kalerkantho


ঢাকার ফুটবলে তারকা দর্শক

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকার ফুটবলে তারকা দর্শক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্স আলো করে বসে আছেন টেডি শেরিংহাম। চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী, সেই ফাইনালে গোল করা তারকা, ইংলিশ জার্সি গায়ে অ্যালান শিয়ারারের সঙ্গে দুর্ধর্ষ জুটি গড়া স্ট্রাইকার— দেশের শ্রীহীন ফুটবলে এমন একজন দর্শক পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার।

বলাবলি হচ্ছে দেশের ফুটবলে নতুন আবেদন নিয়ে এসেছে সাইফ স্পোর্টিং। তাদেরই রিক্রুট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংলিশ গ্রেট টেডি শেরিংহাম তনয় চার্লস শেরিংহাম। চার্লি জানিয়েছিলেন সুযোগ পেলেই বাবা ঢাকায় তাঁর খেলা দেখতে আসবেন। সেই সুযোগ শেরিংহাম এত তাড়াতাড়িই পেয়ে যাবেন, সত্যিই চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এই তারকার ঢাকায় পা পড়বে কে ভেবেছিল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে কাল ছেলের খেলা দেখছিলেন, মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচ সাইফের ম্যাচ, এমনিতেও আকর্ষণীয় লড়াই হওয়ার কথা। শুরুতেই ডি বক্সের সামনে বল পেয়ে চমৎকার একটা থ্রু পাস বাড়ালেন চার্লি ওয়েডসন আনসেলমের উদ্দেশে। সেই ছোঁয়ায় একটু কি উজ্জ্বল হলো শেরিংহামের চোখ, ফিরলেন নিজের সেই সময়ে! নাম্বার নাইন সেই অর্থে কখনো ছিলেন না, মূল স্ট্রাইকারের পেছনে থেকে গোল করা ও ফাইনাল পাস বাড়ানোয় ছিলেন ওস্তাদ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা শিয়ারারের সঙ্গে তাঁর জুটিটা জমে উঠেছিল সেই কারণে। টটেনহামে খেলেছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের সঙ্গে। জার্মান স্ট্রাইকারের চোখে শেরিংহাম ছিলেন তাঁর দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান স্ট্রাইক পার্টনার। যে কারণে ৩১ বছর বয়সে সবাই যখন শেরিংহামের ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছিলেন। তখনই ম্যানইউর হয়ে শুরু হয় তাঁর সবচেয়ে আলোকিত অধ্যায়। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দলে বেশির ভাগ সময়ই নেমেছেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে। সেই সামান্য সুযোগেই বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে করেছিলেন সমতা ফেরানো গোল, শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলটাও তাঁর অ্যাসিস্ট। গোল করেছেন ওই বছরই এফ কাপ ফাইনালে। ম্যানইউর ঘরের ছেলে না হয়েও ফার্গুসনের দলের ওই ট্রেবল জয়ে শেরিংহামও তাই ইতিহাস হয়ে আছেন। পরে রেড ডেভিলদের জার্সি গায়ে ‘পিএফএ প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ও হয়েছেন। সেখানে কোথায় শেরিংহাম তনয়। ইংল্যান্ডে পেশাদার, আধাপেশাদার দলে নানাভাবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেও পারেননি, অবশেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলছেন।

তবু বাবার চোখে ছেলের এই চেষ্টাটাই অনেক বড়, সে জন্য গর্বের কথাও বললেন, ‘আমার আর ওর তুলনা হয় না। সে যেখানে আছে ও এ পর্যন্ত যা করেছে, তা ভালোই করেছে আমার মনে হয়। বিশাল কিছু হয়তো করেনি; কিন্তু আমি বাবা হিসেবে তাকে নিয়ে গর্বিত। বাংলাদেশে খেলতে আসা সহজ কথা নয়, সে এ ঝুঁকিটা নিয়েছে—এটাও বড় ব্যাপার।’ শেরিংহাম নিজেও এখন উপমহাদেশে। ২০১৫ থেকে তিনি কোচিং শুরু করেছেন। তিনি এখন ভারতীয় সুপার লিগে অ্যাথলেটিকো ডি কলকাতার দায়িত্বে। সেখানে সময়টা যে খুব ভালো যাচ্ছে তা নয়, চার ম্যাচের মধ্যে এখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেননি। তবে তা নিয়ে তিনি খুব ভাবনায় আছেন মনে হলো না। সুপার লিগের দর্শক তাঁকে এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী করেছে, সময়টা তিনি বরং উপভোগ করছেন বলেই জানালেন। ম্যানইউতে এরিক কেন্টোনা চলে যাওয়ার পর দলে ঢুকেছিলেন। কোচ ফার্গুসনকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। এখন নিজে যখন কোচিংয়ে সেই ফার্গুসনকে মনে করেন নাকি সময়-অসময়েই, ‘হয়তো কোনো একটা পরিস্থিতিতে ভাবি তিনি হলে কিভাবে সামাল দিতেন, ঠিক কী করতেন—এটা মনের মধ্যে চলে আসেই। যেহেতু ওই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমি এসেছি।’ উপমহাদেশের ফুটবল তাঁর সেই অভিজ্ঞতা থেকে একেবারে ভিন্ন, সন্দেহ নেই। ‘তবে আইএসএলে বিদেশিরা খেলছে, তাতে লিগটা জমজমাট, ভারতীয় ফুটবলও তাতে উপকৃত হচ্ছে’ বলেই মত ৫১ বছর বয়সী সাবেক এই স্ট্রাইকারের। সাম্প্রতিক সময়ে ইংলিশ ফুটবলও কাটাচ্ছে দারুণ সময়, তাদের বয়সভিত্তিক দলগুলো সফল হচ্ছে, এবারের চ্যাম্পিয়ন ৫টি দল উঠে গেছে শেষ ষোলোতে। যদিও দেশ ও ক্লাব নিয়ে শেরিংহামের ভাবনাটা ভিন্ন, ‘তরুণদের সাফল্য অবশ্যই আশাবাদী করছে। তবে ক্লাবের সাফল্যে জাতীয় দলের কিছু হবে না। ক্লাবগুলোতে তো বিদেশি ফুটবলাররাই আধিপত্য করছে।’ আইএসএলে যেমন পাঁচজনের বিদেশি কোটা, সেটিই বরং তাঁর পছন্দ। একসময়ের সতীর্থ ক্লিন্সম্যান কোচিংয়েও এখন তারকা, সেই পথে শেরিংহামের এখনো বহুদূর। হতে পারে না, ছেলের মতো করে তিনিও একদিন এ দেশে কাজ করতেই এলেন! ইংলিশ কিংবদন্তি সম্ভাবনা কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেননি, ‘দুই বছর আগে ভারতে কাজ করব ভাবতে পেরেছি নাকি! পরের দুই বছরে কী হবে তাও তো জানি না।’ তবে ছেলের খেলা দেখতে ঢাকায় যে তাঁর আরো আসা হবে, সেটা বলেছেন কিন্তু জোর দিয়েই।



মন্তব্য