kalerkantho


ক্লাবের ইচ্ছাজালেই প্রিমিয়ার লিগ

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ক্লাবের ইচ্ছাজালেই প্রিমিয়ার লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) নেতৃত্বে পরিবর্তন হতে পারে, তবে বিসিবির এই বিভাগের কর্মপদ্ধতি অপরিবর্তিত। বরং কাজী ইনাম আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রথম ঘোষণাতেই ঘটেছে ঢাকার ক্লাবগুলোর ইচ্ছার চূড়ান্ত প্রতিফলন। গতকাল সিসিডিএম কার্যালয়ে প্রিমিয়ার ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সবচেয়ে জমজমাট ক্লাব ক্রিকেটের আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন কমিটির নতুন চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ।

‘বোর্ড সভাপতি নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ যেন চলমান মৌসুমেই শেষ করা হয়। সে মতে জানুয়ারির শেষ কিংবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলাম। জানুয়ারিতে করা যায়নি মাঠ স্বল্পতার কারণে। তবে এরই মধ্যে জাতীয় লিগ শেষ হয়েছে। ৮-২৪ জানুয়ারি বিসিএল। তাই ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে প্রিমিয়ার লিগ’, গতকালের সভার পর এক অর্থে সুখবরই দিয়েছেন কাজী ইনাম। গত কয়েক মৌসুম ধরে তো প্রিমিয়ার ক্রিকেট হয়েছে প্রচণ্ড গরমে!

সুখবর দিয়ে শুরুর পরের অংশে খেলোয়াড়দের জন্য দুঃসংবাদই বেশি। প্লেয়ার্স ড্রাফট নিয়ে বরাবরই নাখোশ ক্রিকেটাররা। গত মৌসুম থেকে পড়েছে প্রতিটি ক্লাবের দুজন করে পুরনো খেলোয়াড় ধরে রাখার নিয়ম। কাজী ইনামের অধীনে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের প্রথম মৌসুমে ‘রিটেইনড’ খেলোয়াড়ের সংখ্যা ২ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫! তাতে ক্লাবপিছু বাড়তি তিন ক্রিকেটারের সামনে এ মৌসুমে পারিশ্রমিক বাড়ানোর সুযোগ আর রইল না। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতেই হবে ক্রিকেটারদের। এই ‘নিষ্ঠুরতা’র পক্ষে সিসিডিএম চেয়ারম্যানের যুক্তি, ‘আগের বছরও কিন্তু দুজনকে রিটেইন করা হয়েছিল। এই মৌসুমের বিপিএলেও কিন্তু রিটেনশনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। পাঁচজনকে রিটেইন করার ব্যাপারে ক্লাবগুলোরও সম্মতি আছে। বেশিসংখ্যক ক্রিকেটার ঘরে রাখতে পারলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুবিধা হবে বলে মনে করছে ক্লাবগুলো।’

অবশ্য পুরনো ক্লাবের এই ‘ধরে’ রাখার শিকল পরছে না মাশরাফি-সাকিবদের মতো তারকাদের পায়ে। এ+ এবং এ ক্যাটাগরির ১২ জন ক্রিকেটারকে যে রাখা হয়েছে রিটেনশনের বাইরে! দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের রাখা হবে প্লেয়ার্স ড্রাফটে। তবে ‘প্রাইসট্যাগ’ থাকবে খ্যাতিমানদের। সেটি গতকাল কাজী ইনাম আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রিমিয়ারে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে সর্বনিম্ন তিন লাখে সীমাবদ্ধ থাকবে। আর যথারীতি প্লেয়ার্স ড্রাফটে নাম ওঠা কারোরই পছন্দের ক্লাব বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই, মাশরাফি-সাকিবদের বেছে নেবে ক্লাবগুলোই। যদিও ২০ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের নিলামের আগেই তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাকা কথা হয়ে গেছে অনেক ক্লাবের, নিজের দল গড়ার প্রক্রিয়াতেও যুক্ত হয়ে গেছেন কেউ কেউ!

প্লেয়ার্স বাই চয়েস আর মূল্যমানের শৃঙ্খল পরানোর পর ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষার দিকটিও নজরে আছে সিসিডিএমের। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ নিয়ে ঢাকাই ক্লাবগুলোর গড়িমসির খবর নতুন কিছু নয়। তাই গতবারের মতো এবারও সতর্ক সিসিডিএম চেয়ারম্যান, ‘যেসব পুরনো খেলোয়াড় রাখতে চায় ক্লাবগুলো, সেসব নাম দলবদলের আগেই সিসিডিএম বরাবর জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশও আগাম পরিশোধ করতে হবে ক্লাবকে। একইভাবে দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে নেওয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকেরও অর্ধেক শোধ করতে হবে। তা না হলে কোনো ক্লাব খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে না।’ এরপর আরো দুটি ধাপে খেলোয়াড়দের পাওনা শোধ করতে হবে ক্লাবগুলোকে। আসর শেষ হওয়ার আগে আরো ২৫ শতাংশ এবং আসর শেষে বাকি ২৫ শতাংশ পাওয়ার বিধান এবার রেখেছে সিসিডিএম। এই ‘আসর শেষে’র সময়সীমা অবশ্য জানাননি সিসিডিএম চেয়ারম্যান।

প্রিমিয়ারে নবাগত শাইনপুকুর ও অগ্রণী ব্যাংক। তাই দলবদলে প্রথমেই পাঁচজন করে ক্রিকেটার দলে নেওয়ার সুযোগ পাবে এই দল দুটি। তাই বলে এ+ এবং এ ক্যাটাগরি থেকে একজনের বেশি ক্রিকেটার দলে নেওয়ার সুযোগ পাবে না তারাও।

এদিকে প্রিমিয়ারের পাশাপাশি দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট শুরুরও তারিখ ঘোষণা করেছেন কাজী ইনাম, ‘২০ জানুয়ারি থেকে ২৩টি দলকে নিয়ে শুরু হবে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট। তার আগে এই বিভাগের দলবদল অনুষ্ঠিত হবে ১০ জানুয়ারি।’ প্রিমিয়ার আর দ্বিতীয় বিভাগের ডামাডোলের মাঝে প্রথম ও তৃতীয় বিভাগ কি উধাও হয়ে গেল? এই উৎকণ্ঠা সিসিডিএম সভাপতি মুছেছেন দেশীয় ক্রিকেট অবকাঠামোর চিরায়ত একটি দুর্বলতায়, ‘আমাদের হাতে পর্যাপ্ত মাঠ নেই। তাই প্রথম বিভাগ শুরু হবে প্রিমিয়ারের পরে। আর দ্বিতীয় বিভাগ শেষে হবে তৃতীয় বিভাগ। তবে মাঠ পেয়ে গেলে আগেই শুরু হতে পারে ওই লিগ দুটি।’


মন্তব্য