kalerkantho


তামিমের ১১ হাজার

সেঞ্চুরির আক্ষেপ নাকি ফিফটির তৃপ্তি?

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সেঞ্চুরির আক্ষেপ নাকি ফিফটির তৃপ্তি?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যা যা পেয়েছেন, এর চেয়ে বরং তামিম ইকবালের বেশি মনে থাকে কী কী তিনি পাননি। বিশেষ করে সেঞ্চুরির আনন্দের চেয়ে বেশি মনে থাকে অনেকবার তা পেতে পেতেও না পাওয়ার বেদনা। সেই হিসাবে বেশিই মনে থাকার কথা ত্রিদেশীয় সিরিজে গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা ইনিংসটির কথাও।

যেটি সেঞ্চুরিতে পরিণত হওয়াটা ছিল কেবলই সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু অফ স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থামলেন ৮৪ রানে। ৮০ পেরিয়ে এমন সেঞ্চুরি বঞ্চনায় পোড়া ইনিংসগুলোর ফিরিস্তি তামিম একে একে গড়গড় করে বলেও দিতে পারেন। গত বছর মার্চে ডাম্বুলায় এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই নিজের অষ্টম সেঞ্চুরির পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন আরো সাত-আটটি সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপের কথাও। হোক সেটি বছর দশেক আগে খেলা কোনো ইনিংস। তামিম স্পষ্ট বলে দিতে পারেন কখন, কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে সেঞ্চুরির স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে এসেছিলেন। যেমন বলে দিতে পারেন সেই ২০০৮ সালে নিজের শহর চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ছক্কা মারতে গিয়ে ৮২ রানে আউট হয়ে এসেছিলেন। একই শহরে ছক্কা মেরেই সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর তাগিদে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন ৯৫ রানে। ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তান সিরিজেও একাধিক সেঞ্চুরির মুখ দেখতে পারতেন। পারেননি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮০ রানে আউট হওয়ায়।

শেষ নয়, আরো আছে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির চৌকাঠে পা রেখেও তা আর শেষ পর্যন্ত ডিঙানো হয়নি তামিমের। ২০১৫-র বিশ্বকাপে নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও তো ৯৫ রানে আউট হওয়ার বেদনায় নীল হতে হয়েছে বাঁ-হাতি এই ওপেনারকে। যত সেঞ্চুরি করেছেন, তার সমানসংখ্যক হেলায়ও হারিয়ে এসেছেন বলে ঠিক করেছিলেন নিজেকে ঘষেমেজে বদলাবেন। নিজেকে বদলেছেনও। সে জন্যই ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান বলে স্বীকৃত তামিম নিজেকে গুটিয়ে নিতেও শিখেছেন। তাই শুরু থেকেই চড়াও হতে জানা এ ওপেনার শিখেছেন ধরে খেলতেও।

দলের প্রয়োজনও তাতে মিটছে দারুণ। সুবাদে বেড়েছে ব্যাট হাতে তামিমের ধারাবাহিকতাও। ধারাবাহিকতায় সাফল্যের হার বাড়লেও তেমন বাড়েনি সেঞ্চুরির সংখ্যা। ডাম্বুলায় গত বছর যে ম্যাচে তাঁর অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন, এরপর খেলা ১৩ ওয়ানডের ১২ ইনিংসে সেঞ্চুরি একটিই। অথচ হতে পারত তা একাধিক। এই ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকার ব্যাপারটি না হয় বাদই দিলেন। জিম্বাবুয়ে যথেষ্ট রান করতে পারেনি বলেই সেঞ্চুরি করার সুযোগ কম ছিল। বাদ দিন গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে খেলা ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিকদের বিপক্ষে একটি ম্যাচের কথাও। যে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ার সময় ৩১.১ ওভারে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ১৫৭ রান আর তামিম ব্যাট করছিলেন ৬৪ রানে।

সেঞ্চুরি করার জন্য অফুরন্ত সময়ও ছিল হাতে। কিন্তু বিরূপ প্রকৃতি তা হতে দেয়নি। সে জন্য আফসোস করারও কিছু নেই। কারণ এটি তো আর তাঁর হাতে ছিল না। তবে নিজের হাতে থাকার পরেও সবশেষ ১২ ইনিংসে আরো অন্তত দুটি সেঞ্চুরি মিস করেছেন তামিম। এর একটি গতকাল। আরেকটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ওভালেই আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন। পরের ম্যাচে সেঞ্চুরি সংখ্যা দুই অঙ্কে যেতে যেতেও যায়নি, আউট হয়েছিলেন ৯৫ রানে। কাল আবার সেই দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ফিরলেন বলে আরেকটি উপলক্ষ উদ্‌যাপন পেল না ভিন্ন মাত্রা।

কী সেটি? বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (তিন ফরম্যাট মিলিয়ে) ১১ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন কালই। একই ম্যাচে ৬৩ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের হয়ে ১০ হাজার পেরিয়েছেন সাকিব আল হাসানও। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-সাকিবের ৯৯ রানের পার্টনারশিপ বড় স্কোরের ভিতও দিয়েছে বাংলাদেশকে। গত বছর ডাম্বুলায় তামিমের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ম্যাচেও চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ বাংলাদেশকে দেখিয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৫ উইকেটে ৩২৪ রানের ইনিংস।

কাল সেটিও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। জোর সম্ভাবনা ছিল তামিমের ওয়ানডে সেঞ্চুরির সংখ্যা দুই অঙ্কে যাওয়ারও। এর কোনোটিই হয়নি যদিও, তবু পরিসংখ্যান কিন্তু তামিমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারছে না কিছুতেই। কারণ সবশেষ ১২ ইনিংসে যে তিনি একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে করেছেন ছয়-ছয়টি ফিফটিও। সেঞ্চুরি না বাড়লেও যা হয়ে আছে তামিমের ধারাবাহিকতা বাড়ার সাক্ষ্যপ্রমাণও!


মন্তব্য