kalerkantho


জয়ে শুরু আবাহনীর, জামালের ড্র

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জয়ে শুরু আবাহনীর, জামালের ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী স্বাধীনতা কাপেও ছুটছে একই গতিতে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাল বিজেএমসিকে হারিয়েছে তারা ২-০তে। তবে রানার্স-আপ শেখ জামাল আটকে গেছে মোহামেডানে। ১-১ গোলে শেষ হয়েছে দুই দলের ম্যাচ।

লিগে জামালের বড় শক্তি ছিল বিদেশি তিন ফরোয়ার্ড। স্বাধীনতা কাপে তাঁদের অনুপস্থিতিতে দলটি সেই আক্রমণাত্মক চেহারা হারিয়েছে। মোহামেডান গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদের ভুলের সুযোগে নুরুল আবছার তবু জামালকেই এগিয়ে দিয়েছিলেন শুরুতে। দ্বিতীয়ার্ধে মোহামেডান ম্যাচে ফেরে জাহিদ হাসান এমিলির দুর্দান্ত এক হেডে। ক্যারিয়ারের শেষ বেলা দেখছেন এই স্ট্রাইকার। কিন্তু কাল মিথুন চৌধুরীর বাঁকানো ফ্রিকিকে চোখের পলকে যেভাবে মাথা ছুঁইয়েছেন তাতে আরেকবার নিজের জাত চিনিয়েছেন দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলা এমিলি।

পরের ম্যাচে আবাহনীর জয়ের নায়ক নাবিব নেওয়াজ। সানডে বা এমেকা না থাকার সুযোগটা দারুণ কাজে লাগিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। ম্যাচের ২৩ মিনিটে রায়হান হাসানের লং থ্রুতে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছেন। এই এক গোলেই জয়ের পথে থাকা আকাশি-নীলের হয়ে ৮৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়েছেন আতিকুর রহমান। বক্সের ওপর নাবিবের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে আচমকা পেছনে ঠেলেছিলেন রুবেল, উঠে এসে সেই বলেই পা চালিয়েছেন আতিকুর। বিজেএমসি গোলরক্ষকের তা রোখার সাধ্য ছিল না। প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়াতে পারত আবাহনী সাদ উদ্দিনের ক্রসে রুবেল মিয়ার হেড ঠিক নিশানায় থাকলে। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতর দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েও উড়িয়ে মেরে সেই সুযোগ নষ্ট করেছেন এই উইঙ্গার। পরে তাঁর অ্যাসিস্টেই এলো জয় নিশ্চিত করা গোলটি। আব্দুল্লাহ পারভেজের ফ্রিকিকে ম্যাচে প্রথম সুযোগটা এসেছিল অবশ্য বিজেএমসিরই। আবাহনীর এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জালে ঠেলেছিলেন প্রায়, ক্রসবারে লেগে সেই বল বেরিয়ে যায়। প্রথম গোল খেয়ে সমতা ফেরানোর জন্য তাদের মরিয়া চেষ্টাও সফল হয়নি, ম্যাচের নাটাইটা থাকে আবাহনীর হাতেই। ওয়ান অন ওয়ানে মোহাম্মদ রবিন একবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু তাঁকে হতাশ করেছেন শহীদুল।

আগের ম্যাচে শেখ জামালের এগিয়ে যাওয়া গোলটাতে ভাগ্যের ছোঁয়া সন্দেহ নেই। তবে মোহামেডান গোলরক্ষক রাসেলের মিস থ্রো ধরে আবছার বক্সের ভেতর এক ডিফেন্ডার কাটিয়েই বল জালে পাঠিয়েছেন। তাতে কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন আবছারও। লিগে রাফায়েল, সলোমনের পাশে নিয়মিতই খেলেছেন আবছার। স্বাধীনতা কাপেও দলে নিজের প্রয়োজনীয়তাটা আরেকবার বুঝিয়েছেন তিনি। মোহামেডানের ফরোয়ার্ড লাইনে এদিন এমিলির সঙ্গে মিথুন চৌধুরী নিজেকে আবার নতুন করে চিনিয়েছেন। ম্যাচের শুরুতেই জামালের দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে নেওয়া তাঁর কোনাকুনি শট বেরিয়ে গেছে পোস্ট ঘেঁষে। দ্বিতীয়ার্ধেও বক্সে বেশ কয়েকবার হুমকি হয়েছেন তিনি। তবে জামাল ডিফেন্স লাইন সেটি সামাল দিয়েছে বেশ ভালোভাবেই। এ গ্রুপে শেখ জামাল, মোহামেডানের সঙ্গে অন্য দল রহমতগঞ্জ। আগামীকাল মোহামেডান খেলবে তাদের বিপক্ষে। জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচ ২৪ জানুয়ারি। গ্রুপের দুই দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। জামাল আর মোহামেডানই তাতে ফেভারিট। তবে আবাহনী প্রথম ম্যাচ জিতে শেষ আটের পথে এগিয়ে গেছে অনেকটাই। পরের ম্যাচ খেলবে তারা শেখ রাসেলের বিপক্ষে।


মন্তব্য