kalerkantho


নেপালকে ফুটবল শেখাল মেয়েরা

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নেপালকে ফুটবল শেখাল মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মেয়েদের ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে বাংলাদেশকেই ফেভারিট ধরা হয়েছিল। সেই অবস্থানটাও যে কতটা দাপুটে তা কাল ধরা পড়ল নেপালের বিপক্ষে প্রথম খেলাতেই। নেপালি মেয়েদের এদিন একরকম ফুটবল শিখিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তহুরা আক্তারের হ্যাটট্রিকে ৬-০ গোলের বড় জয় নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে গোলাম রব্বানীর শিষ্যদের।

কোচ রব্বানী সেই ২০১০ থেকে মেয়েদের ফুটবলের সঙ্গে। সে বছর কক্সবাজারে বসেছিল প্রথম সাফ মহিলা ফুটবলের আসর। বাংলাদেশের সেই দলের কোচ ছিলেন তিনি। কক্সবাজার থেকে ২০১৭-এর কমলাপুর। সাত বছরে তাঁর চোখের সামনেই অথবা তাঁর হাত ধরেই আমূল বদলে গেছে মেয়েদের ফুটবল। কক্সবাজারে নেপালের কাছে হেরে ফাইনাল খেলতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। ওই বছর এসএ গেমস ফুটবলেও নেপালের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ পদক। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের মেয়েদের সীমা ওই তৃতীয় স্থানেই আটকে ছিল অনেক দিন। ২০১৪-তে প্রথম দৃশ্যপটের বদল। নেপালের মাটিতে নেপালকে হারিয়েই এএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে অনূর্ধ্ব-১৪ দল। ২০১১-তে বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। তারই সুফল ঘরে তোলে বয়সভিত্তিক জাতীয় দল। পরের বছর তাজিকিস্তানেও বাংলাদেশের মেয়েদের সেই দাপট। যে ভারত একসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল, তাদের মাটিতে নামিয়ে এনে শিরোপা জয়। ওই আসরেই নেপালের জালে ৯ গোল দিয়ে বিস্ময় উপহার দিয়েছিল তহুরারা। কাল দেশের মাটিতে সেই নেপালিদের ৬-০ গোলে হারানোয় তাই চমক নেই।

বাংলাদেশের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের নাটাইটা ছিল এদিন মনিকা চাকমার পায়ে। মাঝমাঠে থেকে ড্রিবল করা, দৃষ্টিনন্দন পাস বাড়ানো, বক্সেও হুমকি হয়ে ওঠা—খাগড়াছড়ির এই কিশোরী যেন পরিপূর্ণ প্যাকেজ। তহুরা হ্যাটট্রিক করার পরও তাই ম্যাচসেরা এই মনিকা। ১১ মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম গোলটাই তার। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শট নেপালি এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে গিয়েই ঢুকিয়ে দিয়েছে নিজের জালে। এর পরও দুটি শট লেগেছে তার ক্রসবারে। মনিকার নামের পাশে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার থাকলেও তাই গোল ওই একটিই। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা অনুচিং মারমা। ২ গোল করার পর কোচ উঠিয়ে না নিলে হ্যাটট্রিক হতে পারত তারও। ১১ মিনিটে নেপালি ডিফেন্ডারের আত্মঘাতী গোলে প্রথম এগিয়ে যাওয়ার পর অনুচিংই করে ২-০। কর্নার থেকে আঁখির হেড তার সামনে পড়তেই জোরালো শটে তা জালে পাঠিয়ে দিয়েছে অনুচিং। তহুরা ৩-০ করেছে একাই বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে তা জালে পাঠিয়ে। বিরতির আগেই তহুরার থ্রু পাস ধরে ব্যবধান ৪-০ করে অনুচিং।

বিরতির পর নেপাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে মরিয়া ফুটবল খেললেও স্বাগতিকদের বক্সের মুখে কোনোই হুমকিই হতে পারেনি। বাংলাদেশই একই রকম চাপ ধরে রাখে তাদের ওপর। ৪৭ মিনিটে অনুচিংয়ের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে সুযোগ কাজে লাগায় তহুরা, ৭১ মিনিটে পূরণ হয় তার হ্যাটট্রিক।



মন্তব্য