kalerkantho


উড়াল

আবার একসঙ্গে কৌতিনিয়ো-সুয়ারেস

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আবার একসঙ্গে কৌতিনিয়ো-সুয়ারেস

সেই সব দিন ছিল বটে! ন্যু ক্যাম্পের ড্রেসিংরুমে বসে অ্যানফিল্ডে একসঙ্গে কাটানো আঠারোটি মাসের গল্প হয়তো এভাবেই করবেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো আর লুই সুয়ারেস। দুজনেই তো একটা সময় ছিলেন লিভারপুলে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে, লিভারপুলকে গত ২০ বছরে শিরোপার সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার সময়টায় দুজনে লড়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। এরপর কত কিছুই তো হয়ে গেছে বিপুলা এই পৃথিবীতে। ২০১৮-র প্রথম সপ্তাহে এসে ফের একই দলে দুজনে। হোক না লালের বদলে নীল-মেরুন, ফের তো এক হওয়া!

গুজব, জল্পনা, কল্পনা সব কিছুর হয়েছে অবসান। লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় চলে এসেছেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। চলতি মৌসুমের বাকি সময়টাসহ আরো পাঁচ মৌসুম বার্সেলোনার হয়েই খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ড (১৬০ মিলিয়ন ইউরো) ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে লিভারপুল থেকে তাঁকে দলে এনেছে বার্সেলোনা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার হাতবদল কৌতিনিয়োকে করেছে ট্রান্সফার ফির অঙ্কে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ দামি ফুটবলারে। কৌতিনিয়োর বাই-আউট ক্লজ রাখা হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ইউরো। তাঁর বর্তমান ও বিদায়ী, দুই ক্লাবেরই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে তাঁর আগমন ও বিদায়ের খবর।

লিভারপুল কর্তৃপক্ষ ক্লাব ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, কৌতিনিয়োকে দল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অলরেডদের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ মৌসুমের মাঝপথে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়ে জানিয়েছেন, ‘তীব্র অনিচ্ছা নিয়ে বলতে হচ্ছে, কাছের বন্ধু, দারুণ একজন মানুষ ও অসাধারণ ফুটবলার কৌতিনিয়োকে বিদায় দিতে হচ্ছে। সে যে জুলাই থেকেই অন্য কোথাও যেতে চাইছিল, সেটা কোনো গোপন বিষয় ছিল না। সে খুব করে চাইছিল বার্সেলোনায় যেতে। তবু আমরা তাকে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে যেতে দিইনি।’ লিভারপুলের সমর্থকদের ক্লপ জানিয়েছেন, ‘খেলোয়াড়রা আসবে-যাবে, কিন্তু এটাই ফুটবল। ক্লাব হিসেবে আমরা আরো বড় একটি সত্তা। গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়কে হারালেও আমরা আরো আগ্রাসী হয়েই এগিয়ে যাব।’ দীর্ঘ খোলাচিঠিতে ক্লপ এভাবেই আশ্বস্ত করেছেন সমর্থকদের। সেই সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, যারা লিভারপুলের অফিশিয়াল স্টোর থেকে কৌতিনিয়োর নাম ও জার্সি নাম্বার লেখা ২০১৭-১৮ মৌসুমের জার্সি কিনেছিলেন, তাদের প্রত্যেককে ৫০ পাউন্ডের ভাউচার ফেরত দেওয়া হবে।

কৌতিনিয়ো ও সুয়ারেস একসঙ্গে লিভারপুলে খেলেছেন ৪৫টি ম্যাচ। ২০১৩-১৪ মৌসুমেই ৩৩টি প্রিমিয়ার লিগে আর তিনটি এফএ কাপের ম্যাচে একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন সুয়ারেস। ওই মৌসুমটা স্মরণীয় হয়ে আছে সুয়ারেসের জন্য, সেবারই তো ৩১ গোল করে ক্যারিয়ারের প্রথম ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছিলেন উরুগুইয়ান এই স্ট্রাইকার। আর শেষের কয়েকটা সপ্তাহ বাদ দিলে তো বেশির ভাগ সপ্তাহেই লিগ টেবিলের শীর্ষে ছিল লিভারপুল, শেষটায় ম্যানচেস্টার সিটির কাছে পিছিয়ে না পড়লে হয়তো জেতা হয়ে যেত প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও।

২০০৮ থেকে পেশাদারি ক্যারিয়ারের শুরু কৌতিনিয়োর। ব্রাজিলের দল ভাস্কো দা গামায় শুরু, সেখান থেকে ইন্টার মিলান হয়ে এস্পানিওলে কিছুদিন কাটিয়ে লিভারপুলে খেলছেন ২০১৩ সাল থেকে। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাবের হয়েই লিগ শিরোপা জেতা হয়নি কৌতিনিয়োর। ক্লাবে সর্বোচ্চ অর্জন ২০১০-১১ মৌসুমে ইন্টারের হয়ে ইতালিয়ান কাপ ও ইতালিয়ান সুপার কাপের শিরোপা। তবে খেলোয়াড় হিসেবে সব সময়ই এই মানদণ্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে কৌতিনিয়ো। অবশ্য বার্সেলোনায় প্রথম মৌসুমেই হয়তো লিগ না জেতার আক্ষেপটা ঘুচে যাবে কৌতিনিয়োর, কারণ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১ ম্যাচ কম খেলেও যে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে বার্সেলোনা। তাদের এবারের লিগ জেতার সম্ভাবনাটা জোরালো। তবে লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় উঠে আসায় চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমে ‘কাপ-টাইড’ হয়ে গিয়ে খেলতে পারবেন না কৌতিনিয়ো। কোপা দেল রেতে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে বা লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচেই অভিষেক হতে পারে কৌতিনিয়োর। তার আগে লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বা মাঝপথে হয়তো তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে বার্সা ভক্তদের সঙ্গে।

অন্যদিকে নেইমারকে বিক্রির ২২২ মিলিয়ন বার্সেলোনার অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর ক্লাবের কোষাগার ফুলে-ফেঁপে ওঠার কথা থাকলেও উল্টো বড় অঙ্কের ঘাটতি! মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি, উসমান দেম্বেলেকে ন্যু ক্যাম্পে আনা ও সবশেষ কৌতিনিয়োর ট্রান্সফার ফি মিলিয়ে ৩৬০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে কাতালানরা। এই ঘাটতি মেটাতে অনেক খেলোয়াড়কে বিক্রি করেই খরচ উঠিয়ে আনার কথা ভাবছে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। ক্লাব ওয়েবসাইট, মেট্রো



মন্তব্য