kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

খেললে আমি বীরের মতো খেলেই চলে যাব

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খেললে আমি বীরের মতো খেলেই চলে যাব

২০১৪-র আগস্টে তিনি খেলেছেন সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর পর থেকে জাতীয় দলে অপাঙেক্তয় হয়ে গেলেও আব্দুর রাজ্জাক ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই ফুটিয়ে গেছেন পারফরম্যান্সের ফুল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গতকাল পৌঁছালেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটের মাইলফলকেও। সেই অর্জন নিয়েই কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি এ বাঁহাতি স্পিনারকে অভিমানাহতই মনে হলো

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : ৫০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছানোর তাত্ক্ষণিক রোমাঞ্চটা জানতে চাচ্ছি।

আব্দুর রাজ্জাক : ভালো লাগার বিষয় অবশ্যই। তবে ভেতরের অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল।

প্রশ্ন : দুই দিন আগেই তুষার ইমরান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করলেন। তিনি পাঁচ হাজার হওয়ার পর আট হাজার, আট হাজার হওয়ার পর ১০ হাজারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। আপনিও কি এভাবেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন?

রাজ্জাক : না ভাই, আমি এভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করে খেলিনি কখনোই। একবার জানলাম উইকেট ৪০০ হয়েছে। আর এবার বিসিএল শুরুর আগে জানলাম ৫০০ হতে আর ১০ উইকেট বাকি আছে।

প্রশ্ন : ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই পারফরম করে চলেছেন। এই পারফরম্যান্স দিয়ে কী বার্তা দিচ্ছেন?

রাজ্জাক : এই বার্তাই দিচ্ছি যে আমি এখনো খেলছি এবং ভালো খেলছি। এই ভালো খেলে যাওয়ার মধ্যে মানসিক শান্তিও আছে। ব্যস, এটুকুই।

প্রশ্ন : এই অর্জনের দিনে মনের কোণে দুঃখও লুকিয়ে থাকার কথা। তাই না?

রাজ্জাক : সত্যি কথা বললে এখন আর দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। দুঃখ পেলে দুঃখই বাড়বে শুধু। তার চেয়ে ভালো যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলুক। যখন দেখব যে ভালো খেলতে পারছি না বা উপভোগ করছি না, তখন শেষ টেনে দেব। 

প্রশ্ন : অভিমানাহত রাজ্জাক তাহলে আশা ছেড়ে দিয়েই বসে আছে?

রাজ্জাক : সেটা ছাড়িনি। আশা ছেড়ে দিলে কি আর খেলতে পারতাম?

প্রশ্ন : ঘরোয়া ক্রিকেটে গণ্ডায় গণ্ডায় উইকেট নেওয়ার পরও কি মনে হয় না যে একটা সুযোগ আপনার প্রাপ্য?

রাজ্জাক : আমার মনে করা বা না করায় কী আসে যায়! প্রথম কথা হলো জাতীয় দলের ব্যাপারটি আমার হাতে নেই। এটা পুরোপুরি ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার।

প্রশ্ন : তবু জাতীয় দলে খেলা নিয়ে আপনার এখনকার স্বপ্নটা জানতে চাই।

রাজ্জাক : অন্য সব ক্রিকেটারের যা স্বপ্ন, আমারও তাই। কিন্তু আগেও বলেছি, ওটা আমার হাতে নেই। হ্যাঁ, কখনো যদি একটা সুযোগ দেয়, চেষ্টা করব নিজের সাধ্যমতো খেলার।

প্রশ্ন : একবার তো আপনার কাছে এমন প্রস্তাবও এসেছিল যে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়ার। আবার যদি এ রকম কোনো প্রস্তাব আসে?

রাজ্জাক : আমিও চাই না এ রকম কোনো প্রস্তাব আসুক। খেললে বীরের মতো খেলেই চলে যাব।



মন্তব্য