kalerkantho


কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে পাইবাসই

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে পাইবাসই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : খ্যাতিমান কোচদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাঁর দরজায় কড়া নাড়েনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০১১ সালে ভারতকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ গ্যারি কারস্টেন থেকে শুরু করে জন রাইট, স্টিফেন ফ্লেমিং ও জাস্টিন ল্যাঙ্গার—বাদ যাননি কেউই।

কিন্তু কারো কাছ থেকেই সাড়া মেলেনি। তাঁদের কেউই বাংলাদেশের হেড কোচ হতে আগ্রহ দেখাননি। যে বা যাঁরা দেখিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম রিচার্ড পাইবাস ঢাকায় এসে গতকাল বিসিবি কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরলেন তাঁর কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত।

সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে এর আগে সাড়ে চার মাসের জন্য বাংলাদেশের কোচ থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে বিসিবির তিক্ততার অতীতও। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সে বিষয়ে আলোচনার কথা স্বীকারও করলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে। তাঁকে এ ব্যাপারে প্রচুর প্রশ্নও করা হয়েছে। ’ জবাব কী পেয়েছেন, তা অবশ্য বলতে চাইলেন না তিনি, ‘এগুলো না বলাই ভালো। আমার মনে হয় বিগত বোর্ড নিয়ে কথা না বলাই ভালো। ’ আ হ ম মুস্তফা কামাল যখন বিসিবির সভাপতি, তখন চুক্তিতে সই না করেই কোচের দায়িত্ব পালন করে গেছেন পাইবাস।

সই না করার কারণ ছিল তাঁর চাহিদামতো ছুটির শর্ত চুক্তিতে উল্লিখিত না থাকায়। সেবার বছরে ৬০ দিনের ছুটি চেয়েছিলেন পাইবাস। চুক্তিতে বছরে মাত্র এক মাসের কথা উল্লিখিত থাকলেও চন্দিকা হাতুরাসিংহে যেভাবে প্রত্যেক সিরিজের আগে-পরে অবাধ ছুটি কাটিয়েছেন, তাতে এবার ইংলিশ বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের ছুটি বাড়িয়ে দিতেও বিসিবির আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে বিসিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। পাইবাসও নাকি জানিয়েছেন যে আগের মেয়াদে সন্তান ছোট থাকায় ঘন ঘন বাড়ি যাওয়ার তাগিদ ছিল তাঁর। এত দিনে সেই সন্তানও বড় হয়ে গেছে। তাই ছুটি নিয়ে আগের মতো গোঁয়ার্তুমি না করার আভাসও নাকি দিয়েছেন!

সেই সঙ্গে তুলে ধরেছেন বর্তমান অবস্থান থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরো সামনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও। ১৭ মাস পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আপাতত তাই এটিও বিসিবির অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা পাইবাসও বলেছেন। কোচ হিসেবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে তিনি কতটা সক্ষম হবেন, তাঁকে করা হয়েছিল সে প্রশ্নও। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় উপস্থিত বিসিবি পরিচালকদের একজনই শুনিয়েছেন পাইবাসের জবাবটি, ‘আমি ফল দিতে না পারলে আপনারা আমাকে কেন রাখবেন?’

দীর্ঘ মেয়াদে থাকার জন্য পাইবাস বাংলাদেশকে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের সাত থেকে পাঁচ আর টেস্টে নয় থেকে সাতে তুলে আনার লক্ষ্যও নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন বলে খবর। কয়েকজন পেসারের নাম ধরে ধরে যে আলোচনা করেছেন, তাতে বিসিবিও নিশ্চিত যে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিষয়ে তাঁর ধারণা বেশ স্বচ্ছ। পাশাপাশি তরুণ প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে পাইবাস ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। তাঁর সঙ্গে দুই ঘণ্টার আলোচনার পর বিসিবির অন্দরমহলের হাবভাব যা, তাতে মনে হতেই পারে যে হাতুরাসিংহের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন পাইবাসই।

যদিও বিসিবি সভাপতি কোচ নিয়োগের দিগন্ত খোলাই রাখতে চাইলেন, ‘৯ ডিসেম্বর আসবেন ফিল সিমন্স। এর আগে আরো একজনের আসার কথা। তাঁর নামটা বলছি না। যেহেতু ওই রকম নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি। ’ আবার সামনেই যেহেতু শ্রীলঙ্কা সিরিজ, তাই দ্রুত কোচ নিয়োগ করার তাড়াও আছে বিসিবির। নাজমুলও যেমন বললেন আর দিন চারেকের মধ্যেই তাঁরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতে চান, ‘আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে আমাদের। তবে তাঁদের এর মধ্যেই আসতে হবে (সাক্ষাৎকার দিতে)। কারণ ১০ ডিসেম্বর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা আছে। সেখানেই আমরা মোটামুটিভাবে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে চাইছি। ’

সবার আগে সাক্ষাৎকার দিয়ে যাওয়া পাইবাসের কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত আছে নাজমুলের কথায়ও, ‘পাইবাসের প্রেজেন্টেশন নিশ্চিতভাবেই ভালো। উনি একটু লম্বা সময়ের, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন। আমাদের তো এখন দুটোই দেখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি। সামনে বিশ্বকাপ আছে, সে কথাও আমাদের মনে রাখতে হবে। উনি যে রকম চান, এখনই হয়তো এর সবটা আমরা দিতে পারব না। কিন্তু ওনার পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের জন্য ভালোই হবে। ’ তা ছাড়া বিসিবি সভাপতি এ বিষয়েও নিশ্চিত যে, ‘পাইবাস কিন্তু উঁচুদরের কোচ এবং তাঁর সুনামও আছে। ’

অন্য কেউ সাক্ষাৎকার দিতে এসে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাই নতুন হেড কোচ নিয়োগের সম্ভাবনাটা পাইবাসের দিকেই ঝুলে থাকল।


মন্তব্য