kalerkantho


তামিম-মাহমুদের ব্যাটিং প্র্যাকটিস

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তামিম-মাহমুদের ব্যাটিং প্র্যাকটিস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর ৯টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির একটিই কেবল দেড় শ পেরিয়েছে। সেই ২০০৯ সালের আগস্টে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা তামিম ইকবালের ১৫৪ রানের ইনিংস অবশ্য ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের কারো ব্যক্তিগত সর্বোচ্চও। নতুন বছরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে খেলা দিবারাত্রির প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করে এই বাঁহাতি ওপেনার যা বললেন, তাতে মনে হলো এবার বড় ইনিংস খেলারই লক্ষ্য নির্ধারণ করে বসে আছেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচ যেহেতু, তাই সেঞ্চুরির পর অন্যদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিতে অবসর নিয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজার সবুজ দলের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের লাল দলের ওপেনার ১১৯ বলে ১০৪ রান করে ফিরে আসার সময় যে ইনিংসের অনেক ওভার তখনো বাকি।

প্রস্তুতি ম্যাচের সেঞ্চুরি এখানেই তামিমের কাছে হয়ে উঠেছে আরো বেশি স্বস্তিদায়ক, ‘ম্যাচ পরিস্থিতিতে লম্বা ইনিংস খেলা দরকার ছিল, তাই সতর্ক হয়ে ব্যাটিং করেছি। আরো ভালো লাগছে এই ভেবে যে আমার সেঞ্চুরিটা হয়েছে ৩০তম ওভারে। তখনো আরো ২০ ওভার বাকি। তার মানে আমার সামনে আরো বড় ইনিংস খেলার সুযোগ ছিল।’ অন্যদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিতে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলেও আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজে বড় ইনিংস খেলার আত্মবিশ্বাসের পুঁজি অন্তত তাঁর মিলেছে। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার ম্যাচে তামিম দেখেশুনে খেলে ইনিংস বড় করায় মনোযোগী হলেও মাহমুদ উল্লাহ ছিলেন এর উল্টো। ঝোড়ো ব্যাটিং করেছেন তিনি। ৭৫ বলে খেলেছেন ৮৭ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। তামিমের ইনিংসে ১০ বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল দুটি ছক্কার মার। আর মাহমুদ উল্লাহর ইনিংসে বাউন্ডারির (৩) চেয়ে ছক্কার (৫) সংখ্যাই বেশি। মাঝখানে অন্যরা কেউ তেমন সুবিধা করতে না পারলেও তাই সবুজ দলের বোলাররা লাল দলের বড় ইনিংস গড়ার পথে বাধা হতে পারেননি। তামিম-মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে লাল দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে দাঁড় করায় ৩২০ রানের বিশাল সংগ্রহ।

যে রান তাড়া করতে নামা সবুজ দল বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার (৩/৫১) ও রুবেল হোসনের (৩/২১) বোলিংয়ে ৪৩.২ ওভারে ১৮৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে হেরেছেও ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে লাল দলের অধিনায়ক সাকিব আউট হয়েছেন ৩৬ বলে ২৪ রান করে। খেলেননি পুরো ম্যাচও, ব্যাটিংয়ের পরই স্থানীয় এক হোটেলে যান বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার নিতে। তবে কাল তাঁর রানের চেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে নামা। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম ওয়ানডেতে তিনে ব্যাট করা সাকিবের আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজেও একই জায়গায় নামার ইঙ্গিত বলা যেতে পারে কালকের প্রস্তুতি ম্যাচটিকে। বিপিএল টি-টোয়েন্টিতে রানে না থাকা মুশফিকুর রহিম প্রস্তুতি ম্যাচেও রানহীন। লাল দলের এই ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন কোনো রান না করেই। তাসকিনের করা মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান। তবে প্রস্তুতি ম্যাচ বলে এরপর তিনি ব্যাটিংয়ে নেমেছেন সবুজ দলের হয়েও। দ্বিতীয় চেষ্টায় অবশ্য ৫৮ বলে সবুজ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এনামুল হক (বিজয়) এদিন লাল দলের হয়ে ওপেন করতে নেমে আউট হয়েছেন ২০ বলে ২১ রান করে। শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বছরের প্রথম দিনই নানাবিধ দণ্ড পাওয়া সাব্বির রহমান করেছেন ১৯ রান। শেষ দিকে আবুল হাসানের ১৯ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসও লাল দলের তিন শ পার করে নেওয়ায় রেখেছে দারুণ ভূমিকা। সবুজ দলের হয়ে পেসাররাই নিয়েছেন সবগুলো উইকেট। দুটি করে উইকেট মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও সাইফউদ্দিনের।



মন্তব্য