kalerkantho


উদ্‌যাপন সম্পর্কে যা বললেন মমিনুল

সাইদুজ্জামান, চট্টগ্রাম থেকে   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উদ্‌যাপন সম্পর্কে যা বললেন মমিনুল

একসময় পেস বোলিং খেলতে না পারার অভিযোগ ছিল। সবশেষ স্পিনেও আপনার গোলমালের অভিযোগ উঠেছিল। তাহলে কিভাবে রান করছেন?

—(হাসি) আলহামদুলিল্লাহ। সব আল্লাহর রহমত।

একজন ব্যাটসম্যানের আর কী বাকি থাকে? ক্রিকেটে বোলিং হয় দুই ধরনের—পেস আর স্পিন। দুই বিভাগেই যিনি ব্যর্থ, তাঁর তো ক্রিকেট ছেড়ে অন্য কিছুই করার কথা! তবু মমিনুল হক বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান, ২৬ টেস্টে ৪৬.৮৮ গড়ে দুই হাজারেরও বেশি রান করে ফেলেছেন।

পেস কিংবা স্পিন খেলতে পারেন না—কথাটা ঠিক না। তবে কিছু সমস্যা হচ্ছিল, সে তো সব ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারেই ঘুরেফিরে আসে-যায়। সেসব শুধরে ব্যাটসম্যান ক্রিজে গার্ড নেন আরো তৈরি হয়ে। মমিনুল যেমন তাঁর শৈশবের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে নতুন করে দীক্ষা নিয়েছেন সম্প্রতি। তার সুফল, চট্টগ্রাম টেস্টের সাবলীল ১৭৬।

তার চেয়েও জনমনের তীব্র কৌতূহল সেঞ্চুরির পর ওরকম উদ্‌যাপনের ‘লক্ষ্যবস্তু’কে ঘিরে। প্রশ্নটা যে আসবেই, উত্তর দেওয়ার ভঙ্গিতে মনে হলো সে তিনি জানতেনই, ‘স্পেসিফিক কোনো কারণ ছিল না। আপনারা যেভাবে মনে করছেন, সেরকম কিছু না (মুচকি হাসি)। চ্যালেঞ্জটা নিজের কাছেই ছিল, অনেক দিন ধরে ১০০ করতে পারছিলাম না। একটা করতে পারায় অনেক ভালো লেগেছে। দলের সবাই সমর্থন দিয়েছে, আপনারাও (মিডিয়া) সমর্থন দিয়েছেন।’ মমিনুল বললেন বটে, তবে সে উত্তরে তাঁর ব্যাটসম্যানশিপের মতো করে আস্থা কেউ রেখেছেন বলে মনে হয়নি!

তবে এটা ঠিক, টেস্ট সেঞ্চুরি তো উদ্‌যাপন করার মতোই অর্জন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সেঞ্চুরি-বঞ্চনাও কম নয়। এই সময়কালে কম গঞ্জনাও সইতে হয়নি মমিনুলকে। এমন ব্যাটসম্যানের আবেগ তো সেঞ্চুরিতে বস্ফািরিত হবেই! কিন্তু তিনি মমিনুল, বরাবরের ধীরস্থির মানুষ যে বিনা কারণে বাতাসে ঘুষি ছোড়েননি; এমন ইঙ্গিত আগের দিনই দিয়ে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। মমিনুলের উচ্ছ্বাসের কল্পিত লক্ষ্যবস্তু চন্দিকা হাতুরাসিংহেই, যাঁর সঙ্গে এই সফরে একবারই দেখা হয়েছে। টেস্টের জন্য চট্টগ্রামে আসার পথে বিমানে। কথা হয়নি, মজা করে মমিনুলের কাঁধে কনুইয়ের গুঁতো নাকি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ!

গতকাল ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। এর আগেও একবার এই মাঠেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে থেমেছিলেন ১৮১ রানে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে মমিনুল যা বললেন, তাতে বোঝা গেল এখন আর ব্যক্তিগত ল্যান্ডমার্ক নিয়ে ভাবেন না তিনি, ‘নিজের কথা তো ভাবিনি। দলের জন্য আরো কিছু অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগত। তবে যতটুকু পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আরো একটা সেশন খেলতে পারলে ভালো লাগত। আলটিমেটলি এটা তো দলের জন্যই খেলা। আগে নিজের কথা ভেবে খেলতাম। এখন সেশন বাই সেশন খেলার কথা ভাবি, স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাই না। আরেকটা সেশন খেলতে পারলে আমার রান হতো, দলেরও উপকার হতো।’

মমিনুলের ডাবল সেঞ্চুরি মিস করার দীর্ঘশ্বাস কি আর তাতে কমে, বিশেষ করে রঙ্গনা হেরাথের ওরকম নির্বিষ একটা বলে উইকেট দিয়ে আসার পর! নিজের আউট নিয়ে মমিনুলের মনেও তোলপাড় চলছে, ‘এটাকে দুর্ভাগ্য বলব না। বলটা এমন কিছু ছিল না। আমিই মনে হয় একটু বেশি ক্যাজুয়াল ছিলাম। আমার কাছে এটাই মনে হয়েছে।’

অবশ্য একটা ল্যান্ডমার্কই তো আর ক্রিকেট জীবনের একমাত্র আরাধ্য নয়। দীর্ঘ বিরতির পর সেঞ্চুরি যে মসৃণ ইনিংস খেলে পেয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট মমিনুল নিজেও, ‘আপনি যখনই বড় ইনিংস খেলবেন, তখন সন্তুষ্ট হবেন। আমি যদি বলি আমি সন্তুষ্ট না, তাহলে ভুল বলা হবে। আমি যতটুকু খেলেছি আমার কাছে ভালো লেগেছে। যতটুকু হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। হয়তো আরেকটা সেশন খেলতে পারলে ভালো হতো।’

টেস্টের রংবদলের মতো মমিনুলের মনের রংও বদলায় নিজের আউটটির কথা ভেবে, ‘আমার মনে হয় আমার আউটটাই ঝামেলা করে দিয়েছে। এসব উইকেটে আপনি যখন ১৭০ রান করবেন, তখন সবাই মনে করবে আপনি আরো এক-দুই সেশন ব্যাট করবেন। আমি যদি ব্যাট করে লাঞ্চে যেতে পারতাম, তাহলে দলের স্কোর ছয় শ ছাড়িয়ে যেত।’

বাংলাদেশ থেমেছে ৫১৩ রানে। পাল্টা জবাবও দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। তবে চট্টগ্রামের উইকেটে ভালো কিছুর সম্ভাবনাই দেখছেন মমিনুল, ‘আজ সকালে উইকেট কঠিন ছিল না। তবে শেষ দিকে টার্ন করেছে। শেষ স্পেলে তাইজুল ভালো বোলিং করেছে। আমার মনে হয় কাল (আজ) আরো বেশি স্পিন ধরবে। এ ধরনের উইকেটে যত বেশি সময় যাবে তত ফাটল ধরবে, বলও ঘুরবে।’

তেমনটা হলে বারবার ঘুরবে চট্টগ্রাম টেস্টের ভাগ্যও। সেই ‘ভাগ্য’টা নিজেদের দিকে টেনে আনার উপায় জানা আছে মমিনুলের, ‘প্রথম ইনিংসে লিডটা জরুরি। প্রথম সেশনে তিন-চারটি উইকেট নিতে পারলেই লিড নিতে পারব। বোলাররা জায়গামতো বল ফেললে সেটা সম্ভব। আমার ওই বিশ্বাসও আছে।’

 


মন্তব্য