kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

আমার মেয়েদের অর্জন এখন সবার

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমার মেয়েদের অর্জন এখন সবার

মফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশে নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রার শিকড় খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবে এ নাম। যে কলসিন্দুর স্কুল বঙ্গমাতা ফুটবল মাতিয়ে জাতীয় দলে দেশসেরা সব খেলোয়াড়কে উপহার দিয়েছে, তিনি সেই খেলোয়াড়দের কারিগর। কলসিন্দুর স্কুলের এই শিক্ষক এবার পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির তৃণমূলের সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের পুরস্কার। কাল পুরস্কার নিতে এসে কথা বলেছেন তিনি কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আপনার হাতে গড়া মেয়েরা এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মাতাচ্ছে, ভাবতে কেমন লাগে?

মফিজুল ইসলাম : আসলে আমি প্রথম যখন শুরু করেছিলাম, তখন ভাবতে পারিনি এত দূর এগোতে পারব বা এত সাফল্য আসবে। তবে সাফল্য আসবে— এটা আমার ধারণায় ছিল। কারণ আমাদের বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিভা, সামর্থ্যে এগিয়ে অনেক। কিন্তু তারা সেভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল না। আমার মনে হয়েছিল, ওদের নিয়ে কাজ করলে ওরা আমাকে হতাশ করবে না। কাজ শুরু করার পর ২০১১-১২ সালে আমার তেমন সাফল্য আসেনি, ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া পর্যন্তই শেষ। এরপর ২০১৩ সাল থেকে শুরু, টানা তিন বছর আমরা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হই। এরপর তো ওরা জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে সাফল্য পেল, এশিয়ার সেরা আট দলের একটি হয়ে খেলে এলো থাইল্যান্ডে। এখন তো বাংলাদেশের নারী ফুটবল মানেই কলসিন্দুর।

প্রশ্ন : এই মেয়েদের এবার সাফ জিততে দেখে আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছে?

মফিজুল : শুধু সাফ না, প্রতিটা টুর্নামেন্টে, প্রতিটা খেলায় ওরা যখন জেতে, গর্বে আমার বুক ফুলে যায়। আর এটা শুধু আমার একার আনন্দ না, সারা বাংলাদেশের জন্য তা বড় অর্জন হয়।

প্রশ্ন : আপনার কী মনে হয়, যে পথটা আপনি দেখিয়ে দিয়েছেন সেই পথ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এমন আরো ‘মফিজ স্যার’ এখন তৈরি হচ্ছে, যাঁরা মেয়েদের ফুটবল নিয়ে কাজ করতে এখন অনুপ্রাণিত?

মফিজুল : হ্যাঁ, এ রকম অনেকেই হচ্ছে, আমার জানা মতে সাতক্ষীরার আকবর ভাই, রংপুরের মিলন, জাকির মেম্বার—ওরা কাজ করছে। এরপর রাঙামাটিতে শান্তি চাকমাও কাজ করছে, ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েদের ফুটবলও এগিয়েছে। সিলেটের জৈন্তাপুরে নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেও মেয়েদের খেলা শুরু হয়েছিল, তবে ওরা এখন অনেকটা পিছিয়ে গেছে।

প্রশ্ন : মেয়েদের নিয়ে কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে আপনার মূল চ্যালেঞ্জটা কী ছিল?

মফিজুল : মূল চ্যালেঞ্জটা ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মেয়েদের ফুটবল খেলাটা বৈধ না। আর সামাজিকভাবেও এটা মেনে নেওয়া হয় না। মেয়েদের ঘরকন্নার কাজে দেখতেই আমরা অভ্যস্ত। তারা ফুটবল খেলবে, এটা আবার কেমন কথা—এমন একটা মনোভাব সমাজে আছে। সে জন্য মেয়েদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের আমার বোঝাতে হয়েছে।



মন্তব্য