kalerkantho


কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ রাসেল

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ রাসেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবাহনী প্রথম ম্যাচে বিজেএমসিকে হারানোয় কাল শেখ রাসেলের সামনে দুয়ার খোলাই ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার। বিজেএমসিকে টানা হারের স্বাদ দিয়ে সেই সুযোগটা পুরোপুরিই কাজে লাগিয়েছে তারা। ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে আবাহনীকে নিয়েই তারা উঠে গেছে শেষ আটে। মোহামেডান তা পারেনি, রহমতগঞ্জের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অপেক্ষা গড়িয়েছে গ্রুপের শেষ ম্যাচে।

রাসেল একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে খেলেছে বিজেএমসির বিপক্ষে। কিন্তু নানাভাবে গোলবঞ্চিত হচ্ছিল তারা। মোনায়েম খানের ফ্রিকিক যেমন আর ইঞ্চিখানেক নিচ দিয়ে গেলেই জাল ছুঁতো। খালেকুর জামানের শট তো ক্রসবারেই লেগে ফিরে আসে। ছোট বক্সের ওপর বল পেয়েও ভলিটা পোস্টে রাখতে পারেনি সৈয়দ রাশেদ তুর্য। তাতে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবেই। দ্বিতীয়ার্ধেও গোল পেতে পেতে ৩৫ মিনিট। অর্থাৎ ম্যাচের বাকি তখন আর মিনিট দশেক, ডান দিকে বল পেয়ে মেহবুব হাসান ছোট্ট স্প্রিন্টে বক্সে ঢুকে ডজে এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে জায়গা করেন, এরপর তাঁর বাঁ পায়ের প্লেসিং দূরের পোস্ট দিয়ে। ঝকঝকে এক গোল। ওই সময়ে ওই গোলে জয়ের ঠিকানা আঁকা হয়ে গেছে মনে করাই হচ্ছিল। কিন্তু মিনিট পাঁচেক পরই নিজেদের ভুলে সেই লিড হারায় রাসেল। বক্সের ওপর ফ্রিকিক পায় বিজেএমসি। আব্দুল্লাহ পারভেজের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফেরার পর রবিনের ফিরতি শট লাগে রাসেল অধিনায়ক মোনায়েমের হাতে— রেফারি অন্তত সে সিদ্ধান্তই দিয়েছেন। মোনায়েমের প্রতিবাদ কানে তোলেননি। পেনাল্টিতে রবিনই বল জালে পাঠিয়েছেন।

তাতে স্বাধীনতা কাপে আরেকটি ড্র ম্যাচের আয়োজন সারা। কিন্তু রাসেলের সামনে যে কোয়ার্টারে ওঠার হাতছানি। ৯ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই গোল করে সেই আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন বদলি নামা সবুজ বিশ্বাস। বাঁ দিক থেকে খালেকুর জামানের ক্রসে প্রথম সুযোগে পা ছোঁয়াতে পারেননি আলমগীর রানা, পেছন থেকে উঠে এসে সবুজ সেই মিস বলই জালে পাঠিয়ে দিয়েছেন জোরালো এক শটে। ‘সি’ গ্রুপে আবাহনী-শেখ রাসেলের শেষ ম্যাচটি এখন তাই গ্রুপ সেরা নির্ধারণী।

‘এ’ গ্রুপে শেষ ম্যাচ খেলবে শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ। সে ম্যাচে যে-ই জিতুক ২ পয়েন্ট পাওয়া মোহামেডানকে নিয়েই তারা যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে ড্র হলে তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ২। সেই জটিলতায় না গিয়ে মোহামেডান কাল নিজেদের ভাগ্যটা নিজেরাই গড়ে নিতে পারত। কিন্তু সাদা-কালোর হয়ে এদিন গোল করার লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি। আগের ম্যাচে দারুণ সমন্বয় করে খেলা জাহিদ হাসান-মিথুন চৌধুরী জুটি এদিন নিষ্প্রভ। জাহিদকে তো প্রথমার্ধ শেষে তুলেই নেওয়া হলো। রহমতগঞ্জ সমানভাবে আক্রমণ শানিয়েছে সাদা-কালোর প্রান্তে। ৩৫ মিনিটে রাশেদুল ইসলামের শট মোহামেডান গোলরক্ষক মামুন খান পা বাড়িয়ে না ফেরালে তখনই তারা এগিয়ে যায়। মোহামেডান এমন পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পুরো ম্যাচে। গ্রুপের শীর্ষে থেকেও নকআউট পর্বের জন্য তাই আরেক ম্যাচ অপেক্ষা করতেই হচ্ছে তাদের। ফরাশগঞ্জ সবার আগে শেষ আট নিশ্চিত করেছে, তাদের পরই কাল শেখ রাসেলের সঙ্গে আবাহনী উঠল কোয়ার্টার ফাইনালে।


মন্তব্য