kalerkantho


ছোট ছোট লক্ষ্যেই স্বপ্নের বুনন

সামীউর রহমান   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছোট ছোট লক্ষ্যেই স্বপ্নের বুনন

২০১৭ সালটা ভালোয়-মন্দয় মিশিয়েই কেটেছে মাহমুদ উল্লাহর। শততম টেস্টের আগে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে খানিকটা গোলমাল বেধেছিল কোচের সঙ্গে ক্রিকেটারদের। আবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অমন রূপকথার জয়ে শতরানের গৌরবময় মুহূর্তও আছে স্মৃতির অ্যালবামে। দ্বিতীয়বারের মতো খুলনা টাইটানসকে নেতৃত্ব দিয়ে বিপিএলের শেষ চারে তোলার কৃতিত্বও যেমন আছে, তেমনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের চৌকাঠ থেকে ফিরে আসার আক্ষেপও আছে। নতুন বছরে তাঁর প্রত্যাশার কথা জিজ্ঞেস করায় উত্তর এলো খুব সাদামাটা। কিন্তু সাধারণের ভেতরই যে অসাধারণের বাস! মাহমুদ উল্লাহর এই সাধারণ সাদামাটা দৃষ্টিভঙ্গিটাই হয়তো তাঁকে নিয়ে এসেছে আজকের অবস্থানে।

ব্রহ্মপুত্রপারের ঐতিহ্যবাহী শহর ময়মনসিংহ। পুরনো শহর হলেও বেশ নিস্তরঙ্গ। ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো নিরন্তর নাগরিক ছোটাছুটি নেই। জয়নুল আবেদিনের শহরের ছেলে মাহমুদ উল্লাহও বোধ হয় ধারণ করেছেন সেই স্থিতধী মানসিকতা। বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজ, নতুন কোচ, বাংলাদেশের দেশের বাইরে অনেক সফর—সব মিলিয়ে কী ভাবছেন জানতে চাইলে সহজ উত্তর, ‘আমি আসলে এত জটিল করে কিছু ভাবছি না। কিংবা বলতে পারেন আমি এত জটিল করে দেখি না কোনো কিছু, সব কিছু সহজ সরল রাখতে পছন্দ করি।’ তাই নতুন বছরে তাঁর প্রথম প্রত্যাশা ফিট থাকা, ‘সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। আমরা যারা পেশাদার ক্রীড়াবিদ, তাদের কাছে ফিট থাকাটা সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। কারণ ফিট না থাকলে কিছুই করা সম্ভব হবে না। তাই সবার আগে চাই নতুন বছরটায় যেন ফিট থাকি।’ এরপর ব্যক্তিগত লক্ষ্যের ব্যাপারে জানালেন, ‘ভালো খেলাটাই লক্ষ্য। ভালোর তো নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। নিজে ভালো খেলা, সেই ভালো খেলায় দলের উপকৃত হওয়া—এই সবই প্রত্যাশা।’ সেই প্রত্যাশাকে কোনো ছক বা লক্ষ্যে বেঁধে রেখে নিজের ওপর চাপ বাড়াতে রাজি নন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান, ‘কোনো ল্যান্ডমার্ক স্থির করতে চাইছি না। একটু একটু করে এগোতে চাই।’

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের বয়স ১০ বছরের বেশি। একটা সময় ছিলেন দলের সহ-অধিনায়ক। সেই দায়িত্বে এখন না থাকলেও খুলনা টাইটানসের মতো মাঝারি মানের দলকে নেতৃত্বগুণেই দুইবার বিপিএলের শেষ চারে তুলে আনায় ফের অধিনায়কত্বের আলোচনায় এসেছিল তাঁর নাম। টেস্ট দলে জায়গা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন, যে কারণে অংশীদার হওয়া হয়নি বাংলাদেশের শততম টেস্টে জয়ী দলে। খেলেননি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হোম সিরিজে, যেখানে স্টিভেন স্মিথের দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্লাইটে ঠিকই জায়গা হয় এবং সর্বাঙ্গীণ ব্যর্থতার সিরিজে দুটি টেস্টেই খেলে একটি হাফসেঞ্চুরি আছে তাঁর।

বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেঞ্চুরির ইনিংসগুলো বোঝায় ব্যাটসম্যান হিসেবে কতটা উঁচুদরের তিনি। অফস্পিন করতে পারা ব্যাটিং অলরাউন্ডারের তকমা খসিয়ে পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হিসেবেই যাঁর দ্যুতি, টেস্টে কেন তিনি খানিকটা নিষ্প্রভ; সে এক রহস্য। আবার টি-টোয়েন্টিতে বিপিএলের ধার খানিকটা উধাও লাল-সবুজে। এই যে আলো-ছায়ার খেলা তাঁকে ঘিরে, যেটা ক্যারিয়ারের অনেকটা সময়জুড়েই সঙ্গী; ২০১৮তে এগুলো কি পেছনে ফেলতে পারবেন মাহমুদ? নাকি এই মেঘ-রৌদ্র-ছায়ার খেলাতেই স্বস্তি পান তিনি। তবে মাহমুদ বোধ হয় এতটা জটিল করে ভাবেন না। তিনি বরং ছোট ছোট স্বপ্নের বুননে এগিয়ে যান চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে। এভাবে পথচলাতেই যে তাঁর আনন্দ।


মন্তব্য