kalerkantho



‘সেঞ্চুরি’র আগে মিরপুর

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘সেঞ্চুরি’র আগে মিরপুর

ফুটবলের সঙ্গে দেনদরবারে আদি স্থান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে মিরপুরে সরে আসে ক্রিকেট। ঘটা করে একদা ফুটবলের জন্য তৈরি এই স্টেডিয়ামের নামকরণ হয় শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, ক্রিকেটমহল ভালোবেসে নাম দিয়েছে ‘হোম অব ক্রিকেট’। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর আজ এ মাঠেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে শততম ওয়ানডে ম্যাচ। সাধারণত এ-জাতীয় ল্যান্ডমার্ক উদ্‌যাপনে স্বাগতিক দলের অংশগ্রহণ থাকে। তবে মিরপুরের আজকের উদ্‌যাপনে নেই বাংলাদেশ দল, মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। এর পরও এ মাঠ সাফল্যের স্মারক হয়েই আছে, থাকবে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের। জানাচ্ছেন রাহেনুর ইসলাম


প্রথম ওয়ানডে

২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়ায় মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে। বাংলাদেশ ম্যাচটা স্মরণীয় করেছিল জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়ে। টস হেরে ফিল্ডিং নেন বাংলাদেশি অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। ৪৭.২ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। মাশরাফি বিন মর্তুজা ৬.২ ওভারে ১৪ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। সমান ২টি করে উইকেট সাকিব আল হাসান, শাহদাত হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাকের। জবাবে ম্যাচসেরা আফতাব আহমেদের ৬৯ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় হার না মানা ৫৮ রানের ইনিংসে ৩২.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান অপরাজিত ছিলেন ৬৫ বলে ৩১ রানে।

৯৯তম ওয়ানডে

কাকতালীয়ভাবে মিরপুরের ৯৯তম ওয়ানডের প্রতিপক্ষও বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। এ বছরের ১৫ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথম ম্যাচের মতো এবারও টস জিতে ফিল্ডিং নেন বাংলাদেশি অধিনায়ক। ৪৯ ওভারে মাত্র ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান ৩, মুস্তাফিজুর রহমান ২ ও রুবেল হোসেন নেন ২ উইকেট। জবাবে ৮ উইকেটের দাপুটে জয়ই পায় বাংলাদেশ। ২৮.৩ ওভারে লক্ষ্যটা পেরিয়ে যায় তামিম ইকবালের হার না মানা ৮৪ রানের ইনিংসে। সাকিব আল হাসান করেছিলেন ৩৭। এই ভেন্যুতে আজ শততম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে থাকলেও দর্শক বাংলাদেশ।

 

সাকিবের ১০৬ উইকেট

উইকেটে সেঞ্চুরির কীর্তি কেবল সাকিব আল হাসানের। এখানে ৭৪ ম্যাচ খেলে তাঁর শিকার ১০৬ উইকেট। গড় ২৪.৯৩ আর ইকোনমি রেট ৪.০৮। ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন অবশ্য একবারই। ৫৭ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৫ উইকেট মাশরাফি বিন মর্তুজার। বিদেশিদের মধ্যে পাকিস্তানের উমর গুল ১৪ ম্যাচে নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি ২৫ উইকেট।

 

রানের চূড়ায় তামিম

মিরপুরে শততম ওয়ানডের আগে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড তামিম ইকবালের। ৭২ ম্যাচে ৩৪.৬২ গড়ে ২৩৮৯ রান তাঁর। সেঞ্চুরি ৫ আর ফিফটি করেছেন ১৪টি। ৭৪ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৫১ রান সাকিব আল হাসানের। বিদেশিদের মধ্যে ১৪ ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ৭৮৬ রান বিরাট কোহলির।

 

বাংলাদেশ ৪ নিউজিল্যান্ড ০

অনেক ইতিহাসেরই সাক্ষী মিরপুর। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ হয়েছে এখানে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনাল। ২০১৫ সালে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে ওয়ানডে সিরিজ। এসবের মধ্যেও জ্বলজ্বলে স্মৃতি হয়ে আছে ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা। বৃষ্টিতে একটা ম্যাচ পণ্ড হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজ জেতে ৪-০ ব্যবধানে। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে মিরপুরে মাত্র ১৭৪ রানে গুটিয়ে যায় সাকিব আল হাসানের দল। ওই ম্যাচও বাংলাদেশ জেতে ৩ রানে। ম্যাচসেরা রুবেল হোসেন ৯.৩ ওভারে ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কিউইদের গুটিয়ে দেন ১৭১ রানে।

 

❏‌  ২০০৬ সালে প্রথম ওয়ানডের ১১ বছর পর শততম ওয়ানডে মাঠে গড়াতে চলেছে আজ। এত দ্রুত সময়ে ১০০ ওয়ানডে হয়নি কোনো ভেন্যুতেই।

 

❏‌  মিরপুরে সবচেয়ে বেশি ৮৪ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। ভারত ২২ আর জিম্বাবুয়ে খেলেছে ২০ ম্যাচ।

 

❏‌  এই ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি ৭৯ ওয়ানডে খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৪ ওয়ানডে সাকিব আর ৭২ ওয়ানডে খেলেছেন তামিম ইকবাল।

 

❏‌  ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ভারতের ৩৭০ এই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ।

 

❏‌  ২০১৪ সালে ভারতের ১০৫ রানের জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৫৮ রানে।




মন্তব্য