kalerkantho


উপলব্ধি মাহমুদের

ভুলের মাসুল দিচ্ছে বাংলাদেশ

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভুলের মাসুল দিচ্ছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পারল না বাংলাদেশ। শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে সান্ত্বনার প্রলেপ দিতে পারল না ক্ষতে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে হার, টেস্ট সিরিজে হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও শেষ করল শূন্য হাতে। কারণ হিসেবে ভুলের পর ভুল করে যাওয়া আর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে না পারাকেই সামনে নিয়ে আসেন কাল ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ।

‘যে ভুলগুলো প্রতিনিয়ত করছি, সেটির মাসুল প্রতি ম্যাচে দিচ্ছি। এখান থেকে বেরোতে হবে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। অন্যথায় আমরা এমন খেলতে থাকলে একই ফল পাব। আমাদের খেলার নির্দিষ্ট ধরন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। মাঠে তার বাস্তবায়ন করতে হবে’—বলেছেন মাহমুদ। কাল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার দায় সবার কাঁধেই নিয়েছেন তিনি, ‘আজ ১২-১৩ ওভার থেকেই ডেথ ওভারের মতো বোলিং শুরু করে দিয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয়, উইকেট না নিতে পারলে ব্যাপারটা কঠিন হয়ে যায়। কোনো একটা কিছু তো করতে হবে। রান ঠেকাতে হবে বা উইকেট নিতে হবে—তাহলে সুযোগ থাকে ম্যাচে ফেরার। এ ছাড়া ব্যাটিংয়ে আমরা জুটি গড়তে পারিনি। আর ২০০-র বেশি রান তাড়া করতে হলে পাওয়ার প্লেতে ৬০, ৬৫, ৭০-এর মতো রান তুলতে হবে। যেটি গত ম্যাচে হয়েছিল। আজ রান তাড়ার চাপে তা করতে পারিনি। সব মিলিয়েই ম্যাচটি হতাশার।’

কালকের ম্যাচের উইকেট নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই অধিনায়কের। শ্রীলঙ্কার রানটা শুধু একটু বেশি হয়ে গেছে বলে আফসোস তাঁর, ‘উইকেট ভালো ছিল। ওদের ব্যাটিংয়ের সময়; আমাদের ব্যাটিংয়ের সময়ও। আমরা ভেবেছিলাম, যত কম রান দেওয়া যায়। ওদের রান ১৮০-১৯০ এর মধ্যে রাখতে পারলে ম্যাচটি অন্য রকম হতে পারত। ব্যাটিংয়ে নামার সময় আমাদের মানসিকতা থাকত অন্য রকম। কেননা ২০০ রানের চাপ অন্য রকম। এগুলো ঠিকঠাক করতে না পারলে আমরা বড় সমস্যায় পড়ব।’ দুই ম্যাচেই একাদশে দেখা গেছে নতুন খেলোয়াড়ের জোয়ার। প্রথম ম্যাচে চার অভিষিক্তের পর কাল পরিবর্তন আরো চারটি, যেখানে দুজনের অভিষেক। এই সিদ্ধান্তগুলো চাপিয়ে দেওয়া নয় বলেই জানালেন মাহমুদ, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আমাকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। নিজেদের মধ্যে কথা বলেই আমরা একাদশ করেছি। ব্যাপারটি এমন নয় যে, আমার ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের জন্য যা ভালো মনে হয়েছে, কোচিং স্টাফ ও সিনিয়র ক্রিকেটারদের পরামর্শেই দল করা হয়েছে।’

পুরো সিরিজ বাংলাদেশ শেষ করল কোচ ছাড়া। সিরিজের আগে বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানের সঙ্গে সভায় দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছিল সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর। এখন মূল কোচ লাগবে কি না, এমন প্রশ্ন ছিল মাহমুদের কাছে। কিন্তু ওই উপলব্ধির জবাবটা দেননি তিনি, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য না করাই ভালো। কারণ এটি অন্য রকম ইস্যু। এতটুকুন বলতে পারি, আমাদের সব ক্রিকেটারের দায়িত্ব যে, টি-টোয়েন্টিতে আমরা কিভাবে এগোব, তা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করা। কোথায় ভুল হচ্ছে, কোথায় উন্নতি করতে পারি—সব কিছু নিয়ে বসতে হবে। নইলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলগুলো বের করে এর সমাধান করতে পারলে ভালো করব। অন্তত এত খারাপ করব না; এর চেয়ে ভালো করব।’

ওদিকে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল বেশ তৃপ্ত, ‘দল হিসেবে খুব ভালো সফর কাটল। বিশেষত প্রথম দুই ওয়ানডেতে হারের পর। ওই হারের কারণেই আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রত্যয়ী হয়েছিলাম। ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই আমরা সফল হয়েছি। যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি খুব খুশি।’ বাংলাদেশের প্রশংসাও অবশ্য করেছেন তিনি, ‘গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ভালো দল হয়ে উঠেছে। তারা এখন যে কাউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। আমি নিশ্চিত ওরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, ‘সব কিছু তো আর আপনাদের সামনে বলা যাবে না। তবে বাংলাদেশের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ছিল। মূল ব্যাপার হচ্ছে, আমরা সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। বাংলাদেশের শক্তি-দুর্বলতা আমরা জানতাম।’



মন্তব্য