kalerkantho


স্মিথ-মার্শ : ব্যাটিং, ব্যাটিং, ব্যাটিং!

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্মিথ-মার্শ : ব্যাটিং, ব্যাটিং, ব্যাটিং!

পিছিয়ে ২০০ রানে, হাতে ৭ উইকেট। পার্থ টেস্টের তৃতীয় দিনে এখান থেকে যেকোনো কিছুই সম্ভব। স্টিভেন স্মিথের দল করল সম্ভাব্য সেরাটাই। অধিনায়ক স্মিথ অপরাজিত ক্যারিয়ার সেরা ২২৯ রানে। মিচেল মার্শ প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে অপেক্ষায় ডাবলের। তিনি আজ ব্যাট করতে নামবেন ১৮১ রানে। সারা দিন অস্ট্রেলিয়া উইকেট হারিয়েছে একটি আর স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৩৪৬ রান। সব মিলিয়ে তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ১৪৬ রানে। দাপুটে ২২৯-এ রেকর্ডের পাতাগুলো এলোমেলো করেছেন স্মিথ। মিচেল মার্শকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে গড়েছেন অবিচ্ছিন্ন ৩০১ রানের জুটিও। ইংল্যান্ডের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে স্বচ্ছন্দে খেলে যাওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের শিরোনাম, ‘স্মিথ-মার্শ : ব্যাটিং, ব্যাটিং, ব্যাটিং!’

এত দিন কোনো টেস্ট সেঞ্চুরি না পাওয়া মিচেল মার্শকে দলে নেওয়ায় কম সমালোচনা হয়নি। নিজের শহরে দুর্দান্ত ১৮১ রানে জবাবটা দিলেন এই মিডল অর্ডার। আর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবলে স্টিভেন স্মিথ তো নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য চূড়ায়। ১০৮ ইনিংসে টেস্ট ইতিহাসে এত দিন সবচেয়ে বেশি পাঁচ হাজার ৭৬৪ রানের রেকর্ড ছিল স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্সের। ১৯৬৮ সালে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির গড়া রেকর্ড স্মিথ ভাঙেন ২০৮ রানে অপরাজিত থাকার সময়। স্মিথের এত দিনের টেস্ট সেরা ইনিংস ছিল ২১৫। সেটা ছাড়িয়ে পার্থে অপরাজিত ২২৯ রানে। ৩৯০ বলে ২৮ বাউন্ডারি ১ ছক্কায় সাজিয়েছেন ইনিংসটা। আগের দিনের ৯২ রান নিয়ে খেলতে নেমে ২২তম সেঞ্চুরি করেন ১৩৮ বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটাই দ্রুততম সেঞ্চুরি স্মিথের। ১০৮তম ইনিংসে তৃতীয় দ্রুততম সময়ে ২২ টেস্ট সেঞ্চুরির কীর্তিটাও স্মিথের। ডন ব্র্যাডম্যান ৫৮ ও সুনীল গাভাস্কার ১০১ ইনিংসে করেছিলেন ২২ সেঞ্চুরি।

স্মিথের টেস্ট ব্যাটিং গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২.৮৯। অন্তত ২০ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৬১.৮৭ গড়ে এত দিন দুইয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ারই অ্যাডাম ভোজেস। ৯৯.৯৪ অবিশ্বাস্য গড় নিয়ে যথারীতি শীর্ষে ডন ব্র্যাডম্যান, যে চূড়ায় পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখা কঠিন যে কারো জন্য। গতকালের ডাবলে এ বছর এক হাজার টেস্ট রানও হয়ে গেল স্মিথের। টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চতুর্থ বছর এক হাজার রান করলেন স্মিথ। তাঁরই স্বদেশি ম্যাথু হেইডেন ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত এক হাজার রান করেছেন টানা পাঁচ বছর। টানা তিন বছর এক হাজার রানের কীর্তি রয়েছে ব্রায়ান লারা, মার্কাস ট্রেসকোথিক ও কেভিন পিটারসেনের।

আগের দিনের ৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে মঈন আলীর বলে স্লিপে জো রুটকে ক্যাচ দিয়ে শন মার্শ ফিরে যান ২৬ রানে। সারা দিনে ইংল্যান্ডের সাফল্য এই একটিই। শন মার্শের ভাই মিচেল মার্শ ২৩৪ বলে ২৯ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ১৮১ রানে। ইংল্যান্ডের চার বোলার ওভারটন, ওকস, ব্রড ও মঈন দিয়েছেন ১০০ রানের বেশি। জেমস অ্যান্ডারসনের খরচ ৮৫ রান। তিনিও ১০০ রান দিলে লজ্জার আরেকটি রেকর্ড হবে ইংল্যান্ডের। এক ইনিংসে পাঁচ বা বেশি বোলারের ১০০ রানের বেশি দেওয়ার নজির রয়েছে মাত্র সাতবার। এত হতাশার মাঝেও ইংল্যান্ড খুশি হতে পারে পার্থের আকাশের কালো মেঘ দেখে। বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে টেস্টের শেষ দুই দিন। এ জন্য হাত থেকে ফস্কে যাওয়া ম্যাচটি ড্র করার কথা ভাবতেই পারে জো রুটের দল। তাতে আর যা-ই হোক, ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জা নিয়ে নাও ফিরতে হতে পারে দেশে। ক্রিকইনফো

ইংল্যান্ড : ৪০৩।

অস্ট্রেলিয়া : ১৫২ ওভার ৫৪৯/৪ (স্মিথ ২২৯*, মার্শ ১৮১*, খাজা ৫০; ওভারটন ২/১০২, মঈন ১/১০৪)।


মন্তব্য