kalerkantho


সুসময়ে আরো সতর্ক তামিম

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুসময়ে আরো সতর্ক তামিম

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আর চাই মোটে ৬৬ রান, তাহলেই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ছয় হাজারি ক্লাব খুলে ফেলবেন তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে ১১ হাজার রানে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন বাঁহাতি এই তারকা ওপেনার। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টোয়েন্টি টোয়েন্টি—সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাঁর।

বলার অপেক্ষা রাখে না, টেস্ট এবং ওয়ানডে আর সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি সংখ্যাতেও বাংলাদেশে নাম্বার ওয়ান তামিম ইকবাল। সেই তাঁর কাছে আরেকটি ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার জন্য ৬৬ রানের দাবি কি খুব বেশি? ত্রিদেশীয় সিরিজের সবশেষ দুই ম্যাচেই করেছেন এই দাবির চেয়েও বেশি রান, ৮৪* ও ৮৪। গত এক বছরে ১৪ ওয়ানডেতে তামিমের ব্যাটিং গড়ও ৭৪। তিন ফরম্যাটেই দেশে-বিদেশে যেভাবে রান করছেন তাতে ব্যাটিংটা তাঁর কাছে সহজতম কাজই মনে হওয়ার কথা। কাজটা সহজ মনে হলে আবার মন ঢিলেমিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আশার কথা, বিষয়টি ভালো জানা আছে তামিমেরও, ‘আমি এমন কিছু করে ফেলিনি যে রিল্যাক্স করব। শেষ দুই-তিন বছর ভালো করেছি। ব্যাটিংয়ে মুহূর্তের জন্যও রিল্যাক্স করা সম্ভব নয়। এত দিনে মাইন্ডসেট আর ব্যাটিংয়ের প্রসেসটা মেলাতে পারছি।

এটা বিশ্বাস করি যে শতভাগ দিলে ক্রিকেটের কাছ থেকে সুফল মেলে। আর দেখুন, জীবনের একটা চক্র আছে। সুসময়ের মতো প্রত্যেকের জীবনে দুঃসময়ও আসে। পৃথিবীর সেরা ক্রিকেটারকেও বাজে সময় পার হতে হয়। তাই যখনই সুসময় আসে, তখন সেটাকে যতটা সম্ভব ক্যাপিটালাইজ করা উচিত। আমার এখন ভালো সময় যাচ্ছে। এখন যদি আমি ভাবি যে অনেক তো করেছি, তাহলে খারাপ সময় আসতে দেরি হবে না।’ প্রায় ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিজ্ঞতা থেকে তো আর কম শেখেননি তামিম ইকবাল!

কিন্তু সুসময়ের সবটুকু সৌরভই কি আর পাচ্ছেন তিনি? প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহটা এতই কম ছিল যে ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। সবশেষ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরির সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল, কিন্তু দুর্দান্ত এক ডেলিভারি মুছে দিয়ে গেছে সেই সম্ভাবনা। একটু কি পোড়ায় না তামিমকে? ‘মোটেও না। নিজেকে দুর্ভাগাও মনে করি না। দ্বিতীয় ম্যাচে (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে কারণে সেটা হলো, আমি উইকেট থ্রো করিনি। আমি মারার বলের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, পেলে মেরেছিও। তাতে ইনিংসটা ঠিকভাবে সাজাতে পেরেছিলাম। পুরো ইনিংসটা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু একটা ভালো বলে আউট হয়েছি। সেটা হতেই পারে। উইকেট দিয়ে আসিনি বলেই ভালো লাগছে।’

তামিম ইকবালরা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন তখন বাংলাদেশের কোচ ডেভ হোয়াটমোর। শিষ্যদের তিনি একটা পরামর্শ মুহুর্মুহু দিতেন, ‘নিজের উইকেটের মূল্য বোঝার চেষ্টা করো!’ কিন্তু কে শোনে কার কথা, উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার সে যুগে যদি আজকের মানসিকতা থাকত, তাহলে তামিমের দ্বিগুণসংখ্যক সেঞ্চুরি করে ফেলাটা খুব সম্ভব ছিল। এই উপলব্ধি ব্যাটসম্যানের নিজের। টেস্ট আর ওয়ানডে মিলিয়ে ২৮ বার সত্তরোর্ধ্ব ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানের মনে আরো অন্তত গোটা পনেরো সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ থাকতেই পারে। তামিম ওপেনার বলে আক্ষেপটা কিছুটা বেশিই, ‘আমার নিজের কাছেও খারাপ লাগে। আমার আরো অনেক বেশি সেঞ্চুরি থাকা উচিত ছিল। ওয়ানডেতে ৪০টি ফিফটির সঙ্গে সেঞ্চুরি মাত্র ৯টা, এটা হতাশাজনক।’

আফসোসেরও কি কোনো কারণ নেই? গোটা দল চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকে তামিম ইকবাল যেন ভালো একটা শুরু উপহার দেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ব্যাটিং অর্ডারে যাঁর কোনো নড়চড় হয়নি, ধরে নেওয়া যায় তিনি দলের সে দাবি পূরণও করেছেন। পরিসংখ্যানও তামিমের পক্ষে। তবু কম ম্যাচেই দেখা গেছে তামিমের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে গেছেন অন্য কেউ। প্রসঙ্গটা গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তুলতেই আকর্ণ হাসি তামিমের, ‘আমি একটা ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, আই ওনলি বিলিভ ইন রিওয়ার্ডস, নট অ্যাওয়ার্ডস!’

তবে সেঞ্চুরি, হাজার রানের ক্লাবের ফিতে কাটা থেকে শুরু করে দলের জয়ে অবদান রাখার গৌরব আর সবার মতো ঠিকই প্রভাব ফেলে তামিমের মনে, ‘ওয়ানডেতে ছয় হাজার আর সব মিলিয়ে ১১ হাজার— দুটোই মাইলস্টোন। জানি না বাকিদের কত রান। সাকিবের ১০ হাজার হয়ে গেছে, মুশফিক ৩০০ ওয়ানডে খেলে ফেলেছে— এগুলোর প্রত্যেকটাই অর্জন। ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে আমারগুলো আমাকে ভালো অনুভূতি দেয়। আমরা যখন শুরু করি, তখন এমন অর্জন কারো ছিল না। এই অর্জনগুলো তাই সেলিব্রেট করা উচিত। আবার একদিন দেখবেন পরের প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আমাদের ছাড়িয়ে যাবে, তাদের লক্ষ্যই থাকবে তখন অন্য রকম।’

বোঝা গেল, মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের ড্রেসিংরুমে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য উঁচু লক্ষ্য নির্ধারণ করে যাওয়ারও তাগিদ আছে!


মন্তব্য