kalerkantho


এই দলবদলই শেষ দলবদল নয়

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এই দলবদলই শেষ দলবদল নয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি, ফুটবলের জনপ্রিয়তায় তখনো ভাটা পড়েনি। বরং জনপ্রিয়তায় ফুটবল অন্যান্য খেলার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। তাইতো তরতর করে দর চড়ছে ফুটবলারদের। এমন সময়েই শীর্ষ তিন ক্লাব; আবাহনী, মোহামেডান ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন মিলে ‘জেন্টলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট’ করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নামিয়ে আনে মাত্র পাঁচ লাখ টাকায়! ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটেও প্রথাগত দলবদলের পরিবর্তে প্লেয়ার্স ড্রাফট পদ্ধতি চালু করে ক্রিকেটারদের দর-কষাকষির ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। ফলে সংরক্ষিত হয়েছে ক্লাবগুলোর স্বার্থ আর কম পারিশ্রমিকেই খেলতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। শুধু তা-ই নয়, ড্রাফট থেকে খেলোয়াড় নিলেও রাখা হয়েছে ক্লাবগুলোর ভেতর খেলোয়াড় অদলবদলের নিয়ম। তাইতো ড্রাফটে প্রথম ডাকেই এবারই প্রথম বিভাগ থেকে প্রিমিয়ারে উন্নীত হওয়া শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিলেও এই ক্লাবের জার্সি গায়ে তাঁকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা কম। বরং জোর খবর, খেলোয়াড় অদলবদলের জানালা দিয়ে শাইনপুকুর থেকে আবাহনীতে যাচ্ছেন মাশরাফি।

আইকন ক্যাটাগরিতে থাকা মাশরাফিকে প্রথম সুযোগেই দলে টানে শাইনপুকুর। ড্রাফটে মাশরাফির দর ৩৫ লাখ টাকা। তৃতীয় ডাকে সুযোগ পেয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ দলে নেয় বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে। তাঁর দামও ৩৫ লাখ টাকা। পঞ্চম ডাকে সাকিব আল হাসানকে নিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং আর দশম ডাকে মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদকে দলে নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ড্রাফটের প্রথম রাউন্ডের ডাকে তামিম ইকবালকে কেউ ডাকেনি, দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁকে দলে নেয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। যদিও জোর গুঞ্জন, কলাবাগানে থাকছেন না বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ওপেনার। নিয়মের ফাঁক গলে তিনি পাড়ি জমাতে পারেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে। ছোট বাজেটের দল খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি দলে নিয়েছে আইকন ক্যাটাগরির ক্রিকেটার এনামুল হককে, যাঁর দাম ২৫ লাখ টাকা। শোনা যাচ্ছে, এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকেও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে না খেলাঘরের জার্সিতে। তাঁর সঙ্গে আলোচনা চলছে আবাহনীর। তাই প্লেয়ার্স ড্রাফটের পর দলগুলোর যে চেহারা দাঁড়িয়েছে আর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরের দলগুলোর মধ্যে পরিবর্তন আসতেই পারে। সিসিপিএমের নতুন চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদের কথাতেই আছে সেই সূত্র, ‘আমরা এবার ক্লজ রেখেছি যেখানে দুটি ক্লাব ইচ্ছা করলে আলোচনার ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের বদল করতে পারবে।’

লিগের মাঝের খানিকটা সময় জাতীয় দলের বা আইকন খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে না। তখন তাঁরা শ্রীলঙ্কা যাবেন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব তাই আইকনদের ছাড়াই দল গড়েছে। ড্রাফটে আইকনদের ডাকার সুযোগ পেলেও প্রথম ডাকে তারা নিয়েছে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল হোসেন অপুকে। আগের মৌসুমের দল থেকে জিয়াউর রহমান, নুরুল হাসান, সোহাগ গাজী, ইলিয়াস সানী ও তানভীর হায়দারকে ধরে রেখেছিল শেখ জামাল। এবার প্রথমেই নাজমুলকে নেওয়ার পর বিপিএলে ভালো করা পেসার আবু জায়েদকে নিয়েছে তারা। দলের ম্যানেজমেন্টর পক্ষে প্লেয়ার্স ড্রাফটে আসা ইশতিয়াক সাদেক জানিয়েছেন, পছন্দের খেলোয়াড় না পাওয়াতেই কোচ সারোয়ার ইমরানের পরামর্শে এই পথে হেঁটেছে শেখ জামাল, ‘আমরা নাসির কিংবা মাশরাফিকে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাদেরকে আমাদের আগেই অন্য দল ডেকে নিয়েছে। তাই আমরা আইকন ছাড়াই দল করেছি। বিপিএলে নাজমুল রংপুর রাইডার্সে ভালো করেছে। তা ছাড়া লিগের মাঝপথে আইকনদের অনেককেই পাওয়া যাবে না। তাই কোচ এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ শেখ জামালের প্রাথমিত লক্ষ্য সুপার লিগ নিশ্চিত করা।

শেষ পর্যন্ত যদি শাইনপুকুরেই থেকে যান মাশরাফি, তাহলে তারুণ্যনির্ভর একটা দলকেই নেতৃত্ব দিতে হবে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে। দলে অন্য দুই চেনা মুখ সাইফ উদ্দিন ও শুভাগত হোম। এ ছাড়া উঠতি ক্রিকেটার বেশ কয়েকজনকেই পাবেন দলে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলছেন তৌহিদ হৃদয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ভালো করা সাদমান ইসলামও আছেন এই দলে। কলাবাগানে তামিম যদি শেষ পর্যন্ত থেকে যান, তাহলে তামিম সঙ্গী হিসেবে পাবেন বাংলাদেশের নন্দিত-নিন্দিত ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে। এ ছাড়া চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে তামিমের জাতীয় দল সতীর্থ আবুল হাসানও আছেন কলাবাগানে। সেই তুলনায় খেলাঘরে এনামুল হয়তো ভুগবেন খানিকটা নিঃসঙ্গতায়। নাফিস ইকবাল ছাড়া চেনামুখ যে আর কেউ নেই সেখানে! মোহামেডানে সাকিব সতীর্থ হিসেবে পাবেন তাইজুল ইসলাম, শামসুর রহমানদের।


মন্তব্য