kalerkantho


অমলেশকে শিরোপা উৎসর্গ

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অমলেশকে শিরোপা উৎসর্গ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেখ জামাল ম্যাচে ফেরার বদলে শেষ মুহূর্তে উল্টো গোল খেয়ে বসল। ২-০ করা সানডের সেই গোলেরও খেলা মিনিটখানেক বাকি। কিন্তু আবাহনী গ্যালারির সমর্থকদের থামাবে কে, গ্যালারি পেরিয়ে শুধু নয়, মাঠেই ঢুকে পড়ল তারা। সানডেকে কাঁধে তুলে শুরু হয়ে গেল মাতামাতি। অনেক কষ্টে তাদের সরিয়ে খেলাটা আবার শুরু করতে হয়েছে রেফারিকে। কিন্তু তাতে ভিন্ন কিছু আর কী হবে। দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ নিয়েও পুরো সময়ে আবাহনীর জালে বল পাঠাতে পারেনি শেখ জামাল। শেষের ওই মিনিটখানেকে হতাশার অন্ধকারই শুধু জড়িয়ে নিতে হয়েছে তাদের। হাজার তিনেক সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে আবাহনীর খেলোয়াড়রা ভেসেছেন আলোর বন্যায়।

তাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ নাসিরউদ্দিন চৌধুরী। ক্যারিয়ারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। কাল আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। নাসিরের উচ্ছ্বাস তাই মাপা, ‘আমার কাজই তো এটা। আর আবাহনী কখনোই একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। প্রয়োজনের মুহূর্তে সবাই জ্বলে উঠেছে।’ কোচ দ্রাগো মামিচ চলে যাওয়ার পর সাবেক ফুটবলার ও ম্যানেজার সত্যজিৎ দাসের ওপর গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে। গোলরক্ষক কোচ আতিকুর রহমানকে সামনে রেখে পেছনে তাঁর মস্তিষ্কও কাজ করেছে সমানভাবে। পেশাদার লিগে এটি আবাহনীর ষষ্ঠ শিরোপা। স্বাধীনতার পর থেকে ১৭তম। ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ধসে গেছে। কিন্তু আশ্চর্য দৃঢ়তায় আকাশি-নীল তাদের ঝাণ্ডা উড়িয়ে রেখেছে ঠিকই। এমন উৎসবের মাঠে রূপু তাই দম্ভ ভরে ঘোষণা করতে পারেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আবাহনীই সেরা দল।’

রূপুর মতো এই আবাহনীর প্রাণের মানুষ হয়ে ছিলেন অমলেশ সেন। অনেক বন্ধুরতায় রূপু-অমলেশ আবাহনীকে ঠিক পার করে দিয়েছেন। পেশাদার লিগের শিরোপা উৎসবে এই প্রথমবারের মতো নেই অমলেশ। গত অক্টোবরে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের এই কিংবদন্তি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। আবাহনী ম্যানেজার এবারের শিরোপাটা তাই উৎসর্গ করেছেন সেই প্রিয় অমলেশ সেনকেই, ‘এই দিনটাতে দাদাকে আমরা খুব মিস করছি। আজ আমরা তাঁর জন্যই খেলেছি। এই জয়টাই তাই তাঁকেই উৎসর্গ করছি আমরা।’ তাঁর কথার প্রতিধ্বনি সিনিয়র খেলোয়াড় প্রাণতোষ কুমার আর ম্যাচের নায়ক নাসিরউদ্দিনের কণ্ঠে, ‘এই মুহূর্তে অমলেশদা থাকলে তাঁর খুশি মুখটা কেমন হতো এখনো মনের ছবিতে দেখতে পাচ্ছি। সত্যি দাদাকে আজ খুব মিস করছি।’ নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে আবার এমন উৎসবের দিনেও সমালোচনা করতে ছাড়েননি ক্লাব ছেড়ে যাওয়া কোচ দ্রাগো মামিচের, ‘উনিই ছিল সমস্যা। মামিচ চলে যাওয়ার পর দলটা বরং আরো শিরোপামুখী হয়েছে।’ গোলরক্ষক কোচ আতিকুর ও ম্যানেজার রূপু অন্তত সেই কৃতিত্ব নিতেই পারেন মামিচকে দায় না দিয়েও।



মন্তব্য