kalerkantho


সিটিতে স্বস্তি ফেরালেন আগুয়েরো

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিটিতে স্বস্তি ফেরালেন আগুয়েরো

৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার পর ম্যানচেস্টারের নীল অংশে একটু যে শঙ্কা তৈরি হয়নি তা নয়। সিটিকে আবার পুরনো ছন্দে দেখতেই উন্মুখ হয়ে ছিলেন সমর্থকরা। সের্হিয়ো আগুয়েরোর হ্যাটট্রিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেই স্বরূপই দেখিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। তাতে দ্বিতীয় স্থানের সঙ্গে ১২ পয়েন্টের ব্যবধানটাও ধরে রেখেছে তারা।

এই রাউন্ডে বার্নলির মাঠে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বক্সিং ডেতে আগের লেগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এসে ড্র করে গিয়েছিল শন ডাইসের দল। ২ গোলে তারা এগিয়ে যায়, জোড়া গোল করে ম্যানইউর ত্রাতা হয়েছিলেন জেসে লিনেগার্ড। পরশু বার্নলির মাঠে জয়ের নায়ক অ্যান্থোনি মার্সিয়াল। তাঁর একমাত্র গোলেই এসেছে জয়টি। অন্য ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে আর্সেনালের ৪-১ গোলের জয়ও গানার সমর্থকদের জন্য দারুণ স্বস্তির। অ্যালেক্সিস সানচেজ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কালই পা রেখেছেন ম্যানচেস্টারে। স্বাভাবিকভাবে তাঁকে বাইরে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। নাচো মনরিয়াল, অ্যালেক্স আইওবি, লরা কসিয়েলনি ও আলেক্সান্দ্রে লাকাজেত্তের গোলে এসেছে তাদের বড় জয়। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪-০ করে ফেলে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে লুকা মিলিভোজেভিচ এক গোল শোধ করেন প্যালেসের হয়ে। এই জয়েও অবশ্য আর্সেনাল শীর্ষ চারের বাইরেই আছে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে। তবে ম্যাচ নিয়ে দারুণ সন্তুষ্টি ওয়েঙ্গারের কণ্ঠে, ‘আমরা আমাদের আসল খেলাটা খেলেছি, বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমাদের গতি, বোঝাপড়া ছিল দেখার মতো।’

মার্সিয়ালের ৫৪ মিনিটের গোলে টার্ফ মুর জয় করে সিটির সঙ্গে ব্যবধান তো ৯-এ নামিয়ে এনেছিল ম্যানইউ। কিন্তু সেটি টিকেছে ঘণ্টা কয়েকই মাত্র। ইত্তিহাদে আগুয়েরো শো-য়েই সিটিজেনদের ঘিরে আশা-আশঙ্কার সম্ভাবনা সব উবে গেছে। গার্দিওলা দারুণ খুশি অ্যানফিল্ডে ৪-৩ গোলে হারের ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পেরে, ‘খেলোয়াড়রা দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এমনটাই চাইছিলাম। আমরা সুযোগ তৈরি করেছি, গোল করেছি, ওরা তেমন সুযোগই পায়নি। টানা দুটি বাজে ম্যাচ যায়নি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। মৌসুম শেষে কী হবে জানি না। তবে এই খেলোয়াড়দের ওপর থেকে আস্থা হারানোর কোনো কারণই নেই।’ বার্তা আগুয়েরোর জন্যই সবচেয়ে সুখকর কোনো সন্দেহ নেই। ৩৪ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের ক্রসে হেডে বল জালে জড়িয়ে তাঁর গোলোৎসবের শুরু এদিন ইত্তিহাদে। দ্বিতীয়ার্ধে রহিম স্টার্লিংকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে, পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগান আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। তবে নিউক্যাসলের হয়ে জেকব মারফি ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরালে ইত্তিহাদে অস্বস্তির চোরা হাওয়া বয়ে যায়—আবারও না পয়েন্ট হারায় গার্দিওলার দল। আগুয়েরোই তা হতে দেননি। খেলা শেষ হওয়ার ৭ মিনিট আগে লেরয় সানের বাড়ানো বল ঠিক জালে জড়িয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছেন। গার্দিওলার কাছে দারুণ এক রত্ন এখন এই স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে সেভাবেই প্রশংসা ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘সত্যি আমি দারুণ খুশি আগুয়েরোকে নিয়ে। প্রথম গোলের আগে ও কিন্তু বলে পা-ই ছোঁয়াতে পারেনি। মাঠে প্রথম টাচেই সে গোলটা করেছে। যা ছিল আমাদের জন্য দারুণ এক উপহার। এভাবেই প্রতি ম্যাচে ও গোল করুক, এটাই তো আমাদের একমাত্র চাওয়া।’

লা লিগায় এদিন ভিয়ারিয়ালের জয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ছিটকে গেছে শীর্ষ চারের বাইরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা না পাওয়াটা রিয়াল সমর্থকরা সুদূর কল্পনায়ও তো হয়তো আনতে পারেন না। তবে এই মুহূর্তে তেমন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই তাদের যেতে হচ্ছে। লেভান্তের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে ভিয়ারিয়ালই এখন চারে, কাল দেপোর্তিভোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে ছিল জিনেদিন জিদানের দল। এএফপি


মন্তব্য