kalerkantho


১০৬ রানের জুটি

‘এই অবস্থার জন্য আমি নিজেকে দায় দেব’

মাসুদ পারভেজ    

২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘এই অবস্থার জন্য আমি নিজেকে দায় দেব’

ছবি : মীর ফরিদ

নিজের শহর বাগেরহাটের ক্রিকেট লিগে একসময় ইনিংস ওপেন করা পেসার রুবেল হোসেন বহুকাল পর আবার তাঁর ব্যাটিংয়ের জন্য প্রশংসিত হলেন। কাইল জারভিসকে সোজা ব্যাটে মারলেন ছক্কা। তবে বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবালকে ছক্কা মারার পরের মুহূর্তটাই মুগ্ধতার আবেশে জড়িয়েছে বেশি। গত রাতের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কথা হাসির ফোয়ারাও তুলে দিল, ‘ছক্কার চেয়ে ফলো থ্রুটাই বেশি ভালো লেগেছে আমার।’

ছক্কা না হওয়া পর্যন্ত ফলো থ্রুতে ব্যাটটা ধরে রেখেছিলেন রুবেল। যেটি তাঁর মতো টেলএন্ডারদের ব্যাটে চড়ে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিকদের দুই শ পার করার প্রতীকী ছবিও হয়ে থেকেছে। কারণ একপর্যায়ে ২৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে দেয় বাংলাদেশ। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের দলটি ১৭০ রানে হারিয়ে বসে ৮ উইকেট। উইকেটে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে অবশিষ্ট নেই আর কেউ। ওই অবস্থায় দুই শ পেরোনোর শঙ্কা জয় করে দলকে শেষ পর্যন্ত ২১৬ রানে পৌঁছে দেন সাঞ্জামুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল।

৩ বাউন্ডারিতে ১৯ রান আসে সাঞ্জামুলের ব্যাট থেকে। আগের ২৪ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে যাঁর সর্বমোট রানই ছিল ১৭, সেই মুস্তাফিজ কালকের এক ইনিংসেই খেলেছেন ২২ বলে ২ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ১৮ রানের ইনিংস। সেই সঙ্গে রুবেলের ৪ বলে জারভিসকে মারা ছক্কায় অপরাজিত ৮ রান। দলের শেষ তিন ব্যাটসম্যান মিলে এনে দেন ৪৬ রান। যে কারণে আবারও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৭৬ রানে আউট হওয়া তামিমের প্রশংসা আদায় করে নিলেন কোচিং স্টাফের সদস্যরাও।

অনুশীলনে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের পর্যাপ্ত ব্যাটিং প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়ার ফলই কাল মিলল হাতেনাতে, ‘টেল এন্ডারদের কথা আপনাকে বলতেই হবে। কৃতিত্বটি কোচরাও পাবেন। কারণ গত এক-দেড় মাসে ওদের প্রচুর পরিমাণে ব্যাটিং অনুশীলন করার সুযোগ করে দিয়েছেন তাঁরা। আর আজ কিন্তু ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মিলেই ৫০ রান করে দিয়েছে। ওরাই আসলে আজকের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’ পার্থক্যই গড়ে দিয়েছেন কারণ তামিমরা জানতেন, ‘আমরা একটি জিনিস বুঝতে পারছিলাম যে ২০০ রানের ওপরে যা-ই করি না কেন, ওই রান তাড়া করে জেতা কঠিন হবে ওদের জন্য।’

তামিমের ব্যাখ্যাও শুনে নেওয়া যাক, ‘যেটা বললাম, উইকেট তো অত সহজ ছিল না। বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাট করাই কঠিন ছিল। একই সঙ্গে ফাস্ট বোলারদের বলেও সিম মুভমেন্ট ছিল। বুঝতেই পারছিলাম ২০০-এর ওপরে করলে সুযোগ থাকবে এবং দ্রুত কিছু উইকেট নিতে পারাটা হবে চাবিকাঠি। শুরুতেই কিছু উইকেটও আমরা তুলে নিতে পেরেছি।’ জিম্বাবুয়ের প্রথম ৪ উইকেটের দুটিই তুলে নেওয়া সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের সঙ্গে ১০৬ রানের পার্টনারশিপে করেছেন ফিফটিও। এরপর ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়ায় টানা তৃতীয় ম্যাচে এই অলরাউন্ডারের ম্যাচ সেরা হওয়াটাও ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু ম্যাচ সেরা হলেন তামিম। যদিও গত বছর কলম্বোয় বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয়ে ম্যাচসেরা হওয়া তামিম নিজের পুরস্কারটি পরে সাকিবের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন। কালও জানালেন পুরস্কারটি যোগ্য ছিলেন সাকিবও, ‘আজও আমার ও সাকিবের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল। কারণ সে-ও ফিফটি করেছিল এবং শুরুতে দুটি উইকেটও তুলে নিয়েছিল। এটা যদি ওর কাছেও যেত, তাহলেও মন খারাপ করতাম না। কারণ আমি মনে করি, সে-ও সমানভাবে এটির যোগ্য ছিল।’ কিন্তু তামিম-সাকিবের ফিফটির পরও পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ। অন্য স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১ উইকেটে ১১২ রান থেকে দুই শর কমে অলআউট হওয়ার ঘোরতর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। টেল এন্ডারদের ব্যাটে চড়ে সেই দুর্ভাবনা আপাতত এড়ানো গেলেও শক্তিশালী ব্যাটিং দলের পক্ষে যা মোটেও ভালো কথা নয়। তামিম সেটি মানলেনও। সেই সঙ্গে ব্যাটিংয়ে পথ হারানোর জন্য নিজের কাঁধে দায়ও নিলেন, ‘এই অবস্থার জন্য আমি নিজেকে দায় দেব। কারণ আমি ততক্ষণে ১০০ বল খেলে ফেলেছিলাম। সিনিয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল অন্তত ৪৫ ওভার পর্যন্ত খেলে আসা। যে সময়ে আমাদের মুশফিক ও রিয়াদ ভাইয়ের উইকেট গেল, তখন যেকোনো নতুন ব্যাটসম্যানের জন্যই এই উইকেটে গিয়ে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। ক্রেমারের বল যেমন একটা স্পিন করেছে, তো আরেকটি সোজা গেছে। সব মিলিয়ে ওকে খেলা কঠিন ছিল। ওই অবস্থায় আমি সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে আরো ছয়টি ওভার (তামিম আউট হয়েছেন ৩৮.১ ওভারে) পার করে দিতে পারতাম, তাহলে ব্যাটিংটা এমন হতো না। আমি ভুল সময়ে, ভুলভাবে আউট হয়েছি।’

তাই টেল এন্ডারদেরও হাল ধরতে হয়েছে এবং এ জন্যই দিনের শেষে রুবেলের ছক্কা নিয়েও এত আলোচনা!



মন্তব্য