kalerkantho


অ্যাতলেতিকোর বিদায় বায়ার্নের প্রতিশোধ

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অ্যাতলেতিকোর বিদায় বায়ার্নের প্রতিশোধ

রূপকথা হলো না অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের। নকআউটে যেতে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জিততেই হতো।

আর প্রার্থনা করতে হতো রোমা যেন কারাবাগকে হারাতে না পারে। হয়নি কোনোটাই। চেলসির সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতায় মাঠ ছেড়েছে ডিয়েগো সিমিওনের দল। আর রোমা ১-০ গোলে কারাবাগকে হারিয়ে নিশ্চিত করে গ্রুপ ‘সি’র শীর্ষস্থান। নকআউটে এক পা দিয়ে রেখেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাস। পা পিছলায়নি শেষ পর্যন্ত। সিএসকেএ মস্কোকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’র চ্যাম্পিয়ন ম্যানইউ। বেনফিকার মাঠে ২-০ গোলের জয়ে এই গ্রুপের রানার্স-আপ বাসেল। বার্সেলোনা গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে স্পোর্তিংকে ২-০ গোলে হারিয়ে। একই ব্যবধানে অলিম্পিয়াকোসের মাঠে জিতে গ্রুপ ‘ডি’র রানার্স-আপ জুভেন্টাস। প্যারিসে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার প্রতিশোধ নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। তবে পিএসজিকে ৩-১ গোলে হারিয়েও গ্রুপ রানার্স-আপ তারা।

জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নামে গত চার বছরে দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। তাতে রক্ষণে ফাঁকফোকর পেয়ে বিরতির আগে তিন তিনটি সুযোগ নষ্ট করেন চেলসির আলভারো মোরাতা। ৫৬ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় অ্যাতলেতিকোই। কোকের নেওয়া কর্নার ফের্নান্দো তরেসের মাথা হয়ে ফাঁকায় পেয়েছিলেন সাউল নিগুয়েজ। সুযোগটা নষ্ট করেননি তিনি। ৭৫ মিনিটে স্টিফেন সাভিচের আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতা ফেরে ম্যাচে। এডেন হ্যাজার্ডের গোলমুখে বাড়ানো ক্রস তাঁর গায়ে লেগে জড়ায় জালে। গ্রুপের অপর ম্যাচে ডিয়েগো পেরোত্তির ৫৩ মিনিটের গোলে কারাবাগকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এএস রোমা।

রোমার পয়েন্ট ১১, চেলসির ১১, অ্যাতলেতিকোর ৭ আর কারাবাগের ২। পয়েন্ট সমান হলেও হেড টু হেডে এগিয়ে রোমা।   তাই চেলসি রানার্স-আপ হয়ে নকআউটে আর অ্যাতলেতিকো গ্রুপের তিন নম্বর দল হয়ে নেমে গেল ইউরোপায়। ২০১০ ও ২০১২ সালে ইউরোপের দ্বিতীয় মর্যাদার এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেখানে ভালো করাই এখন লক্ষ্য সিমিওনের, ‘এভাবে বাদ পড়া ফুটবলেরই অংশ। ব্যাপারটা কষ্টের কিন্তু কোনো অজুহাত নেই। নিজেদের দায়ী করতে পারি আমরা। এখন সামনে তাকাতে চাই। ইউরোপা নতুন চ্যালেঞ্জ হতে পারে আমাদের জন্য। ’ গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়ায় নকআউটে পিএসজি বা বার্সেলোনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী পেতে পারে চেলসি। এ জন্য ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেন না চেলসি কোচ আন্তোনিও কন্তে, ‘আমরা ম্যাচজুড়ে আক্রমণ করে গেছি। গোল হয়তো পাইনি। তবে এভাবে খেলে গোলের অসংখ্য সুযোগ পাওয়া সন্তুষ্টির। নকআউটে আমাদের বিপক্ষ হিসেবে পেয়ে খুশি হবে না কেউ। ’

আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে লিওনেল মেসিকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন আর্নেস্তো ভালভার্দে। পাসের ফোয়ারাকে শিল্পে পরিণত করার জাদুকর না থাকায় বিরতির আগে এক-তৃতীয়াংশ বলের দখল রেখেও একেঘেয়ে মনে হচ্ছিল বার্সাকে। ঘুম ভাঙে ৫৯ মিনিটে। ডেনিস সুয়ারেসের কর্নার থেকে নেওয়া হেডারে বার্সাকে এগিয়ে দেন পাকো আলকাসার। ৬২ মিনিটে মেসি নামার পর প্রাণ ফেরে বার্সার আক্রমণে। ৭৪ মিনিটে আন্দ্রে গোমেসের সঙ্গে বল আদান প্রদান করে অল্পের জন্য গোল পাননি আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ইনজুরি টাইমে বার্সারই সাবেক ডিফেন্ডার জেরেমি ম্যাথিউর আত্মঘাতী গোলে ২-০ ব্যবধানের জয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা। অপর ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে জুভেন্টাসের হয়ে ১৫ মিনিটে হুয়ান কাদ্রাদো ও ৮৯ মিনিটে লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন ফেদরিকো বেরনারদেসাই। বার্সেলোনা গ্রুপ পর্ব শেষ করল ১৪ পয়েন্ট নিয়ে। এ ছাড়া গ্রুপ ‘ডি’তে জুভেন্টাসের ১১, স্পোর্তিংয়ের ৭ ও অলিম্পিয়াকোসের পয়েন্ট ১। নকআউটে চেলসিকে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও নিরুদ্বেগ বার্সা কোচ এরনেস্তো ভালভার্দে, ‘আমরা যে কারো জন্য প্রস্তুত। ’

মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারোনা প্রতিশোধের আগুনে ফুটছিল শুরু থেকে। সেই ম্যাচে ৩-১ গোলের জয়ে পিএসজিকে মাটিতে নামিয়েছে বায়ার্ন। থোমাস ম্যুলারকে ছাড়া খেলতে নামা জার্মানরা অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যায় রবার্ত লেভানদোস্কির গোলে। অবশ্য পোলিশ এই ফরোয়ার্ডকে অফসাইড ভেবে পিএসজি ডিফেন্ডাররা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তখন। রিপ্লেতে দেখা গেছে দানি আলভেস ভেতরে দৌড়ে আসায় কোনোভাবে অফসাইড ছিলেন না লেভানদস্কি। এই ভুলের পর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানায় পিএসজি। ৩৩ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্রস থেকে অল্পের জন্য গোল পাননি নেইমার। উল্টো ৩৭ মিনিটে হামেস রোদ্রিগেসের ক্রসে বায়ার্নকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন করেন্তিন তোলিসো। ৫০ মিনিটে এদিনসন কাভানির চিপ থেকে ১ গোল ফেরান কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু ৬৯ মিনিটে ফরাসি তারকা তোলিসোর দ্বিতীয় গোলে জল পড়ে যায় সব উত্তেজনায়। শেষ ম্যাচে হারলেও হেড টু হেডে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজিই। এ জন্যই কোচ উনাই এমেরি বললেন, ‘আমি ৫০ শতাংশ খুশি আর ৫০ শতাংশ হতাশ। ’

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভিতিনহোর ৪৫ মিনিটের গোলে সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৬৪ মিনিটে রোমেলু লুকাকু সমতা ফেরানোর পর ৬৬ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয়ে গ্রুপ ‘এ’র চ্যাম্পিয়ন হোসে মরিনহোর দল। অপর ম্যাচে বেনফিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে রানার্স-আপ হয়ে নকআউটে এফসি বাসেল। ম্যানইউর পয়েন্ট ১৫, বাসেলের ১২, সিএসকেএর ৯ ও বেনফিকার ০। এএফপি


মন্তব্য