kalerkantho


এক পদকেই দেশের জার্সি!

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এক পদকেই দেশের জার্সি!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সফল হলো লন্ডনি বক্সারের বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার। ৬০ কেজি ওজন শ্রেণির পদকটিই যেন সাফওয়ান উদ্দিনকে পৌঁছে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ের মঞ্চে। নিশ্চিত হয়ে গেছে তাঁর বাংলাদেশের জার্সি, আগামী জুনে নিজেকে লাল-সবুজে রাঙিয়ে থাইল্যান্ড যাবেন কিংস কাপ খেলতে।

জাতীয় বক্সিংয়ের ফাইনালে গতকাল আনসারের রাকিব শেখকে হারিয়ে তিনি পদক জিতেছেন। এই জয় নিয়ে প্রতিপক্ষ আনসার প্রশ্ন তুললেও সাফওয়ান উদ্দিন পাল্টা চ্যালেঞ্জ করেছেন, ‘সব সময় আমার জয়ের মানসিকতা ছিল, রিংয়ে আধিপত্য করেছি। পাঞ্চ করে পয়েন্ট আদায় করার কৌশলটা আমি জানি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমার জয়টা অন্যভাবে এসেছে, তাহলে আমি পদকটা দিয়ে দেব।’ তিন ম্যাচের মধ্যে সেমিফাইনালটাই তাঁর কাছে একটু কঠিন মনে হয়েছে, তুলনায় ফাইনাল অনেক সহজ হয়েছে। এর পরও প্রতিপক্ষ বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা করলেও তাঁর কাছে এ জয়ের মাহাত্ম্য অনেক বেশি, ‘বাংলাদেশে এসে সাফল্য পেয়েছি, খুবই ভালো লাগছে এবং গর্বও হচ্ছে। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, অলিম্পিক, এসএ গেমসে খেলতে চাই। কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে চেয়েছিলাম; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এন্ট্রির সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি বলতে চাই, সুযোগ পেলে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ এ জয়ের পরপরই বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন যেন তাঁর গায়ে তুলে দিয়েছে লাল-সবুজের জার্সি। ঘোষণা দিয়েছে, জুনে থাইল্যান্ডের কিংস কাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সাফওয়ান উদ্দিন। তবে এশিয়ান গেমস কঠিন জায়গা, এর পরও ফেডারেশন কর্তারা অনুরোধ করেছেন বিওএকে এশিয়াডের দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করতে।

জাতীয় পর্যায়ের বক্সিং কোচ সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদেরও পছন্দ হয়েছে এই প্রবাসী বাংলাদেশি বক্সারের খেলা, ‘আমাদের বক্সারদের চেয়ে শারীরিকভাবে সে অনেক এগিয়ে। স্পিড ও কৌশল বেশ ভালো। খেলা দেখে বোঝা গেছে মনস্তাত্ত্ব্বিকভাবে সে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে তার ভালো করার সুযোগ আছে, সাফের মানের বক্সার সে। উন্নতিটা ধরে রাখতে পারলে এসএ গেমসে খুবই ভালো করার সম্ভাবনা আছে।’ তাঁর স্টাইলটা হলো ‘ওপেন’ খেলা অর্থাৎ মুখ আড়াল না করে খেলা। ১৮ বছর বয়সী এ তরুণ বক্সার নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘আমার প্রথম রক্ষণ হচ্ছে মাথা, মাথা সঠিকভাবে নাড়ানোই হলো আত্মরক্ষার ভালো কৌশল। এরপর হাত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমার পা। প্রতিটি পদক্ষেপ দ্রুত নিতে পারছি কি না, তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে আক্রমণাত্মক খেলার জন্য অনেক কিছুই শিখতে হবে। পাল্টা আক্রমণ করা এবং স্ট্র্যাটেজিসহ ছোটখাটো বিষয়গুলো আমাকে শিখতে হবে।’ ইংল্যান্ডে ভালো কোচের অধীন তাঁর বক্সিংয়ের ভিতটা ভালো হয়েছে। এখন সময় উন্নতি করার, এ জন্য ইংল্যান্ডে গিয়ে সাফওয়ান নতুন কোচের শরণাপন্ন হবেন।

 



মন্তব্য