kalerkantho


তবু স্বপ্ন বাদ দিচ্ছে না বাংলাদেশ

নোমান মোহাম্মদ   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তবু স্বপ্ন বাদ দিচ্ছে না বাংলাদেশ

তিন রানে শেষ পাঁচ উইকেট! ওখানেই আসলে লেখা হয়ে যায় ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনার এপিটাফ। এমন ঘূর্ণিপিচে ১১০ রানে অল আউট হয়ে প্রথম ইনিংসে ১১২ রানে পিছিয়ে গেলে সুযোগটা আর থাকে কোথায়!

কুয়াশা-প্রান্তরের ওপারে তবু জ্বলছিল হয়তো আশার হ্যালোজেন। মরাটে আলো ছড়িয়ে। সেটিকে উসকে দেওয়ার জন্য বোলার-ফিল্ডারদের কাছ থেকে দাবি ছিল কালজয়ী পারফরম্যান্সের। তা তো হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে আট উইকেটে ২০০ রান তাই তুলে ফেলে শ্রীলঙ্কা। এগিয়ে যায় ৩১২ রানে। মিরপুরের ২২ গজি মাইনফিল্ডে এত রান তাড়া করে বাংলাদেশের জয় অকল্পনীয় হয়তো নয়; তবে অবিশ্বাস্য তো বটেই!

কতটা অবিশ্বাস্য? পরিসংখ্যানের পাতায় এক পাক ঘুরে আসা যাক। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে দুই শর বেশি রান তাড়া করে জয়ের উদাহরণ মোটে দুটি। কোনোটিই আবার ২০৯ রানের বেশি নয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ড মাত্র এক উইকেট হারিয়ে পৌঁছে জয়ের লক্ষ্যে। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৫ রান করে পাঁচ উইকেট হারিয়ে। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের অবশ্য এই মাঠে চার শর ওপর রান করার উদাহরণও রয়েছে। তবে ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টেস্টের শেষ ইনিংসে ৪১৩ রান করেও হেরে যায় ১০৭ রানে। আর ভুলে গেলে তো চলবে না, উল্লিখিত তিন টেস্টের কোনোটিরই ২২ গজ চলতি ম্যাচের মধ্যে এতটা বোলারবান্ধব না।

নাহ্, বাংলাদেশ তিন শর ওপর রান তাড়া করে এখানে জিতলে তা অবিশ্বাস্য না, অকল্পনীয় ব্যাপারই হবে। একটু ঝুঁকি নিয়ে অমনটা বলে দেওয়া যায়।

স্বাগতিক ড্রেসিংরুমের ভাবনা কিন্তু তেমন না। জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের চটুল স্লোগানের মতো ‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমাদের কাজ’ ব্রত যেন বাংলাদেশের। কাল দ্বিতীয় দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে মেহেদী হাসান মিরাজের উচ্চারণে সেই উচ্চাশা, ‘যেকোনো কিছুই হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য কাল (আজ) দ্রুত দুটি উইকেট নেওয়া। এরপর যত রান তাড়া করে জিততে হয়, সেটি করার মতো আত্মবিশ্বাস আমাদের রয়েছে।’ প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে অল আউট হওয়া দলের পক্ষে তা করা কতটা সম্ভব? এমন প্রশ্নের মুখেও টলেন না মেহেদী। বরং প্রথম ইনিংসের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ তাঁর, ‘প্রথম ইনিংসের ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দ্বিতীয় ইনিংসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা মাত্র ১১০ রানে অল আউট হয়েছি। ওরা যত রানের লক্ষ্য দেবে, তা করতে পারলে জিততে পারব। প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা আমরা ভুলে যেতে চাই।’ প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতা সত্ত্বেও ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই বলে দাবি মেহেদীর, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস আছে। মমিনুল ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাইসহ যাঁরা আছেন, সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। প্রথম ইনিংসে এমনটা হতেই পারে। এটা আসলে দুর্ঘটনা বলব।’

সব দুর্ঘটনার ক্ষত সারে না। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের জন্য তা সারিয়ে তোলা দুঃসাধ্য। বিশেষত উইকেটের কারণে। মেহেদী অবশ্য আশার আলপনা আঁকা দেখছেন ওখানেই, ‘উইকেট এখনো খেলার অনুপযুক্ত হয়নি। বল অনেক নিচু হয়নি তবে টার্ন আছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়নি; এখানে স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলেই সফল হওয়া যাবে।’ এই যে এত আত্মবিশ্বাস, তার উৎস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে বলেই দাবি মেহেদীর, ‘শ্রীলঙ্কার মাটিতে আমরা একটা টেস্ট জিতেছিলাম। ওখানে দুই শর ওপর রান তাড়া করে জিততে পারলে নিজেদের মাটিতে ৩০০-র বেশি রান তাড়া করে জিততে পারব বলে বিশ্বাস আছে। ওই ম্যাচটিই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিয়ে ভালো খেললে দল ভালো ফল করবে।’ এই উইকেটে ব্যাটসম্যানদের বাড়তি মনোযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘সাধারণ উইকেটের চেয়ে এখানে বেশি মনোযোগ দিয়ে খেলতে হয়। মনোযোগ একটু এদিক-সেদিক হলে বাঁচার কোনো সুযোগ থাকে না। সাধারণ উইকেটে অনেক সময় ভুল করেও বেঁচে যাওয়া যায়। আমাদের ব্যাটসম্যানরা পূর্ণ মনোযোগ ধরে খেলতে পারলে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব।’

আশা! ওটাই তো এখন বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা! স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের কাছে দাবি যে অবিশ্বাস্য আর অকল্পনীয়র সীমারেখা ঘুচিয়ে দেওয়ার! পারবেন তাঁরা?



মন্তব্য