kalerkantho


দায়িত্বে থাকতে চান না তিনি

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দায়িত্বে থাকতে চান না তিনি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রায় সব বিষয়েরই শিক্ষক আছে, কিন্তু বাংলাদেশ দলের একজন ‘হেড মাস্টার’ নেই! যোগ্য একজন হেড কোচের অনুসন্ধানও অব্যাহত আছে, কিন্তু আগামী মাসে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে সেরকম কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই কাল জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। সে ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে হেড মাস্টারের আপৎসলীন দায়িত্ব সামলে নিতে থাকা খালেদ মাহমুদেরই দায়িত্বে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা।

গতকাল বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে আসা মাহমুদ যে এ বিষয়ক প্রশ্নেই ফুঁসে উঠবেন, কে জানত! ভেতরে জমে থাকা রাগ-ক্ষোভই উগরে দিলেন তিনি, ‘নিদাহাস কাপে কে দায়িত্ব পালন করবে, সেটি ঠিক করবে বোর্ড। কারণ এই পজিশনটা বোর্ডই আমাকে দিয়েছে। কাজ করব না, এই কথা কখনোই বলতে চাই না। কিন্তু বাঙালি কেউ কাজ করলেই দেখা যায় সেটি বড় সমস্যা হয়ে যায়। বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পরও যে আমি টিকে আছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। চন্দিকা (হাতুরাসিংহে) যখন প্রথম এলো, আরো বড় বড় কোচরা যখন এসেছেন, তাঁদেরও শুরুতে ফল খারাপ হয়েছে। কিন্তু এ রকম হয়নি।’

সমালোচনায় আহত মাহমুদ তাই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অপারগতার কথাও বললেন। যে অপারগতায় সংবাদমাধ্যমের যোগসূত্রও খুব দ্রুতই প্রকাশিত হয়ে গেল, ‘খারাপ ফলের দায় আমি নিতেই পারি। বাজে খেলার পেছনে আমাদের পরিকল্পনায়ও ভুল থাকতে পারে। কিন্তু এর বাইরেও তো আরো অনেক কিছু আসে।’ তাঁর শেষ বাক্যে এটিও স্পষ্ট যে ঢাকা টেস্টে মোসাদ্দেক হোসেনকে একাদশের বাইরে রেখে তাঁকে আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় ভীষণ ব্যথিত মাহমুদ।

একেই মাহমুদ আবাহনীর কোচ, বিসিবির শীর্ষমহলও এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই চট্টগ্রাম টেস্টে ৫৩ বলে অপরাজিত ৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ বাঁচানোতে ভূমিকা রাখা মোসাদ্দেককে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পাঠানোটা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। সেই প্রশ্ন ওঠাতেই দায়িত্ব পালনের আগ্রহ হারিয়েছেন মাহমুদ, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি আর আগ্রহী নই। আমার আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। সত্যি বললে আমার কাছে নোংরা লাগছে জায়গাটা। এত বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করছি, উন্নতির জন্যই করছি। এখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই।’

‘নোংরা জায়গা’র ব্যাখ্যা চাওয়া হলে বলেন, ‘আসলে বলার কিছু নেই। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নোংরা বলতে গেলে মিডিয়াতে যেভাবে লেখা হয়। মিডিয়াও আমাদের ক্রিকেটের বড় অন্তরায়। মিডিয়ার ভূমিকা অস্পষ্ট (তিনি ‘ফিশি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন)। মিডিয়া সন্দেহগ্রস্ত। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। এত গসিপিং এখন! মিডিয়াতে ভালো-খারাপ সবই হবে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস খুব নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে।’

তাঁর দৃষ্টিতে সেই নেতিবাচক ব্যাপারটি হলো, ‘অন্য বিষয় নিয়ে যখন কথা বলে, তখন সেটি আমাকে খুবই আহত করে। যখন বলা হয় আবাহনীতে খেলানোর জন্য আমি মোসাদ্দেককে টেস্টে খেলাইনি। জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কথা বললে খুবই কষ্ট পাই। বাংলাদেশের চেয়ে আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে স্পর্শ করতে পারে বলে মনে করি না। এটা জীবনেও আমাকে ছুঁতে পারবে না, ছুঁতে পারেওনি। এসব কথা বললে মনে হয়, এত বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে তাহলে লাভটা হলো কী?’

মোসাদ্দেককে একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ছিল বলেও বোঝাতে চাইলেন মাহমুদ, ‘৫৩ বলে যে ৮ রান করেছে, তা আমিও দেখেছি। আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে, আমিও দেখেছি। ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি। অনেক বছর হয়েছে, চুলও পেকে গেছে এখন। কে পারে বা কে পারে না, কখন কাকে দরকার, এটা আমরাও বুঝি। আপনারা হয়তো আরো ভালো বোঝেন। আমরাও বুঝি।’ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর আরো অভিযোগ, ‘আপনারা কিছু ব্যাপার প্রতিষ্ঠা করতে চান। চন্দিকা চলে গেল কেন, তা নিয়েও অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমার পেছনে যদি এভাবে লেগে থাকে, তাহলে ভালো করলেও তো আমি কখনো ভালো হব না।’

অভিমানাহত মাহমুদ যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা রকম ট্রলেও খুব ব্যথিত, সেটিও বোঝা গেল, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যেন আমি ভালো কিছুই করছি না। তাহলে আমার এখানে থেকে লাভটা কী? সোশ্যাল মিডিয়া বলেন কিংবা মিডিয়া, এত বছরে ভালো কিছু করেছি বলে তো শুনিনি। আজ এমন কথাও শুনছি যে রাস্তায় গেলে আমাকে নাকি মারও খেতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য মার খেতে হলে তো তা বিব্রতকর।’


মন্তব্য