kalerkantho



দুর্ভাগ্যের চৌকাঠে আটকাল সাইফ

২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুর্ভাগ্যের চৌকাঠে আটকাল সাইফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৮ মিনিটে সাইফ প্রলয়ংকরী ঝড় তুলেছিল টিসি স্পোর্টসের গোলমুখে। এলোমেলো ডিফেন্স, বল গিয়ে লাগছে ওর-তার গায়ে, তা না হলে ঠেকে যাচ্ছে ক্রসবারে। টিসির গোলে বল না যাওয়াটাই অবিশ্বাস্য ব্যাপার! তাই দুর্ভাগ্য বন্ধনীতেই আটকে গেল সাইফ স্পোর্টিংয়ের আন্তর্জাতিক অভিষেক। অন্তত সাত-সাতটি গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে তারা শেষ পর্যন্ত ০-১ গোলে হোম-ম্যাচটি হেরে গেছে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের কাছে।

এএফসি কাপের মূল পর্বে ওঠার প্রথম প্লে-অফে সাইফ এক রোমাঞ্চকর অভিষেকের প্রত্যাশায় ছিল। ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত সেই রোমাঞ্চের বাতাবরণ ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে ঘিরে। স্বাগতিক জার্সি শোভিত দর্শকের সারি আর চারদিকের জয়-ইচ্ছার আবহ স্বাগতিকদের এগিয়ে রেখেছিল ফেভারিট হিসেবে। এটাই ‘স্বাগতিক-সুবিধা’, কিন্তু তা যে সাইফ স্পোর্টিংয়ের ওপর চাপ হয়ে আভির্ভূত হতে পারে, সেটা কে জানত। এই চাপে কিনা পুরো প্রথমার্ধ খেলেছে তারা কুঁকড়ে যাওয়া এক দল হয়ে। অনির্দিষ্ট শট আর এলেমেলো খেলায় ফুটবল এমন ছন্নছাড়া রূপ নিয়েছিল, যেন জাহিদ-জামালদের পায়ে ন্যূনতম ফুটবল নেই। তখনই ঘটে যায় ওই গোলের অঘটন। পিছিয়ে পড়া এই সাইফ স্পোর্টিংই আবার বিরতির পর নামে ফুটবলের মনোহরী রূপ নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিট থেকে টানা ১৮ মিনিট সাইফের আক্রমণের তোপে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল মালদ্বীপের ক্লাব দলটি। পুরোটা সময় বল ঘুরেছে তাদের গোলমুখে, আক্রমণের তোপ সামলাতে গিয়ে চোখে সরষে ফুল দেখেছেন ডিফেন্ডাররা। প্রতিটি আক্রমণ যেন গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে মিলিয়ে গেছে হতাশায়। সম্ভাবনার নিরিখে বললে ১৮ মিনিটে হতে পারত ৭ গোল! কিন্তু কিছুই হলো না, অবিশ্বাস্যভাবে তিনটি শট ঠেকিয়ে দিয়েছে ক্রসবার আর কয়েকটি নষ্ট হয়েছে নিজদের ব্যর্থতায়। তাই ম্যাচ শেষে দুর্ভাগ্যের চৌকাঠে মাথা ঠুকেছেন সাইফের ইংলিশ কোচ রায়ান নর্থমোর, ‘তিন-তিনবার বল গিয়ে লেগেছে ক্রসবারে, ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না।’ অসহায়ত্বের মধ্যেও তিনি আশা দেখছেন অ্যাওয়ে ম্যাচে। আগামী ৩০ জানুয়ারি মালে গিয়ে খেলতে হবে, সেই ম্যাচে ২-০ গোলে জিতলে দ্বিতীয় ধাপের প্লে-অফ খেলার সুযোগ থাকবে তাদের।

কিন্তু নিজেদের মাঠে হারে সাইফের এএফসি কাপের প্লে-অফের অঙ্কটা যে বড় কঠিন হয়ে গেল। এসব ক্ষেত্রে সুবর্ণ সুযোগ থাকে নিজেদের মাঠে পয়েন্ট নেওয়া, গোল করার। সেখানে শুরুতেই সাইফ খেলেছে এলোমেলো খেলা আর সেই সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপের ক্লাব এগিয়ে যায় ২৩ মিনিটে। বক্সের বাঁ কোনায় ইশানের বাড়ানো বলটি আয়ত্তে নিয়ে আনাতোলি ডিফেন্ডার সুশান্তকে এক ডজে ছিটকে শটের জায়গা করে নেন। তারপর ৩৯ বছর বয়সী কিরগিজ স্ট্রাইকার ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে পরাস্ত করে এগিয়ে নেন টিসি স্পোর্টসকে। গোল খাওয়ার পরও কিন্তু সাইফের খেলার উন্নতি হয়নি। দেশি-বিদেশি কাউকে আলাদা করে চেনার সুযোগ নেই।

বিরতির পর সেই দলের পরিকল্পিত ফুটবলে খেলা হয়ে ওঠে উপভোগ্য আর গোলের সুযোগ-সম্ভাবনার ছড়াছড়ি হয়। পাশাপাশি সাতবার সম্ভাবনার দীপ নিভে যাওয়ার মতো অলুক্ষণে ঘটনাও ঘটেছে। ৪৬ মিনিটে জাহিদের বদলি নেমে আবদুল্লাহ ফাঁকা পোস্টে শট নিতে পারেননি। অথচ বিপদ দেখে ওদের বদলি গোলরক্ষক ইব্রাহিম নাদিম খাবি খাচ্ছিলেন। ৪৯ মিনিটে সাইফের কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দেজ দিনের বক্সের ভেতর থেকে বলটা রাখতে পারেননি পোস্টে। ৫৭ মিনিটে শেরিংহামের বাড়ানো বলে জামাল ভূঁইয়ার শট গোলরক্ষক ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়েছেন কোনো রকমে। মিনিট দুয়েক বাদে উজবেক মিডফিল্ডার ওমারজনভ আখর পোস্টের সামনে থেকেও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি। এমন সুযোগের পরও বিদেশিদের পায়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গোল। বিশেষভাবে চোখে পড়েছে ইংলিশ স্ট্রাইকার চার্লস শেরিংহামের ব্যর্থতা। সেই তুলনায় ভালো মোহামেডান থেকে ধারে নেওয়া স্ট্রাইকার কিংসলে চিগোজি। কিন্তু সাইফের দুর্ভাগ্যের সঙ্গে যে জড়িয়ে গেছে এই নাইজেরিয়ানের গোল ভাগ্যও। ৬১ মিনিটে তাঁর দুর্দান্ত ব্যাকভলি গিয়ে লাগে ক্রসবারে। পরের মিনিটেই আবদুল্লাহর ফ্রি কিকটিও জালে যায়নি সেই ক্রসবারের বাধায়। ৬৩ মিনিটে দু-তিন ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে আখরের নেওয়া শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে শেরিংহাম ছোট বক্সের বাইরে থেকে উড়িয়ে মেরে আপাত সমাপ্তি টানেন ১৮ মিনিটের ঝোড়ো ফুটবলের। এই সাতটি চমত্কার সুযোগের মধ্যেও বল একবারের জন্যও টিসির জাল না ছোঁয়াটা বিস্ময়কর! সেটা আসলে ছোঁয়ার ছিল না। নইলে ৮১ মিনিটেও কিংসলের আরেকটি হালকা টোকা কেন ক্রসবারে গিয়ে লাগবে!

আসলে যেদিন হওয়ার নয়, সেদিন কোনোভাবেই হবে না। প্রতিপক্ষের গোলমুখে অমন তাণ্ডবের পরও বল গোলে যাবে না। আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচে দুর্ভাগ্যের বলি সাইফ স্পোর্টিং যদি ৩০ জানুয়ারি মালে গিয়ে ভাগ্য ফেরাতের পারে।



মন্তব্য