kalerkantho


ক্লান্ত চট্ট. আবাহনী বনাম টগবগে আরামবাগ

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ক্লান্ত চট্ট. আবাহনী বনাম টগবগে আরামবাগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অভিজ্ঞ চট্টগ্রাম আবাহনী যখন ক্লান্তির অসহায়ত্বের কথা বলছে, তখন আরামবাগের টগবগে তারুণ্য স্বাধীনতা কাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। এই তরুণ দলের স্বপ্নের সারথি হয়ে মারুফুল হকও বলছেন অরুণোদয়ের কথা। কিন্তু আরামবাগের প্রত্যাশিত সূর্যোদয় ঠেকাতে যে মরিয়া জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। চট্টগ্রাম আবাহনীর এই কোচ গুরু মারা বিদ্যা নিয়ে আজ ফাইনালে আসছেন শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়ে।

এটা মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্ট হলে মিন্টুর অত শত ভাবার দরকার পড়ত না। তখনকার চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিস্তর ফারাক। শক্তিতে কিংবা কৌশলে কোনোদিকেই ঠাঁই পাওয়ার মতো ছিল না ক্লাব পাড়ার তরুণ দলটি। লিগেও লড়েছে রেলিগেশন জোনে। কিন্তু শেষ টুর্নামেন্টে এসে হয়েছে তাদের অবিশ্বাস্য রং বদল, প্রস্তুতি নিচ্ছে শিরোপার রংমশাল উড়ানোর। আরামবাগের কোচ মারুফুল হক বলছেন এই রূপান্তরের গল্প, ‘একটা তরুণ দল নিয়ে আমি শুরু করেছিলাম। আগে তারকাদের নিয়ে কাজ করেছি, এবার একদম নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে শুরু। প্রথম লেগে খারাপ করার পর ফিরতি লেগ থেকে দলটি গুছিয়ে খেলতে শুরু করে এবং ট্রেনিংয়ের সুফল পেতে শুরু করি। শেষ লেগে ১৪ পয়েন্ট পেয়ে আমরা রেলিগেশন এড়িয়েছি। এরপর এই টুর্নামেন্টে যোগ্য দল হিসেবেই আরামবাগ ফাইনালে উঠেছে।’

যোগ্যতার নির্ণায়ক হলো লিগ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে। সেমিতে লিগ রানার্স-আপ শেখ জামালকে ১-০ গোলে হারিয়ে সদর্পে হাজির হয়েছে ফাইনালের মঞ্চে। বাকি আছে লিগের তৃতীয় স্থান অধিকারী টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম আবাহনী। তারাও অবশ্য গ্রুপে হারতে হারতে বেঁচে গিয়েছিল। শেষ মুহৃর্তের গোলে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও আরামবাগ কোচ মারুফুল হক আজকের ফাইনালে বেশ আত্মবিশ্বাসী, ‘ফাইনালে আমার দলকেই এগিয়ে রাখছি। এই দলের বড় শক্তি ফিটনেস, আমার তিন-চারজন ফুটবলার ৯০ মিনিটে ১৩-১৪ মাইল দৌড়াতে পারে, বাকিরা অত না হলেও খারাপ নয়।’ তাঁর দলে বিশাল প্রতিভা না থাকলেও ওই ফিটনেসের গুণ এবং প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নেওয়ার অঙ্ক কষে নামছেন দেশের একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ।

লাইসেন্সের অত জোর না থাকলেও জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর ফুটবল কোচিং-বিদ্যা একদম খারাপ নয়। বরং চট্টগ্রাম আবাহনী কোচের অনেক কিছু শেখা ওই মারুফুল হকের কাছে, আর এটাই হতে পারে ফাইনালের গুরু মারা বিদ্যা, ‘তিনি (মারুফুল হক) দেশের অন্যতম সেরা কোচ। তাঁর সহকারী হয়ে কাজ করার সুবাদে তাঁর কৌশল সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা আছে। এসব নিয়ে গত দুদিন কাজ করেছি, চেষ্টা থাকবে প্রতিপক্ষের কৌশল রুখে দিয়ে ম্যাচ বের করে নেওয়ার।’ লিগের শুরু থেকে দারুণ খেলছিল চট্টগ্রামের দলটি, শিরোপার পথেও ছিল। সপ্তদশ রাউন্ডের পর হঠাৎ করে তাল কেটে যায়, টানা কয়েক ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। তখন প্রধান কোচ সাইফুল বারী টিটুকে সরিয়ে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় মিন্টুকে।

লিগের শেষ কয়েকটি ম্যাচ তাঁর অধীনে খেলার পর এই টুর্নামেন্টে হচ্ছে নতুন কোচের আসল পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে ৪-২ গোলে শেখ রাসেলকে উড়িয়ে দেওয়ার পর রহমতগঞ্জকে ১-০ গোলে হারিয়ে তিনি শিরোপার ম্যাচে নিয়ে হাজির করেছেন আবাহনীকে। স্বাধীনতা কাপের শিরোপা ধরে রাখার এই ম্যাচটি তাই তরুণ কোচের ক্যারিয়ার রাঙানোরও দারুণ সুযোগ বটে। কিন্তু তাঁর দুশ্চিন্তা যতটা না প্রতিপক্ষকে নিয়ে, তার চেয়ে বেশি ভয় নিজের খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিয়ে, ‘সেই ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে শেখ কামাল গোল্ড কাপ, ফেডারেশন কাপ, তিনটি লম্বা বিরতিসহ লিগ এবং সাইফের হয়ে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে খেলোয়াড়রা খুব ক্লান্ত। এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এটা ছিল বড় ভয়। খেলোয়াড়রা সাধ্যমতো চেষ্টা করে ফাইনালে তুলে এনেছে দলকে, আর একটি ম্যাচ ভালোভাবে শেষ করতে পারলেই হয়।’ এরই মধ্যে নিয়মিত একাদশের দুজনকে হারিয়েছে আবাহনী। ধারে সাইফ স্পোর্টিংয়ের এএফসি কাপের ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে পড়েছেন জাহিদ হোসেন। সেমিফাইনালে ইনজ্যুরড হয়েছেন সুশান্ত ত্রিপুরা। ফাইনালের আগে এটা বড় ধাক্কা। তাই উঁকি মারছে পুরনো শঙ্কা—ফেডারেশন কাপের ফাইনালে হার এবং সপ্তম রাউন্ড পর্যন্ত শীর্ষে থেকেও লিগ শিরোপা না পাওয়ার ব্যর্থতার ধারায় স্বাধীনতা কাপও না হাতছাড়া হয়ে যায়! মিন্টুর জন্য এটা ভাগ্য ফেরানোর চ্যালেঞ্জ আর মারুফের জন্য তৃষিত আরামবাগকে শিরোপা-শোভা দেওয়ার ম্যাচ।


মন্তব্য