kalerkantho


কান্নায় বিদায় নাদালের

২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কান্নায় বিদায় নাদালের

চোট কটিয়ে ফিরে মেলবোর্ন পার্কে প্রজাপতির মতো উড়ছিলেন রাফায়েল নাদাল। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছান মাত্র এক সেট হেরে। দুর্ভাগ্য এই স্প্যানিয়ার্ডের। পুরনো চোটটা ফিরে এলো আবারও। গতকাল শেষ আটে মারিন সিলিচের বিপক্ষে প্রথম তিন সেট লড়েছিলেন পাল্লা দিয়ে। এরপর ব্যথায় ডান পা সরছিল না আর। কখনো দাঁড়িয়ে পড়ে তো কখনো চিৎকারে বিরক্তি জানাচ্ছিলেন নিজের ওপর। এই ফিটনেস নিয়ে খেলা সম্ভব নয় বুঝতে পেরে পঞ্চম সেটে ছুড়ে ফেলেন র‌্যাকেট। চেয়ার আম্পায়ারের কাছে জানিয়ে দেন অপারগতা।

চোখের পানি ধরে রাখতে না পারা নাদাল তখন পিছিয়ে ছিলেন ৩-৬, ৬-৩, ৬-৭, ৬-২, ২-০ গেমে। ২৬৪ গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চোটের জন্য মাঝপথে সরে দাঁড়ালেন নাদাল। ২০১০ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমবার সরে দাঁড়িয়েছিলেন অ্যান্ডি মারের বিপক্ষে। নাদালের দুর্ভাগ্য, সেই মেলবোর্ন পার্কে কোয়ার্টার ফাইনালেই পড়লেন ইনজুরিতে! আগের দিন এখানেই চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন ছয়বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ। তারকাদের এমন চোট বেশি আলোচিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজুড়ে।

সেমিফাইনালে মারিন সিলিচের প্রতিদ্বন্দ্বী কাইল এডমুন্ড। তৃতীয় বাছাই গ্রিগর দিমিত্রভকে ৬-৪, ৩-৬, ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন এই ব্রিটিশ। এবারই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে এডমুন্ড। মেয়েদের এককে সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন এলিস মার্তেনস। চতুর্থ বাছাই এলিনা সিভিতোলিনাকে ৬-৪, ৬-০ গেমে হারান র‍্যাংকিংয়ে ৩৭ নম্বরে থাকা এই বেলজিয়ান। অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে সুয়ারেস নভোরাকে ৬-০, ৬-৭, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি।

চোট নিয়ে খেলে গত বছর উইম্বলডন ফাইনালে রজার ফেদেরারে কাছে হেরেছিলেন মারিন সিলিচ। এবার কোর্টের অন্য প্রান্তে একই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রাফয়েল নাদালের। র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা নাদালের জন্য তাই সমবেদনা ঝরল সিলিচের কণ্ঠে, ‘নাদালের জন্য চরম হতাশার ব্যাপারটা। সব সময় সেরাটা খেলার চেষ্টা করে নাদাল। ও লড়ে যাচ্ছিল চোট নিয়েও। এভাবে কোর্ট ছাড়া সব খেলোয়াড়ের জন্য দুঃস্বপ্নের। এখন পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবব আমি। এডমুন্ড দারুণ খেলে পৌঁছেছে সেমিফাইনালে।’ সরে যাওয়ার ব্যাখ্যায় নাদাল জানালেন, ‘ডান পায়ের এই ব্যথা নিয়ে খেললে মৌসুমের বাকি সময়টায় ঝুঁকিতে পড়তাম। খুব খারাপ লাগছে এভাবে সরে দাঁড়িয়ে।’

উন্মুক্ত যুগে কাইল এডমুন্ডের আগে মাত্র পাঁচজন ব্রিটিশ পৌঁছেছেন কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে। টিম হেনম্যান, অ্যান্ডি মারে, জন লয়েড, রজার টেলর, গ্রেগ রুদেস্কিদের কাতারে নাম লিখিয়ে গর্বিত তিনি, ‘উপভোগ করছি সব কিছু। আমার বয়স মাত্র ২৩ বছর। প্রথমবার খেলছি কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে। যত ভালো খেলব ততই সবাই নজর দেবে আমার ওপর। আর সেটাই চাই আমি।’

মেয়েদের এককে সব শেষ বেলজিয়ান হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে খেলেছিলেন কার্স্টেন ফ্লিপকেন্স। তাঁর উইম্বলডন সেমিফাইনাল খেলার চার বছর পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শেষ চারে নাম লিখিয়ে খুশি এলিস মার্তেনস, ‘গ্র্যান্ড স্লামের শেষ চারে খেলাটা বিশেষ কিছু। আশা করছি এখানেই থামব না আমি।’ এএফপি



মন্তব্য