kalerkantho


বাসেলে সিটিজেনদের উৎসব

হিগুয়েইনের মিসের মাসুল দিতে হতে পারে জুভেন্টাসকে

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



হিগুয়েইনের মিসের মাসুল দিতে হতে পারে জুভেন্টাসকে

অনেকেই বলেন, লিওনেল মেসি যে এখনো জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি, তার পেছনে কারণ হচ্ছে গনসালো হিগুয়েইন! ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকার দুটি আসরের ফাইনাল; কখনো সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করে, কখনো টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন একাধিকবার ভেঙেছেন এই ফরোয়ার্ড। এসব কারণেই হয়তো আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি অনেক নতুন খেলোয়াড়কে বাজিয়ে দেখতে আগ্রহী হলেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন হিগুয়েইনের দিক থেকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গত আসরের রানার্স-আপ জুভেন্টাসেরও এইবার শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার কারণও হয়ে যেতে পারেন এই আর্জেন্টাইন। ম্যাচের প্রথম ৯ মিনিটে দুটি গোল করেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করেছেন, তাতে হাতছাড়া হয়েছে হ্যাটট্রিকও। প্রতিপক্ষের মাঠে পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে এগিয়ে থেকেই তুরিন থেকে লন্ডনে ফিরে গেল টটেনহাম হটস্পার্স।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, প্রতিযোগিতামূলক আসরে মুখোমুখি হয়েছিল জুভেন্টাস-টটেনহাম। দেখা হয়ে যাওয়াটাকে স্মরণীয় করে রাখতেই যেন ৭৮ সেকেন্ডে গোল করে বসলেন হিগুয়েইন! মিরালেম পিয়ানিক ফ্রিকিক পেয়ে গোলে শট না নিয়ে চালাকি করে নিচু করে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সামনে। মানবপ্রাচীরের পাশ থেকে ছুটে গিয়ে চলন্ত বলেই ডান পা লাগিয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। মিনিট সাতেক পর বেন ডেভিসের ফাউলের সুবাদে পাওয়া পেনাল্টিটা কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ২-০ করে ফেলেন হিগুয়েইন। ম্যাচ ঘড়ির কাঁটায় তখন ১০ মিনিটও পেরোয়নি। ৩৫ মিনিটে হ্যারি কেইন গোল করে ব্যবধান কমান, তবে সেই ঘাটতিটাও প্রথমার্ধেই পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসে গিয়েছিল হিগুয়েইনের সামনে। প্রথমার্ধের শেষ সময়ে, আবারও পেনাল্টি জুভেন্টাসের। স্পটকিক নিতে আবারও তৈরি হিগুয়েইন। কিন্তু এবার আর গোল হলো না! আগের পেনাল্টিতে উগো লরি ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু বল আটকাতে পারেননি। এবার হিগুয়েইনই মেরেছেন সোজা ক্রসবারে। ৩-১ করতে পারেননি হিগুয়েইন, হয়নি হ্যাটট্রিকও। বরং ৭২ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান ইয়েরিকসনের ফ্রিকিকে করা গোলে সমতায় ফেরে টটেনহাম।

নকআউটের প্রথম লেগ শেষে ২-২ সমতা, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা তাই ৮ মার্চ (বাংলাদেশ সময়, দিবাগত রাত) পর্যন্ত। তবে জুভেন্টাসের মাঠ থেকে নিঃসন্দেহে মনোবল বাড়িয়ে লন্ডনে ফিরেছেন মরিসিও পচেত্তিনো। ফিরতি লেগে ১-১ গোলে ড্র করলেও তাঁর দল পেয়ে যাবে শেষ আটের টিকিট। তবে আর্জেন্টাইন এই কোচ তাঁর স্বদেশির ভুলের চেয়ে কৃতিত্ব দিচ্ছেন খাদের কিনারা থেকে তাঁর দলের ফিরে আসাটাকেই, ‘আমরা এখন অনেক বেশি পরিণত, এই ম্যাচটাই তার একটা বড় উদাহরণ। প্রথম দিকের খানিকটা সময় আমাদের জন্য কঠিন ছিল, তবে ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেটা অসাধারণ।’ তবে একই সঙ্গে ভাগ্যদেবীকে ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না, ‘সব সময়ই ভাগ্যের ছোঁয়া থাকা দরকার। (হিগুয়েইন পেনাল্টি মিস না করলে) ২-১ থেকে ফেরার চেয়ে ৩-১ থেকে ফেরা অনেক বেশি কঠিন। আমাদের ২ গোলে পিছিয়ে পড়াটা উচিত হতো না। দ্বিতীয়ার্ধটা আমরা ভালো খেলেছি, তবে ড্র ভালো ফল।’ জুভেন্টাস কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রিও মানলেন ভুলের কথা, ‘২-০তে এগিয়ে থেকে যেসব ভুল করেছি, সেসব করা উচিত হয়নি। দুঃখ করেই বলতে হয়, খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সুযোগ মিস করেছি আমরা। তবে আশা করছি ওয়েম্বলিতে জিতব।’

লন্ডনের কেন্দ্রস্থল থেকে, মাঠভর্তি প্রতিপক্ষ সমর্থকদের মাঝ থেকে জিতে ফেরাটা কতটা কঠিন হবে, সেটা নিশ্চয়ই জানেন আলেগ্রি। টটেনহামের মাঠে এবার জিততে পারেনি চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডও। সেখানে জিততে হলে অসাধ্যই সাধন করতে হবে আলেগ্রিকে, নইলে যে দখিন দুয়ার খোলা!

তুরিনে অনেক উত্থান-পতনের রোমাঞ্চ ছিল, ছিল না বাসেলে। ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরেই মৌসুমের মাঝপথে রোমাঞ্চ কেড়ে নিয়ে একপেশে বানিয়ে ফেলেছে! সেখানে সুইস ক্লাব বাসেল কি আর পথের কাঁটা হয়? প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়েই রাখল ম্যানসিটি। এলকে গুন্ডোয়ানের জোড়া গোল, এক গোল করে করেছেন সের্হিয়ো আগুয়েরো ও বার্নার্দো সিলভা। উয়েফা, স্কাই


মন্তব্য