kalerkantho


ভরসার কাবাডি এখন ব্রাত্য

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২০১০-এ ছেলেদের ক্রিকেট দলের সোনা জয় বাদ দিলে এশিয়ান গেমসে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ডিসিপ্লিন ছেলেদের কাবাডি। সাতবারের অংশগ্রহণে তিনটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ তাদের। ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তির আগে ১৯৮৬ সালে বক্সার মোশাররফ হোসেনের এক ব্রোঞ্জ ছাড়া গেমসে বাংলাদেশের ৩৯ বছরের অংশগ্রহণের ইতিহাসে আর কোনো পদকই ছিল না কোনো ডিসিপ্লিনে। কাবাডির ছেলেরাই দেশের আশা-ভরসার বাতিটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। দুটি আসরে তাদের অবনমনে সেই কাবাডি দলকে কিনা এবার ছেঁটে ফেলারই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল বিওএ (বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন)!

বলা হচ্ছে এটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেটাও ক্রীড়াঙ্গনে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। গত শনিবার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বিওএর কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় জাকার্তায় অনুষ্ঠেয় আগামী এশিয়ান গেমসের জন্য প্রাথমিকভাবে ১১টি ডিসিপ্লিন বাছাই করা হয়েছে, তাতে নেই পুরুষ কাবাডির নাম। খবর শুনে এটিকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য মনে করেছেন সাবেক কাবাডি খেলোয়াড় ও কোচ আব্দুল জলিল, ‘গত দুটি গেমসে ছেলেদের দল সাফল্য পায়নি ঠিক। তার মানে এই নয় তারা পাবেও না। কাবাডিতে এখনো বাংলাদেশ বড় শক্তি। আর এটা তো আমাদের জাতীয় খেলা, এশিয়ান গেমস থেকে এই কাবাডিকে আমরা বাদ দিই কী করে? ফেডারেশনের উচিত এটা নিয়ে বিওএর সঙ্গে এখন আলোচনায় বসা।’

বিওএ যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার আগে ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রয়োজন বোধ করেনি। এশিয়ান গেমসে সাফল্যের বিবেচনায় অন্য কোনো ফেডারেশন না হোক কাবাডি নিশ্চয় সেই দাবি রাখে। তারা তো জাকার্তার আসর সামনে রেখে মাসখানেক ধরে প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। বিওএ শেষ পর্যন্ত তাদের এমন সিদ্ধান্তে অটল থাকবে তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক খেলোয়াড় আব্দুল হক, ‘আমরা এখনো ক্যাম্প চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ যতটুকু জানি বিওএ এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। কাবাডির রেকর্ড বিবেচনায় তারা নিশ্চয় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেবেও না।’ উল্লেখ্য, ছেলেদের দল না থাকলেও জাকার্তার আসরে রাখা হয়েছে মেয়েদের কাবাডি। ২০১০-এ মেয়েদের কাবাডি যুক্ত হয় এশিয়ান গেমসে। তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই ইভেন্টে বাংলাদেশ গত দুটি আসরেই ব্রোঞ্জ জিতে নিয়েছে। এদিকে ছেলেদের কাবাডিতে বাংলাদেশের একটা সময় দাপট থাকলেও এখন জাপান, কোরিয়া ও ইরানের উত্থানে পদকের লড়াইটা কঠিন। বাংলাদেশের এখন নাম প্রত্যাহার মানে তো তাদের পোয়াবারো। যদিও বিওএ ছেলেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেরার সুযোগ না দিয়ে তাদের ছেঁটে ফেলারই সিদ্ধান্ত নিয়ে।

শনিবারের সভায় মেয়েদের ফুটবল দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে মেয়েরা এখন এশিয়ার সেরা আট দলের মধ্যে। তারা নিজেদের যোগ্যতায়ই আগামী এশিয়াডে খেলার দাবি রাখে। কিন্তু ছেলেদের ফুটবল দলকে বাদ দেওয়াটা পুরুষ কাবাডির মতোই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দলের সাফল্য নেই ঠিক। কিন্তু বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ছেলেদের ফুটবল এখন আশা জাগাচ্ছে। আর অলিম্পিকে তো খেলবে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে সাফ মাতানো জাফর, সুফিলরা সেই আসরে নিজেদের দেখার স্বপ্ন তো দেখতেই পারেন। প্রাথমিকভাবে ঠিক করা ১১টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে মেয়েদের ফুটবল ও মেয়েদের কাবাডি ছাড়াও আছে হকি, শ্যুটিং, সাঁতার, কুস্তি, বাস্কেটবল, ব্রিজ, গলফ, বিচ ভলিবল ও আর্চারি। লম্বা এই তালিকায় ছেলেদের কাবাডি না থাকাটাই বেশি বিস্ময়ের। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জিয়াউর রহমানেরও দাবি, ‘বিওএ তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক। এশিয়ান গেমসে ছেলেদের কাবাডি না থাকাটা মানা যায় না।’



মন্তব্য