kalerkantho


যুব গেমসেও জেলার খেলার রুগ্ণ ছবি

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যুব গেমসেও জেলার খেলার রুগ্ণ ছবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাতীয় যুব গেমসে সারা দেশে খেলাধুলার রুগ্ণ চিত্রটাই ফুটে উঠেছে। মোট ২১টি ডিসিপ্লিনে হচ্ছে এ আসর। কিন্তু আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় কোথাওই ১৩টির বেশি ডিসিপ্লিনে খেলা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত দল না থাকায় হকি, বাস্কেটবল, শ্যুটিং, আর্চারিসহ সাতটি ডিসিপ্লিন হবে না কোনো বিভাগেই। ঢাকায় সরাসরি চূড়ান্ত পর্ব হবে এগুলোর।

হকিতে দল গড়েছে মাত্র ১৬টি জেলা। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে কোনো দলই নেই। শ্যুটিংয়ে জেলার সংখ্যা মাত্র পাঁচ। তিনটি বিভাগে তাদের কোনো দল নেই। শ্যুটিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় ধরা হয় যে আর্চারি, তাতেও জেলার সংখ্যা মাত্র ৯, তিন বিভাগে কোনো খেলাই হয় না। বাস্কেটবলেও তেমনি মাত্র আট জেলার অংশগ্রহণ এবারের যুব গেমসে। আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩টি ডিসিপ্লিনে খেলা হচ্ছে খুলনায়, ঢাকায় হবে মাত্র ১১টি ডিসিপ্লিন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে, মাত্র ছয়টি ডিসিপ্লিনে খেলা হবে সেখানে।

গত ১৮ ডিসেম্বর জেলাগুলোয় উপজেলা দল নিয়ে শুরু হয় যুব গেমসের প্রথম পর্ব। জেলা চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে হবে এখন বিভাগীয় প্রতিযোগিতা। কিন্তু এই বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় জেলা দলগুলোর অংশগ্রহণই দেখিয়ে দিচ্ছে দেশে খেলাধুলার রুগ্ণ চিত্রটা। গেমসে সবচেয়ে বেশি ৫৩টি জেলা অংশ নিয়েছে অ্যাথলেটিকসে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ ফুটবলে ৫১টি। অর্থাৎ এই দুটি বাদে ৫০টির বেশি জেলার অংশগ্রহণ নেই কোনো খেলায়ই। ৪০- এর বেশি জেলা খেলছে মোট চারটি ডিসিপ্লিনে। ফুটবল, অ্যাথলেটিকসের সঙ্গে ওই দুটি ডিসিপ্লিন হলো ব্যাডমিন্টন ও কাবাডি। আর দেশের মো্ট জেলার অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণ মাত্র ছয়টি জেলায়। আগের চারটির সঙ্গে এখানে যুক্ত হচ্ছে ভলিবল ও সাঁতার। অর্থাৎ মোট ২১টি ডিসিপ্লিনের ১৫টিতেই অংশ নিচ্ছে না সারা দেশের অর্ধেক জেলা। এই চিত্র দেখে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, ‘অংশগ্রহণের এই অবস্থা দেখেই সারা দেশের খেলাধুলার প্রকৃত চিত্রটা উঠে আসছে। আমার প্রশ্ন ফেডারেশনগুলো সারা বছর তাহলে করে কী?’

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো হচ্ছে যুব গেমস। দেশব্যাপী বাংলাদেশ গেমস হয়েছে এ পর্যন্ত আটবার। সিনিয়র সেই অ্যাথলেটদের উঠে আসার জন্য যুব গেমসের জন্য যে একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার, এটিই এত দিন ভাবেনি কেউ। শাহেদ রেজা প্রথমবারের মতো এই গেমস আয়োজন করে খেলাধুলার প্রকৃত চিত্রটা তুলে ধরতে পারাতেই দেখেন নিজেদের সফলতা, ‘প্রকৃতপক্ষে গেমস আয়োজন করা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাজ নয়। আমাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আছে, ক্রীড়া পরিষদ আছে। তাদেরই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা। কেউ কিছু করছে না বলেই এবার আমরা যুব গেমস আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। তাতে করে তৃণমূলে অন্তত একটা নাড়া তো পড়ল!’

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে বেশির ভাগ ফেডারেশনই জেলাগুলোকে উৎসাহিত করতে না পেরে ক্লাব ও সংস্থাগুলোর দিকে ঝুঁকছে। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া জাতীয় আর্চারিতেই তো দেখা গেছে ৩২টি দলের মধ্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাত্র তিনটি। যে অ্যাথলেটিকসে এবার ঝোঁক দেখা গেছে যুব গেমসে, জাতীয় অ্যাথলেটিকসেও ফেডারেশন এতগুলো জেলাকে সম্পৃক্ত করতে পারে না। অথচ দিন দিন অপ্রচলিত নতুন নতুন খেলায় নতুন নতুন অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে ক্রীড়া পরিষদ। যুব গেমসের মঞ্চ সেই অগণিত অনুমোদিত ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডকে কি প্রশ্নবিদ্ধ করছে না?



মন্তব্য