয়নি দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশে। তাই স্থানীয়দের মাঝে একধরনের আক্ষেপ ছিল এতকাল। সেই আক্ষেপ গতকাল ঘুচাল। দর্শকরাও বাংলাদেশ দলকে শুরু থেকে সরব সমর্থন দিয়ে গেলেন। তবে সফরকারীদের কাছে বাংলাদেশের হেরে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হতাশাকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হয় সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমীদের। খেলা ৫ ওভার বাকি থাকতেই তারা মাঠ ছাড়তে শুরু করেন।

গতকাল বাংলাদেশ দলকে প্রথমবার সিলেটের মাঠে স্বাগত জানাতে বাড়তি আনুষ্ঠানিকতার অনুষঙ্গ রেখেছিল সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ দল ও শ্রীলঙ্কা দল সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। বিমানবন্দর সড়ক থেকে স্টেডিয়ামমুখী সড়ক থেকে ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ডপার্টির সুরের মূর্ছনায় তাঁদের বহনকারী গাড়িকে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসা হয়। এর আগেই হোটেলে দুই দলের ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে স্মারক উপহার। কাঠের তৈরি বিশেষ স্মারকে ছিল আয়োজক ভেন্যুর ছবি ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন ঐতিহ্যের ছবি। অভিষেক ম্যাচের টসের জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ স্মারক মুদ্রা। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের লোগো সংবলিত সেই মুদ্রা টস ভাগ্যে স্বদেশের পক্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাঠের এগারোজন পারেননি ম্যাচকে পক্ষে রাখতে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর স্বাগতিকরা চড়াও হলেও দর্শকদের আনন্দে তাতে ভাটা পড়েনি। ব্যাটিং পিচে হয়তো বাংলাদেশ রান তাড়া করতে পারবে বলেই ছিল তাদের বিশ্বাস। পূর্ব গ্যালারিতে বসে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখছিলেন রাইসুল ইসলাম তালাত। দলে তামিম ইকবাল ফেরায় তিনি দারুণ খুশি, ‘এই মাঠে প্রচুর রান হয়। তাই সমস্যা নাই। তামিম ফিরেছে। সে নিজের মতো খেললে আমরা জিতব।’ তাঁর কথা শেষ হতেই বন্ধুরা ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে তাঁর কথার সমর্থন জানালেন। ম্যাচের মধ্যবিরতিতে ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে হলো আতশবাজির প্রদর্শনী। দর্শকদের আনন্দে বাড়তি রসদ জোগাল সেই উদ্যোগ। তবে সব কিছুই যেন ভেস্তে গেল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হারের কারণে। মুখে ঝলমলে হাসি নিয়ে মাঠে আসা দর্শকরা মাঠ ছাড়লেন হতাশা নিয়ে। আর শ্রীলঙ্কা সিলেটের মাঠে নতুন রেকর্ড গড়েই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এর আগে ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের করা ১৯৩ রানই ছিল এই মাঠের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। গতকাল ২১০ রান করে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ল শ্রীলঙ্কা। সফরকারীদের রেকর্ড গড়ার দিনে ৭৫ রান ব্যবধানে বাংলাদেশের হেরে যাওয়ায় সব আয়োজন যেন ভেস্তে গেল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমাদের ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের প্রথমবার পদার্পণকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সব কিছু ভালোয় ভালোয় হয়েছে। বাংলাদেশ দল জিতলে সেটা ষোলোআনা পূর্ণতা পেত।’



মন্তব্য